আমাদের শরীরে কোথাও হঠাৎ ফোলা বা গাঁট দেখা দিলে অনেকেই সেটিকে সাধারণ সমস্যা ভেবে গুরুত্ব দেন না। বিশেষ করে গলায় ছোট একটি ফোলা হলে অনেকেই মনে করেন এটি সর্দি-কাশি বা সংক্রমণের কারণে হয়েছে। কিন্তু চিকিৎসকদের মতে, গলার ফোলা সবসময় সাধারণ সমস্যা নাও হতে পারে। কিছু ক্ষেত্রে এটি থাইরয়েড ক্যানসারের প্রাথমিক লক্ষণ হতে পারে। তবে এই ক্যানসার যদি শুরুতেই ধরা পড়ে, তাহলে অধিকাংশ ক্ষেত্রেই সফলভাবে চিকিৎসা করা সম্ভব।

থাইরয়েড ক্যানসার এমন একটি রোগ, যা প্রথম দিকে শনাক্ত করা গেলে রোগী সম্পূর্ণ সুস্থ হয়ে ওঠার সম্ভাবনা খুবই বেশি। কারণ বেশিরভাগ থাইরয়েড ক্যানসার ধীরে ধীরে বাড়ে। তাই সময়মতো পরীক্ষা করালে এবং চিকিৎসা শুরু করলে রোগ নিয়ন্ত্রণে রাখা সহজ হয়।

চিকিৎসকদের মতে, গলায় কোনও ফোলা বা গাঁট দীর্ঘদিন ধরে থাকলে তা কখনওই অবহেলা করা উচিত নয়। বিশেষ করে যদি ফোলাটি ধীরে ধীরে বড় হতে থাকে, তাহলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।

এছাড়াও আরও কয়েকটি লক্ষণের দিকে নজর রাখা দরকার। যেমন, হঠাৎ কণ্ঠস্বর বদলে যাওয়া বা দীর্ঘদিন কর্কশ হয়ে থাকা, খাবার গিলতে অসুবিধা হওয়া, শ্বাস নিতে সমস্যা হওয়া বা গলায় চাপ অনুভব করা। এই ধরনের সমস্যা কয়েক সপ্তাহ ধরে থাকলে অবশ্যই পরীক্ষা করানো উচিত।

তবে বিশেষজ্ঞরা স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, এই লক্ষণগুলির মানেই যে ক্যানসার, এমন নয়। অনেক সময় থাইরয়েডের সাধারণ সমস্যা, সংক্রমণ বা অন্য কারণেও এমন হতে পারে। তাই ভয় না পেয়ে চিকিৎসকের কাছে গিয়ে প্রয়োজনীয় পরীক্ষা করানোই সবচেয়ে শ্রেয়। 

থাইরয়েড ক্যানসার নির্ণয়ের জন্য সাধারণত শারীরিক পরীক্ষা, আল্ট্রাসাউন্ড, রক্ত পরীক্ষা এবং প্রয়োজনে বায়োপসি করা হয়। রিপোর্ট দেখে চিকিৎসক ঠিক করেন কী ধরনের চিকিৎসা প্রয়োজন।

রোগের ধরন ও পর্যায় অনুযায়ী চিকিৎসা ভিন্ন হতে পারে। অনেক ক্ষেত্রে অস্ত্রোপচার করে থাইরয়েড গ্রন্থির আক্রান্ত অংশ বা পুরো গ্রন্থি বাদ দেওয়া হয়। প্রয়োজনে রেডিওঅ্যাকটিভ আয়োডিন থেরাপি, ওষুধ বা অন্যান্য চিকিৎসাও দেওয়া হয়। আধুনিক চিকিৎসার ফলে এখন থাইরয়েড ক্যানসারে আক্রান্ত অধিকাংশ রোগীই স্বাভাবিক জীবনযাপন করতে পারেন।

চিকিৎসকদের পরামর্শ, শরীরের কোনও অস্বাভাবিক পরিবর্তনকে হালকাভাবে নেবেন না। গলায় ফোলা, কণ্ঠস্বরের পরিবর্তন বা খাবার গিলতে অসুবিধার মতো লক্ষণ দেখা দিলে যত দ্রুত সম্ভব চিকিৎসকের সঙ্গে যোগাযোগ করুন। কারণ ক্যানসারসহ অনেক রোগের ক্ষেত্রেই প্রথম দিকে রোগ ধরা পড়লে চিকিৎসা অনেক সহজ হয় এবং সুস্থ হওয়ার সম্ভাবনাও অনেক বেশি থাকে।