ত্বকের বয়স বাড়া একেবারেই স্বাভাবিক বিষয়। কিন্তু কিছু সহজ অভ্যাস যদি রোজের জীবনে মেনে চলা যায়, তাহলে ত্বক অনেক দিন পর্যন্ত তরুণ ও সতেজ রাখা সম্ভব। খুব কঠিন কিছু নয়, দৈনন্দিন ছোট ছোট পরিবর্তনই এখানে সবচেয়ে বড় ভূমিকা নেয়।


প্রথমেই বলা দরকার সানস্ক্রিনের কথা। অনেকেই ভাবেন শুধু রোদে বেরলেই সানস্ক্রিন দরকার, কিন্তু আসলে তা নয়। সূর্যের ক্ষতিকর রশ্মি ঘরেও ত্বকের ক্ষতি করতে পারে। তাই প্রতিদিন বাইরে বেরোন বা না বেরোন, এসপিএফ ৩০ বা তার বেশি সানস্ক্রিন ব্যবহার করা ভাল। এতে ত্বকে দাগ, বলিরেখা ও ট্যান পড়া অনেকটাই কমে।


দ্বিতীয় গুরুত্বপূর্ণ অভ্যাস হল শরীরকে ভেতর থেকে হাইড্রেট রাখা। অর্থাৎ দিনে পর্যাপ্ত জল পান করা খুব জরুরি। পাশাপাশি ভাল ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করলে ত্বক শুকিয়ে যায় না। ত্বক যত বেশি আর্দ্র থাকবে, ততই তা নরম ও টানটান দেখাবে।


ভাল ঘুমের কোনও বিকল্প নেই। প্রতিদিন ৭ থেকে ৮ ঘণ্টা ঘুম হলে ত্বক নিজে থেকেই পুর্নজ্জীবিত হয়। ঘুম কম হলে চোখের নীচে কালি পড়ে, মুখ নিস্তেজ লাগে এবং ত্বক দ্রুত বুড়িয়ে যায়। তাই নিয়মিত ঘুম খুবই প্রয়োজন।


আরও অভ্যাস হল স্কিনকেয়ার রুটিনকে সহজ রাখা। অনেকেই নানা ধরনের প্রোডাক্ট একসঙ্গে ব্যবহার করেন, যা ত্বকের ক্ষতি করতে পারে। তার বদলে ক্লিনজার, ময়েশ্চারাইজার আর সানস্ক্রিন-এই তিনটি জিনিস নিয়মিত ব্যবহার করলেই যথেষ্ট। এতে ত্বক সুস্থ থাকে।


সবশেষে, খাওয়াদাওয়ার দিকেও নজর দেওয়া জরুরি। টাটকা ফল, সবজি, বাদাম এবং স্বাস্থ্যকর খাবার ত্বকের জন্য খুব ভাল। এগুলো ত্বকের ভিতর থেকে পুষ্টি জোগায়।  অন্যদিকে, অতিরিক্ত চিনি, তেল-মশলাযুক্ত বা জাঙ্ক ফুড ত্বকের ক্ষতি করে এবং দ্রুত বয়সের ছাপ ফেলে।


সবমিলিয়ে বলা যায়, দামি প্রসাধনী নয়, নিয়মিত ভাল অভ্যাসই ত্বককে সুন্দর রাখার আসল চাবিকাঠি। একটু যত্ন আর নিয়ম মেনে চললেই দীর্ঘদিন পর্যন্ত তরুণ ত্বক পাওয়া সম্ভব।