ধ্যান বা মেডিটেশন মানসিক শান্তি, একাগ্রতা এবং আত্মসচেতনতা বাড়ানোর অন্যতম কার্যকর উপায়। তবে অনেকেই অভিযোগ করেন, ধ্যান করতে বসলেই মন এদিক-ওদিক ছুটে বেড়ায়। এই সমস্যার সমাধানেই নতুনদের জন্য দুটি সহজ কিন্তু কার্যকর পরামর্শ দিয়েছেন তিব্বতের আধ্যাত্মিক গুরু দলাই লামা।

 তাঁর মতে, ধ্যানের মূল উদ্দেশ্য মনকে জোর করে থামিয়ে দেওয়া নয়, বরং ধীরে ধীরে তাকে স্থির হতে শেখানো।
দলাই লামার প্রথম পরামর্শ হল শ্বাস-প্রশ্বাসের উপর সম্পূর্ণ মনোযোগ দেওয়া। ধ্যান শুরু করার সময় আরামদায়ক ভঙ্গিতে বসুন এবং চোখ আলতো করে বন্ধ করুন। এরপর নিজের স্বাভাবিক শ্বাস নেওয়া ও ছাড়ার প্রক্রিয়ার দিকে মন দিন।

দলাই লামার পরামর্শ, শ্বাসের গতি জোর করে বদলানোর চেষ্টা করবেন না। শুধু অনুভব করুন বাতাস কীভাবে শরীরে প্রবেশ করছে এবং বেরিয়ে যাচ্ছে। মন অন্য কোনও চিন্তায় চলে গেলে বিরক্ত না হয়ে আবার ধীরে ধীরে শ্বাসের দিকে মন ফিরিয়ে আনুন। এই অভ্যাসই ধীরে ধীরে একাগ্রতা বাড়াতে সাহায্য করবে।

দ্বিতীয় গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শ হল মনের মধ্যে আসা চিন্তাগুলিকে আটকে রাখার চেষ্টা না করা। অনেকেই মনে করেন ধ্যান মানেই সব চিন্তা বন্ধ করে দিতে হবে। কিন্তু দালাই লামার মতে, চিন্তা আসা স্বাভাবিক। সেগুলিকে জোর করে দূরে ঠেলার চেষ্টা না করে, একজন দর্শকের মতো পর্যবেক্ষণ করুন। যেমন আকাশে মেঘ ভেসে যায়, তেমনই চিন্তাগুলিকেও আসতে ও চলে যেতে দিন। এতে মন অকারণে অস্থির হবে না এবং ধীরে ধীরে শান্ত হতে শুরু করবে।

নতুনদের জন্য দালাই লামা আরও পরামর্শ দিয়েছেন, প্রথম থেকেই দীর্ঘ সময় ধ্যান করার চেষ্টা না করে প্রতিদিন মাত্র ৫ থেকে ১০ মিনিট দিয়ে শুরু করতে। প্রতিদিন একই সময়ে ধ্যানের অভ্যাস তৈরি করলে মনও সেই ছন্দে অভ্যস্ত হয়ে যায়। পাশাপাশি এমন একটি নিরিবিলি জায়গা বেছে নেওয়া উচিত, যেখানে বাইরের শব্দ বা অন্য কোনও বাধা কম থাকবে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, নিয়মিত ধ্যান করলে শুধু মানসিক চাপ কমে না, বরং মনোযোগ, স্মৃতিশক্তি এবং আবেগ নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতাও বাড়তে পারে। তাই ধ্যানের সময় মন বারবার অন্যদিকে চলে গেলেও হতাশ হওয়ার কোনও কারণ নেই। দালাই লামার কথায়, ধ্যান একটি অনুশীলন। ধৈর্য ধরে প্রতিদিন অভ্যাস চালিয়ে গেলে ধীরে ধীরে মনকে নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব। এই দুই সহজ কৌশল মেনে চললেই নতুনরাও ধ্যানের মাধ্যমে মানসিক শান্তি ও একাগ্রতার সুফল অনুভব করতে পারবেন।