ইলেকট্রিকের খরচ নিয়ে টেনশন শেষ! এই ৭ নিয়ম মানলেই এত কম টাকার বিল আসবে, নিজেরও বিশ্বাস হবে না
নিজস্ব সংবাদদাতা
১১ জুলাই ২০২৬ ১৫ : ২৯
শেয়ার করুন
1
10
প্রতি মাসে বিদ্যুতের বিল মেটাতে গিয়ে পকেটে টান পড়া এখন প্রতিটি মধ্যবিত্ত পরিবারের একটা বড় সমস্যা। বিশেষ করে গরমের সময়ে এসি, ফ্যান বা ফ্রিজ একটানা চলার কারণে বিলের অঙ্ক একলাফে অনেকখানি বেড়ে যায়।
2
10
অনেকেই ভাবেন, বিদ্যুৎ বিল কমানোর হয়তো কোনও উপায় নেই। কিন্তু আসলে আমাদের দৈনন্দিন কিছু ছোটখাটো ভুল অভ্যাস বদলে ফেললে এবং নিয়ম মানলে প্রতি মাসে কারেন্ট বিল এক ধাক্কায় অনেকটাই কমিয়ে আনা সম্ভব।
3
10
১. এসির তাপমাত্রা ২৪ ডিগ্রিতে রাখুনঃ গরম লাগলেই অনেকে এসি চালিয়ে তাপমাত্রা ১৬ বা ১৮ ডিগ্রিতে নামিয়ে দেন। এতে ঘর হয়তো দ্রুত ঠান্ডা হয়, কিন্তু এসির কম্প্রেসরের ওপর মারাত্মক চাপ পড়ে এবং হুহু করে বিদ্যুৎ খরচ হয়। বিশেষজ্ঞদের মতে, ঘরের জন্য সবচেয়ে আরামদায়ক এবং সাশ্রয়ী তাপমাত্রা হল ২৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস। আপনি যদি এসি ১৬-র বদলে ২৪ ডিগ্রিতে চালান, তবে প্রতি মাসেই বিদ্যুৎ বিল প্রায় ২০ থেকে ২৫ শতাংশ পর্যন্ত কম আসবে।
4
10
২. মেইন সুইচ বন্ধ করার অভ্যাসঃ আমরা অনেকেই রিমোট দিয়ে টিভি, সেট-টপ বক্স, এসি বা মিউজিক সিস্টেম বন্ধ করে দিই, কিন্তু দেওয়ালের মেইন প্লাগের সুইচটি বন্ধ করি না। বিজ্ঞানের ভাষায় একে বলা হয় ‘ফ্যান্টম লোড’ বা ‘ভ্যাম্পায়ার পাওয়ার’। রিমোট দিয়ে বন্ধ করার পরেও যন্ত্রগুলো ভেতরে ভেতরে কিছুটা বিদ্যুৎ টানতে থাকে। তাই কাজ শেষ হওয়ার পর মেইন সুইচটি বন্ধ করার অভ্যাস করুন। এতে প্রতি মাসে বেশ কিছু ইউনিট বেঁচে যাবে।
5
10
৩. এলইডি লাইট ব্যবহার করুনঃ আপনার বাড়িতে যদি এখনও পুরোনো দিনের হলুদ ফিলামেন্ট বাল্ব বা টিউবলাইট থাকে, তবে আজই সেগুলো বদলে ফেলুন। এর জায়গায় ভাল কোম্পানির এলইডি বাল্ব ব্যবহার করুন। একটি সাধারণ বাল্ব যে পরিমাণ বিদ্যুৎ টানে, একটি এলইডি লাইট তার চেয়ে প্রায় ৮০ শতাংশ কম বিদ্যুৎ খরচ করে। এছাড়া এলইডি আলো চোখের জন্যও ভাল এবং এগুলো অনেক বছর পর্যন্ত টিকে থাকে।
6
10
৪. ফাইভ-স্টার রেটিংযুক্ত যন্ত্রপাতি কিনুনঃ বাজার থেকে যখনই কোনও নতুন ফ্রিজ, এসি, গিজার বা ওয়াশিং মেশিন কিনবেন, তখন সেটির গায়ের 'স্টার লেবেল' বা রেটিং অবশ্যই দেখে নেবেন। ১ থেকে ৫ পর্যন্ত এই স্টার রেটিং দেওয়া থাকে। যে যন্ত্রের স্টার রেটিং যত বেশি (যেমন ৫ স্টার), সেটি চালাতে তত কম বিদ্যুৎ খরচ হয়। ইনভার্টার প্রযুক্তিসম্পন্ন এবং হাই-স্টার রেটিংয়ের যন্ত্রপাতি একটু দামি হলেও দীর্ঘমেয়াদে আপনার হাজার হাজার টাকার বিদ্যুৎ বিল বাঁচিয়ে দেবে।
7
10
৫. ফ্রিজ ব্যবহারের সঠিক নিয়মঃ ফ্রিজ চব্বিশ ঘণ্টাই চলে, তাই ফ্রিজের সঠিক যত্ন না নিলে বিল বেশি আসতে বাধ্য। ফ্রিজ কখনও দেওয়ালের সঙ্গে একেবারে ঠেস দিয়ে রাখবেন না, পেছনের দিকে অন্তত ৬ ইঞ্চি জায়গা ফাঁকা রাখুন যাতে গরম হাওয়া সহজে বের হতে পারে।
8
10
কোনও গরম খাবার সরাসরি ফ্রিজে ঢুকিয়ে দেবেন না। খাবার পুরোপুরি ঠান্ডা হলে তবেই ফ্রিজে রাখুন। ফ্রিজের দরজা অপ্রয়োজনে বারবার খুলবেন না বা বেশিক্ষণ খোলা রাখবেন না। এতে ভেতরের ঠান্ডা হাওয়া বের হয়ে যায় এবং ফ্রিজকে আবার নতুন করে ঠান্ডা করতে বেশি বিদ্যুৎ খরচ করতে হয়।
9
10
৬. ওয়াশিং মেশিন প্রতিদিন না চালানোঃ অনেকেরই অভ্যাস থাকে প্রতিদিন অল্প অল্প করে দু-চারটে কাপড় ওয়াশিং মেশিনে কাচার। এতে মেশিনের মোটর প্রতিদিন ঘোরে এবং বেশি বিদ্যুৎ অপচয় হয়। তার চেয়ে বরং সপ্তাহে দুই বা তিন দিন কাপড়ের পরিমাণ জমিয়ে, মেশিনের ফুল লোড ক্ষমতা অনুযায়ী একবারে কাচুন। এছাড়া কাপড় শুকানোর জন্য মেশিনের ড্রায়ার ব্যবহার না করে ছাদে বা ব্যালকনিতে রোদে শুকিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করুন।
10
10
৭. প্রাকৃতিক আলো-বাতাসের সঠিক ব্যবহারঃ দিনের বেলা ঘরের সব জানালা বন্ধ করে লাইট-ফ্যান চালিয়ে রাখার কোনও মানে হয় না। সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত ঘরের জানালাগুলো খোলা রাখুন যাতে প্রাকৃতিক আলো ও হাওয়া অনায়াসে ঢুকতে পারে। ঘর অন্ধকার না থাকলে বাড়তি লাইট জ্বালানোর প্রয়োজন পড়বে না। এছাড়া বাড়ির চারপাশে ও বারান্দায় গাছপালা লাগালে ঘর প্রাকৃতিকভাবেই অনেকটা ঠান্ডা থাকে, যার ফলে এসি বা কুলার কম চালালেও চলে।