'শত হলেও মা তো!' নেটপাড়া জুড়ে এখন এই একটাই কথা ঘুরপাক খাচ্ছেন। সঙ্গে একটি মর্মান্তিক ছবি। গত বৃহস্পতিবার, ৩০ এপ্রিল বর্গি ড্যামে নৌকা চড়তে গিয়ে লহমায় শেষ হয়ে গিয়েছে একটি গোটা পরিবার। নর্মদা নদীর উপর এই বাঁধে নৌকাডুবির ঘটনায় দিল্লির একটি পরিবারের ২ জন প্রাণ হারিয়েছেন। এই ঘটনার একাধিক ছবি প্রকাশ্যে এলেও নজর কেড়েছে একটি নির্দিষ্ট ছবি। সেখানে দেখা যাচ্ছে প্রাণ নেই শরীরে, তবুও সন্তানকে আঁকড়ে ধরে রয়েছেন মা। মৃত্যুও যেন আলাদা করতে পারেনি দু'জনকে।
শুক্রবার, ১ মে মধ্যপ্রদেশের জবলপুরের এই ড্যামে নামে উদ্ধারকারী দল। আগ্রা থেকে আসা ডাইভিং টিম মৃতদেহগুলো উদ্ধার করতে গিয়ে এমন একটা দৃশ্য দেখেন যা দেখে স্তম্ভিত হয়ে যান তাঁরা। একটি জানালার কাছ থেকে একজন মহিলার দেহ উদ্ধার করেছেন তাঁরা। না, তিনি একা ছিলেন না। তিনি তাঁর বুকের সঙ্গে আঁকড়ে ধর ছিলেন আদরের সন্তানকে। আইরনি কী জানেন? উদ্ধারকারী দল যখন তাঁদের দু'জনকে আলাদা করার চেষ্টা করেন পারেন না। সেই মহিলা এতটাই শক্ত করে সন্তানকে ধরে ছিলেন যে মৃত্যু কোনও ভাবে তাঁদের দু'জনকে আলাদা করতে পারেনি। উদ্ধারকারী দলকে রীতিমত সমস্যায় পড়তে হয়েছিল তাঁদের দেহকে ওখান থেকে বের করতে গিয়ে।
দুর্ঘটনাটি ঘটার প্রায় ১২ ঘণ্টা পর উদ্ধারকারী দল ওখানে যায়। দুর্ঘটনা, মৃত্যুর পরও এতক্ষণ সন্তানকে বুকের কাছে আগলে রেখেছিলেন এই মহিলা। তাঁদের সেই ছবি এবং ভিডিও সমাজমাধ্যমে ভাইরাল হতেই বাক্যহারা হয়ে গিয়েছে নেটপাড়া। কেউ লিখেছেন, 'মা তো এমনই হয়।' আরও এক ব্যক্তি লেখেন, 'শত হলেও মা তো! সন্তানকে আগলে তো রাখবেই।' এই ছবি দেখে মন ভারাক্রান্ত নেটপাড়ার।
https://www.instagram.com/reels/DXzC2knPqh6/
এই বিষয়ে জানিয়ে রাখা ভাল, দিল্লি থেকে এই পরিবার ছুটি কাটাতে এসেছিল। বৃহস্পতিবার বিকেল ৫টা নগদ ট্যুরিজম ডিপার্টমেন্টের একটি নৌকায় ওঠেন তাঁরা। হঠাৎ ঝড়ে নৌকা উল্টে গেলে প্রাণ হারান অনেকেই। ২৮ জনকে উদ্ধার করে গেলেও, ৯ জনের মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। জানা গিয়েছে ৪ জন নিখোঁজ। নৌকায় ৪৩ থেকে ৪৭ জন মতো ছিলেন বলেই জানা গিয়েছে।
প্রয়াত মহিলা এবং তাঁর সন্তানের নাম মেরিনা ম্যাসি এবং তৃষান। ছেলেটির বয়স মাত্র ৪ বছর। লাইফ জ্যাকেট পরেছিলেন তারপরও প্রাণে বাঁচতে পারেননি। যদিও মেরিনার স্বামী প্রদীপ এবং মেয়ে সিয়া কোনও মতে বেঁচে গিয়েছেন।















