মানসিক অস্থিরতা বা মন খারাপের পেছনে যে শুধু বাহ্যিক পরিস্থিতি দায়ী থাকে, তা নয়। অনেক সময় শরীরের ভেতরে পুষ্টির অভাব আমাদের অজান্তেই মানসিকভাবে দুর্বল করে দেয়। শরীরে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ ভিটামিনের অভাব থাকলে আপনি অকারণ উদ্বেগ বা বিষণ্ণতা অনুভব করতে পারেন।
ভিটামিন বি-১২ঃ মানসিক স্বাস্থ্যের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো ভিটামিন বি-১২। এটি স্নায়ুতন্ত্রকে সুস্থ রাখে এবং মেজাজ নিয়ন্ত্রণকারী রাসায়নিক 'সেরোটোনিন' উৎপাদনে সাহায্য করে। এর অভাব হলে ক্লান্তি, অকারণে ভয় পাওয়া এবং বিষণ্ণতার মতো সমস্যা দেখা দেয়। বিশেষ করে নিরামিষাশীদের মধ্যে এই ভিটামিনের অভাব বেশি দেখা যায়।
ভিটামিন ডিঃ এই ভিটামিনকে 'সানশাইন ভিটামিন' বলে। গবেষণায় দেখা গিয়েছে, ভিটামিন ডি-র মাত্রা কমে গেলে মস্তিষ্কের কার্যক্ষমতা প্রভাবিত হয় এবং 'সিজনাল অ্যাফেক্টিভ ডিসঅর্ডার' বা বিষণ্ণতার ঝুঁকি বাড়ে। সূর্যের আলো ছাড়াও ফ্যাটযুক্ত মাছ বা ডিমের কুসুম থেকে এটি পাওয়া যায়।
ম্যাগনেশিয়ামঃ ম্যাগনেশিয়াম পেশিকে শিথিল করতে এবং উদ্বেগ কমাতে সাহায্য করে। শরীরে ম্যাগনেশিয়ামের অভাব থাকলে অনিদ্রা, বিরক্তি এবং প্যানিক অ্যাটাক বা হঠাৎ আতঙ্কের মতো লক্ষণ দেখা দিতে পারে। পালং শাক, বাদাম এবং ডার্ক চকোলেট এর ভাল উৎস।
ভিটামিন বি-৬ঃ মস্তিষ্কের প্রয়োজনীয় নিউরোট্রান্সমিটার তৈরিতে বি-৬ কাজ করে। এর ঘাটতি হলে আমাদের মন খিটখিটে হয়ে যায় এবং দ্রুত মেজাজ পরিবর্তন হয়। চিকেন, মাছ এবং আলু এই ভিটামিনের অভাব পূরণে সহায়ক।
আয়রনঃ আয়রণের অভাবে রক্তাল্পতা দেখা দেয়, যার ফলে মস্তিষ্কে পর্যাপ্ত অক্সিজেন পৌঁছতে পারে না। এর সরাসরি প্রভাব পড়ে আমাদের মনের ওপর। সারাক্ষণ ক্লান্ত লাগা, উৎসাহ হারিয়ে ফেলা এবং খিটখিটে ভাব হওয়া আয়রনের অভাবের লক্ষণ।
ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিডঃ মস্তিষ্কের গঠন ও কাজ স্বাভাবিক রাখতে ওমেগা-৩ অপরিহার্য। এটি স্নায়ুর প্রদাহ কমায় এবং মনকে প্রফুল্ল রাখতে সাহায্য করে। আখরোট, ফ্ল্যাক্স সিড বা সামুদ্রিক মাছ থেকে এটি পাওয়া যায়।















