তীব্র দাবদাহে যখন জীবন ওষ্ঠাগত, তখন হিটস্ট্রোক বা 'লু' লাগা থেকে বাঁচতে নানা রকম ঘরোয়া টোটকা শোনা যায়। তার মধ্যে অন্যতম জনপ্রিয় হল পেঁয়াজের ব্যবহার। অনেকে বিশ্বাস করেন, গরমের দিনে বাইরে বেরনোর সময় পকেটে কাঁচা পেঁয়াজ রাখলে হিটস্ট্রোক হয় না। আবার অনেকে মনে করেন, গরমে কাঁচা পেঁয়াজ খেলে শরীর ঠান্ডা থাকে। কিন্তু বিজ্ঞান কী বলছে? আসুন দেখে নেওয়া যাক-
ভারত সহ দক্ষিণ এশিয়ার অনেক গ্রামীণ এলাকায় প্রচলিত রয়েছে যে, পকেটে পেঁয়াজ রাখলে তা শরীরের বাইরের তাপ শোষণ করে নেয় এবং হিটস্ট্রোক থেকে রক্ষা করে। তবে আধুনিক চিকিৎসাবিজ্ঞান এই দাবিকে পুরোপুরি নাকচ করে দিয়েছে। পকেটে পেঁয়াজ রাখার কোনও বৈজ্ঞানিক ভিত্তি নেই। পেঁয়াজ কোনও চুম্বক বা জাদুকরী বস্তু নয় যে এটি পরিবেশের অতিরিক্ত তাপ শুষে নিয়ে শরীরের তাপমাত্রা স্বাভাবিক রাখবে। এটি মূলত একটি লোকবিশ্বাস, যা দীর্ঘকাল ধরে চলে আসছে।
পকেটে রাখা নিরর্থক হলেও, গরমের সময় খাদ্যতালিকায় পেঁয়াজ রাখা কিন্তু বেশ উপকারী হতে পারে। পেঁয়াজের কিছু বিশেষ গুণাগুণ রয়েছে যা পরোক্ষভাবে গরমের অস্বস্তি কমাতে সাহায্য করে।
১. শরীর ঠান্ডা রাখা: আয়ুর্বেদ এবং পুষ্টিবিজ্ঞানীদের একাংশের মতে, পেঁয়াজের রস শরীরকে ভিতর থেকে ঠান্ডা রাখতে সাহায্য করতে পারে। বিশেষ করে কাঁচা পেঁয়াজ খেলে তার ঝাঁঝালো উপাদান শরীরের ঘাম নিঃসরণ বাড়িয়ে দেয়, যা প্রাকৃতিক উপায়ে শরীরের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণে সহায়ক।
২. পটাশিয়াম ও সোডিয়ামের যোগান: প্রচণ্ড গরমে ঘামের মাধ্যমে আমাদের শরীর থেকে প্রচুর লবণ ও জল বেরিয়ে যায়। পেঁয়াজে থাকা পটাশিয়াম এবং সোডিয়াম শরীরের ইলেকট্রোলাইট ভারসাম্য বজায় রাখতে সাহায্য করে, যা হিটস্ট্রোক প্রতিরোধের অন্যতম প্রধান শর্ত।
৩. কোয়ারসেটিনঃ পেঁয়াজে প্রচুর পরিমাণে 'কোয়ারসেটিন' নামক ফ্ল্যাভোনয়েড থাকে, যা অ্যান্টি-ইনফ্লেমেটরি হিসেবে কাজ করে এবং শরীরের অভ্যন্তরীণ প্রদাহ কমাতে সাহায্য করে।
মনে রাখা জরুরি যে, কেবল পেঁয়াজ খেয়ে হিটস্ট্রোক আটকানো সম্ভব নয়। হিটস্ট্রোক একটি জরুরি চিকিৎসা পরিস্থিতি। এটি প্রতিরোধের প্রধান উপায় হল শরীরকে হাইড্রেটেড রাখা। বাইরে বেরনোর সময় পর্যাপ্ত জল পান করা, ওআরএস বা নুন-চিনির জল সঙ্গে রাখা এবং সরাসরি রোদ এড়িয়ে চলা সবচেয়ে কার্যকর পদ্ধতি।















