এক বিয়ের অনুষ্ঠান এমন এক ঘটনার সাক্ষী হয়েছে, যা শুনলে সিনেমার গল্প বলে মনে হবে। বিয়ের মণ্ডপে উপস্থিত সকলের সামনে এক মা খুঁজে পেলেন বহু বছর আগে হারিয়ে যাওয়া নিজের মেয়েকে। একটি ছোট্ট জন্মদাগই বদলে দিল গোটা অনুষ্ঠানের চিত্র।
ঘটনাটি চীনের সুজৌ শহরের। সেদিন ছিল এক তরুণ-তরুণীর বিয়ে। দুই পরিবারের সদস্য, আত্মীয়-স্বজন ও বন্ধুদের উপস্থিতিতে অনুষ্ঠান চলছিল। বিয়ের নিয়ম অনুযায়ী কনেকে আশীর্বাদ করতে এগিয়ে যান পাত্রের মা। সেই সময় তাঁর নজরে আসে কনের হাতে থাকা একটি জন্মদাগ। জন্মদাগটি দেখেই তাঁর মনে সন্দেহ জাগে, কারণ বহু বছর আগে হারিয়ে যাওয়া তাঁর মেয়ের হাতেও ঠিক একই রকম জন্মদাগ ছিল।
এরপর তিনি কনের বাবা-মায়ের সঙ্গে কথা বলেন। জানতে চান, তাঁরা কি মেয়েটিকে দত্তক নিয়েছিলেন? প্রথমে বিষয়টি নিয়ে কিছুটা অস্বস্তি হলেও পরে কনের বাবা-মা জানান, বহু বছর আগে তাঁরা রাস্তার ধারে একটি পরিত্যক্ত শিশুকন্যাকে খুঁজে পান।
সন্তান না থাকায় সেই শিশুকেই বাড়িতে নিয়ে এসে নিজের মেয়ের মতো মানুষ করেন। সেই কথা শুনেই পাত্রের মা আর নিজেকে সামলাতে পারেননি। তিনি বুঝতে পারেন, কনেই তাঁর বহু বছর আগে হারিয়ে যাওয়া মেয়ে।
এই সত্য জানার পর বিয়ের আসরে আবেগঘন পরিবেশ তৈরি হয়। কনে জানতে পারেন, যাঁকে এতদিন তিনি শুধু হবু শাশুড়ি হিসেবে চিনতেন, তিনিই আসলে তাঁর জন্মদাত্রী মা। বহু বছরের বিচ্ছেদের পর মা ও মেয়ের সেই মিলনের দৃশ্য দেখে উপস্থিত অনেকেই আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন।।
এই ঘটনার পর অনেকের মনে প্রশ্ন ওঠে, তাহলে কি বিয়ে বন্ধ হয়ে যাবে? পরে জানা যায়, পাত্রও ওই পরিবারের জৈবিক সন্তান নন। বহু বছর আগে তাঁকেও দত্তক নেওয়া হয়েছিল। অর্থাৎ পাত্র ও পাত্রীর মধ্যে কোনও রক্তের সম্পর্ক নেই। তাই আইনগত বা পারিবারিক দিক থেকে বিয়েতে কোনও বাধা ছিল না।
সব বিষয় নিশ্চিত হওয়ার পর বিয়ের অনুষ্ঠান আগের পরিকল্পনা অনুযায়ী সম্পন্ন হয়। একদিনেই একই পরিবারের জীবনে আসে দুটি বড় আনন্দ।একদিকে ছেলের বিয়ে, অন্যদিকে বহু বছর পর হারিয়ে যাওয়া মেয়েকে ফিরে পাওয়ার সুখ।
এই ঘটনা প্রমাণ করে, জীবনে কখন কীভাবে ভাগ্য মানুষের সামনে নতুন দরজা খুলে দেয়, তা আগে থেকে বোঝা যায় না। একটি জন্মদাগ, একজন মায়ের স্মৃতি এবং ভাগ্যের অদ্ভুত খেলায় একটি সাধারণ বিয়ের অনুষ্ঠান পরিণত হয় এক অবিশ্বাস্য পারিবারিক পুনর্মিলনের গল্পে।
















