ডায়াবেটিস ও স্থূলতা আজ বিশ্বজুড়ে দ্রুত বাড়তে থাকা স্বাস্থ্য সমস্যাগুলির মধ্যে অন্যতম। সাধারণত ডায়াবেটিস নির্ণয়ের জন্য রক্ত পরীক্ষা করতে হয়। তবে গবেষকরা এবার এমন একটি নতুন পদ্ধতির খোঁজ পেয়েছেন, যেখানে শুধু লালারস (Saliva) পরীক্ষা করেই ডায়াবেটিস ও স্থূলতার ঝুঁকির আগাম ইঙ্গিত পাওয়া যেতে পারে। সবচেয়ে বড় সুবিধা হল, এতে সূঁচ ফোটানোর প্রয়োজন নেই এবং পরীক্ষাটি সম্পূর্ণ ব্যথাহীন।
গবেষণায় বিজ্ঞানীরা লালারসে উপস্থিত ইনসুলিনের মাত্রা বিশ্লেষণ করেছেন। এতদিন মনে করা হতো, ইনসুলিন পরিমাপের জন্য রক্তের নমুনাই সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য। কিন্তু নতুন গবেষণায় দেখা গেছে, লালারসেও ইনসুলিনের উপস্থিতি শরীরের বিপাকীয় (Metabolic) স্বাস্থ্যের গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিতে পারে। এর মাধ্যমে ডায়াবেটিস বা স্থূলতার ঝুঁকি অনেক আগে থেকেই চিহ্নিত করা সম্ভব হতে পারে।
গবেষকদের মতে, এই পরীক্ষা বিশেষ করে শিশু, বয়স্ক ব্যক্তি এবং যাঁদের বারবার রক্ত পরীক্ষা করতে অসুবিধা হয়, তাঁদের জন্য অত্যন্ত উপকারী হতে পারে। কারণ লালারস সংগ্রহ করা সহজ, নিরাপদ এবং ব্যথাহীন। ফলে নিয়মিত স্বাস্থ্য পর্যবেক্ষণও অনেক সহজ হয়ে যাবে।
বিশেষজ্ঞদের দাবি, শরীরে ইনসুলিনের ভারসাম্য নষ্ট হতে শুরু করলে অনেক সময় রক্তে শর্করার মাত্রা বাড়ার আগেই তার কিছু পরিবর্তনের ইঙ্গিত পাওয়া যায়। যদি লালারসের মাধ্যমে সেই পরিবর্তন ধরা সম্ভব হয়, তাহলে জীবনযাত্রায় পরিবর্তন, খাদ্যাভ্যাস নিয়ন্ত্রণ এবং চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে ডায়াবেটিসের ঝুঁকি অনেকটাই কমানো যেতে পারে।
তবে গবেষকরা স্পষ্ট জানিয়েছেন, এই প্রযুক্তি এখনও গবেষণার পর্যায়ে রয়েছে। এটি এখনই প্রচলিত রক্ত পরীক্ষার বিকল্প নয়। আরও বড় পরিসরে গবেষণা এবং ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালের পরই বোঝা যাবে, ভবিষ্যতে এই পদ্ধতি সাধারণ মানুষের জন্য কতটা কার্যকর ও নির্ভরযোগ্য হবে।
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, ডায়াবেটিস প্রতিরোধের ক্ষেত্রে দ্রুত শনাক্তকরণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাই ব্যথাহীন, সহজ এবং দ্রুত পরীক্ষার এমন প্রযুক্তি ভবিষ্যতে স্বাস্থ্য পরিষেবায় বড় পরিবর্তন আনতে পারে। যদি এই গবেষণা সফল হয়, তাহলে একদিন হয়তো শুধু সামান্য লালারসের নমুনা দিয়েই ডায়াবেটিস ও স্থূলতার ঝুঁকি সম্পর্কে আগাম সতর্ক হওয়া সম্ভব হবে। এটি রোগ নির্ণয়কে আরও সহজ, সাশ্রয়ী এবং মানুষের কাছে গ্রহণযোগ্য করে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
















