আজকাল বাড়ি, অফিস, শোরুম, গ্যারেজ এমনকী হাসপাতাল বা কারখানাতেও যে ধরনের মেঝে সবচেয়ে বেশি ব্যবহার হচ্ছে, তার মধ্যে ইপোক্সি ফ্লোরিং অন্যতম। দেখতে চকচকে, মজবুত এবং দীর্ঘদিন টেকসই হওয়ার কারণে এই ফ্লোরিং ধীরে ধীরে সাধারণ টাইলস বা মার্বেলের বিকল্প হয়ে উঠছে। সহজভাবে বললে, ইপোক্সি ফ্লোরিং হল এক ধরনের বিশেষ কেমিক্যাল কোটিং, যা কংক্রিট বা সিমেন্টের মেঝের ওপর দেওয়া হয়। 

ইপোক্সি ফ্লোরিং তৈরি হয় ইপোক্সি রেজিন এবং হার্ডনার নামের দুই উপাদান মিশিয়ে। এই দুটি উপাদান একসঙ্গে মিশে শক্ত হয়ে একটি পুরু ও মসৃণ স্তর তৈরি করে, যা মেঝেকে অনেক বেশি শক্ত ও টেকসই করে তোলে।

ইপোক্সি ফ্লোরিংয়ের সবচেয়ে বড় বৈশিষ্ট্য হল-এতে কোনও ফাঁক বা জয়েন্ট থাকে না। ফলে ধুলো, ময়লা বা জীবাণু জমার সুযোগ কম থাকে। এই কারণে হাসপাতাল, ল্যাব বা খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ ইউনিটে ইপোক্সি ফ্লোরিং বেশি ব্যবহার করা হয়।

এই ধরনের মেঝে খুব সহজে পরিষ্কার করা যায়। সামান্য জল বা মপ দিয়েই মেঝে ঝকঝকে রাখা সম্ভব। তেল, গ্রিজ, রাসায়নিক তরল পড়লেও সহজে দাগ পড়ে না। তাই গ্যারেজ বা কারখানার মতো জায়গার জন্য এটি আদর্শ।

ইপোক্সি ফ্লোরিং শুধু শক্তই নয়, দেখতেও খুব সুন্দর। এটি নানা রং, ডিজাইন ও প্যাটার্নে পাওয়া যায়। চাইলে একেবারে সাদামাটা, আবার চাইলে মার্বেলের মতো চকচকে লুকও দেওয়া যায়। আধুনিক বাড়ির ড্রইংরুম বা বেসমেন্টেও তাই অনেকে এই ফ্লোরিং বেছে নিচ্ছেন।

এই ফ্লোরিংয়ের আরও একটি বড় সুবিধা হল এর দীর্ঘস্থায়িত্ব। একবার ঠিকভাবে বসালে ১০-১৫ বছর বা তারও বেশি সময় ভাল থাকে। ভারী জিনিস পড়লেও সহজে ফাটে না বা ক্ষতিগ্রস্ত হয় না।

ই-পোক্সি ফ্লোরিংয়ের খরচ মেঝের ধরন, জায়গার আয়তন, ব্যবহৃত উপকরণ ও ডিজাইনের ওপর ভিত্তি করে কমবেশি হয়। ভারতে সাধারণভাবে ই-পোক্সি ফ্লোরিংয়ের খরচ হতে পারে প্রতি বর্গফুট প্রায় ৬০ থেকে ১০০ টাকা, সেল্ফ-লেভেলিং বা গ্লসি ফিনিশের জন্য প্রতি বর্গফুট প্রায় ১০০ থেকে ১৫০ টাকা, ডিজাইনার বা থ্রি-ডি ই-পোক্সি ফ্লোরিং-এ প্রতি বর্গফুট প্রায় ১৫০ থেকে ৩০০ টাকা বা তার বেশি। এই খরচের মধ্যে সাধারণত উপকরণ ও শ্রম খরচ ধরা থাকে, তবে কিছু ক্ষেত্রে আলাদা চার্জও যোগ হতে পারে।

কোন কোন কারণে খরচ বাড়ে বা কমে? পুরনো মেঝে খুব খারাপ হলে আগে তা ঠিক করতে হয়, এতে খরচ বাড়ে। বড় জায়গায় একসঙ্গে কাজ করলে প্রতি বর্গফুট খরচ কিছুটা কম হতে পারে। উচ্চমানের ও মোটা কোটিং বেশি টেকসই হলেও খরচ বেশি হয়। সাধারণ একরঙা ফ্লোরিং তুলনামূলক সস্তা, কিন্তু বিশেষ ডিজাইন বা থ্রি-ডি লুক চাইলে খরচ বাড়ে। নিরাপত্তার জন্য বাড়তি কোটিং করলে অতিরিক্ত টাকা লাগে।

তবে কিছু বিষয় মাথায় রাখা জরুরি। যেমন ইপোক্সি ফ্লোরিং বসানোর আগে মেঝে একদম পরিষ্কার ও শুকনো হওয়া দরকার। কাজটি দক্ষ লোক দিয়ে করানো ভাল। আর ভেজা অবস্থায় এটি কিছুটা পিচ্ছিল হতে পারে, তাই প্রয়োজনে অ্যান্টি-স্লিপ কোটিং ব্যবহার করা উচিত।