বয়স বাড়া একটি স্বাভাবিক প্রক্রিয়া। কিন্তু নতুন একটি গবেষণা বলছে, আজকের প্রজন্মের অনেক মানুষের শরীর আগের প্রজন্মের তুলনায় কম বয়সেই দ্রুত বুড়িয়ে যাচ্ছে। অর্থাৎ, আপনার বাবা বা মা যে বয়সে যতটা সুস্থ ছিলেন, আপনি একই বয়সে হয়তো ততটা সুস্থ নাও থাকতে পারেন।
গবেষকদের মতে, এর অন্যতম বড় কারণ হল বর্তমান জীবনযাত্রার ধরন। এখন বেশিরভাগ মানুষ দীর্ঘ সময় বসে কাজ করেন। নিয়মিত হাঁটাচলা বা শরীরচর্চা অনেকেরই হয় না। পাশাপাশি ফাস্ট ফুড, অতিরিক্ত তেল-ঝাল খাবার, চিনি-সমৃদ্ধ পানীয় এবং প্রক্রিয়াজাত খাবার খাওয়ার প্রবণতা বেড়েছে। এসব কারণে শরীরে চর্বি জমছে, ওজন বাড়ছে এবং বিভিন্ন অসুখের ঝুঁকিও বাড়ছে।
গবেষণায় দেখা গিয়েছে, বর্তমানে কম বয়সেই উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস, কোলেস্টেরল বৃদ্ধি, ফ্যাটি লিভার, হৃদরোগ এবং স্থূলতার মতো সমস্যা বাড়ছে। এসব রোগ শরীরের বিভিন্ন অঙ্গের উপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করে। ফলে শরীরের জৈবিক বয়স প্রকৃত বয়সের তুলনায় দ্রুত বাড়তে শুরু করে। অর্থাৎ আপনার বয়স যদি ৪০ বছরও হয়, শরীরের অবস্থা হয়তো ৫০ বছরের মানুষের মতো হতে পারে।
বিশেষজ্ঞরা আরও বলছেন, আগের প্রজন্মের মানুষ বেশি হাঁটতেন, বাড়ির রান্না করা খাবার খেতেন এবং শারীরিক পরিশ্রমও বেশি করতেন। বর্তমানে প্রযুক্তির উপর নির্ভরতা বেড়ে যাওয়ায় মানুষের দৈনন্দিন চলাফেরা অনেক কমে গিয়েছে। ঘণ্টার পর ঘণ্টা কম্পিউটার বা মোবাইলের সামনে বসে থাকার অভ্যাসও শরীরের উপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। এর সঙ্গে মানসিক চাপ, পর্যাপ্ত ঘুমের অভাব এবং অনিয়মিত জীবনযাপন সমস্যাকে আরও বাড়িয়ে দিচ্ছে।
তবে চিকিৎসকদের মতে, এই পরিস্থিতি বদলানো সম্ভব। প্রতিদিন অন্তত ৩০ থেকে ৪৫ মিনিট হাঁটা বা ব্যায়াম করা, বাড়িতে তৈরি স্বাস্থ্যকর খাবার খাওয়া, পর্যাপ্ত ঘুমানো, ধূমপান ও অতিরিক্ত মদ্যপান এড়িয়ে চলা এবং নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা করালে শরীরকে দীর্ঘদিন সুস্থ রাখা যায়। মানসিক চাপ কমানো এবং ওজন নিয়ন্ত্রণেও গুরুত্ব দিতে হবে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, শুধু ক্যালেন্ডারে বয়স বাড়ছে কিনা, সেটাই গুরুত্বপূর্ণ নয়। আসল বিষয় হল শরীর কতটা সুস্থ রয়েছে। তাই এখন থেকেই স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন শুরু করলে অনেক রোগের ঝুঁকি কমানো সম্ভব এবং শরীরের বার্ধক্যের গতিও অনেকটা ধীর করা যায়।
মনে রাখবেন, এই গবেষণা একটি সাধারণ প্রবণতার কথা জানিয়েছে। এটি প্রত্যেক মানুষের ক্ষেত্রে একইভাবে প্রযোজ্য নাও হতে পারে। ব্যক্তিভেদে জীবনযাপন, বংশগত কারণ এবং স্বাস্থ্যগত অবস্থার ওপর ফলাফল ভিন্ন হতে পারে।















