চুল পড়া এখন শুধু বয়সজনিত সমস্যা নয়। অল্প বয়স থেকেই এখন চুল পড়া, চুল পাতলা হয়ে যাওয়া বা টাক পড়ার সমস্যায় ভুগছেন অনেকে। বাজারে নানা ওষুধ ও প্রসাধনী থাকলেও সেগুলোর পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া নিয়ে রয়েছে উদ্বেগ। এমন পরিস্থিতিতে সাম্প্রতিক এক গবেষণা নতুন আশার ইঙ্গিত দিয়েছে। গবেষণায় দাবি করা হয়েছে, একটি প্রাচীন ঔষধি মূল চুল পড়া কমাতে এবং নতুন চুল গজাতে সাহায্য করতে পারে।

গবেষণা অনুযায়ী, এই ভেষজ মূলটির নাম পলিগোনাম মাল্টিফ্লোরাম। এটি হাজার বছর ধরে চীনের প্রাচীন চিকিৎসা পদ্ধতিতে ব্যবহার হয়ে আসছে। ঐতিহ্যগতভাবে বিশ্বাস করা হয়, এই মূল চুল ঘন করতে, চুলের রং গাঢ় রাখতে এবং চুল পড়া কমাতে কার্যকর।

আধুনিক বিজ্ঞানীরা এই ভেষজ মূলটি নিয়ে গবেষণা করে দেখেছেন, এর মধ্যে থাকা কিছু প্রাকৃতিক উপাদান চুলের গোড়া বা ফলিকলকে সক্রিয় করতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, চুল পড়ার অন্যতম বড় কারণ হল ফলিকলের দুর্বল হয়ে যাওয়া। এই ভেষজ উপাদান ফলিকলের শক্তি বাড়াতে সাহায্য করতে পারে।

গবেষণায় আরও জানা গিয়েছে, এই মূল শরীরে এমন কিছু হরমোনের প্রভাব কমাতে পারে, যেগুলো চুল পড়ার জন্য দায়ী। পাশাপাশি এটি মাথার ত্বকে রক্ত সঞ্চালন বাড়াতে সাহায্য করে। ফলে চুলের গোড়ায় বেশি পুষ্টি ও অক্সিজেন পৌঁছয়, যা নতুন চুল গজানোর পক্ষে সহায়ক।

তবে গবেষকরা স্পষ্ট করেছেন, এই গবেষণা এখনও প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে। এখনও বড় আকারে মানুষের ওপর পরীক্ষা করা হয়নি। তাই এখনই একে চুল পড়ার নিশ্চিত চিকিৎসা বলা যাচ্ছে না। আরও গবেষণা ও ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালের প্রয়োজন রয়েছে।

চিকিৎসকদের মতে, ভবিষ্যতে এই ভেষজ মূল থেকে তৈরি তেল, সিরাম বা ওষুধ চুল পড়ার চিকিৎসায় প্রাকৃতিক বিকল্প হিসেবে ব্যবহার করা যেতে পারে। তবে নিজের ইচ্ছেমতো এই ভেষজ বা এর কোনও প্রোডাক্ট ব্যবহার করা উচিত নয়। আগে অবশ্যই চর্মরোগ বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।