পুরনো দিল্লি যেন জীবন্ত ইতিহাস বা ইতিহাসের দলিল। কত ঘটনারই না সাক্ষী এই শহরটা। তাই তো এখানে গেলেই অতীত যেন ফিসফিস করে কথা বলছে। বিশেষ করে এই জায়গাগুলোর নাম, যেমন লাহোরি গেট, দিল্লি গেট, আজমেরী, গেট, কাশ্মীরি গেট, ইত্যাদি। যখন দেশভাগ হয়নি, এ দেশ থেকে পড়শি দেশ পাকিস্তানে যাওয়ার জন্য পাসপোর্ট ছাড়াও অন্যান্য কড়াকড়ির বালাই ছিল না সেই সময় মুঘলরা এই গেটগুলো নির্মাণ করেছিল। এই গেটগুলো বাস্তবে যেমন দিল্লি নিবাসীদের কাছে দিক বোঝায়, মুঘলরাও একই কারণে এগুলো নির্মাণ করেছিল। এই গেটগুলো কেবল নাম করার জন্য নাম দেওয়া হয়নি, বরং ভূগোল তথা দিক নির্ণয়ের জন্যই এমন নামকরণ করা। 

শাহজাহানের লালকেল্লা ১৭ শতকের মাঝামাঝি সময় নির্মাণ করা হয়েছিল। এটি দিল্লির সপ্তম শহর শাহাজাহানাবাদকে কেন্দ্র করে নির্মাণ করা হয়। এর গেটগুলো সাম্রাজ্যে বাইরের দিক বোঝায়, এবং গেট দিয়ে প্রবেশ করলেই মুঘল সাম্রাজ্যে ঢুকে পড়া যেত। এর লাহোরি গেট রয়েছে দিল্লির লালকেল্লায়, যেখানে ভারতের জাতীয় পতাকা গোটা বছর স্বমহিমায় উড়তে থাকে। অন্যদিকে পাকিস্তানের লাহোরে রয়েছে দিল্লি গেট। 
মুঘল শহরগুলো যেন জীবন্ত অ্যাটলাস ছিল। এই গেটগুলো জরুরি শহরগুলোকে পয়েন্ট করে বনানী হতো। বা কখনও কখনও বাণিজ্যিক রুট বা রাজনৈতিক কেন্দ্রকে পয়েন্ট করে। মুঘলরা লাহোরকে সম্রাজ্যের সর্বোচ্চ দামী জায়গা বলে মো করত। সেখান থেকে যে গেট দিয়ে দিল্লি পৌঁছানো যেত, সেটাকে দিল্লি গেট নামকরণ করা হয়। 

তবে মুঘলরা যে এটাকে চালু করেছিল সেটা নয়। তুঘলকরাও করত। এমন বড় বড় শহর বানিয়ে তার গেটগুলোকে এমন নাম দিত যেখানে দিয়ে কোনও নির্দিষ্ট গন্তব্য, নদী বা অন্যত্র যাওয়া যায়। মুঘলরা সেটাকে শিল্পের পর্যায়ে পৌঁছে দিয়েছিল। 

লালকেল্লার লাহোরি গেট পশ্চিম দিকে রয়েছে লাহোরের দিকে মুখ করে তাই এমন নাম। যদিও আসল গেটটি ১৮৫৭ সালে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ব্রিটিশরা সেটাকে সারাই করে এবং এর ডিফেন্সিভ জিনিসপত্র বদলে দেয়। 
লাহোরে থাকা দিল্লি গেট লালকেল্লার গুরুত্বপূর্ণ গেট। এই গেট দিয়ে সেনা, কর্মী, অন্যান্যরা শহরে আসত। এখানে আগে মার্বেলের হাতি ছিল। কিন্তু ব্রিটিশরা এসে সেটা সরিয়ে দেয়।