সামান্য ভুল হলেই মনে হয় সব শেষ! দুশ্চিন্তার শেষ হয় না কেন? চিন্তাচক্র থেকে মুক্তির উপায় কী?
নিজস্ব সংবাদদাতা
৩ জুলাই ২০২৬ ১৯ : ৪৬
শেয়ার করুন
1
11
অফিসে একটি ছোট ভুল হয়েছে, আর সঙ্গে সঙ্গে মাথায় ঘুরতে লগল, ‘এবার চাকরি যাবে, সংসার ভাঙবে, সব শেষ।’ প্রিয়জন ফোন ধরছেন না, মন বলছে, ‘নিশ্চয়ই কিছু একটা ঘটেছে।’ এই ধরনের চিন্তার নাম ‘ক্যাটাস্ট্রোফাইজিং’ বা বিপর্যয়-চিন্তা।
2
11
‘ক্যাটাস্ট্রোফাইজিং’ বা বিপর্যয়-চিন্তার ফাঁদে আটকে পড়ছেন যাচ্ছেন কোটি কোটি মানুষ। মাথায় চলতে থাকা চিন্তার ফাঁস জীবন অতিষ্ঠ করে তুলছে৷ বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন মুক্তির পথ৷
3
11
ক্যাটাস্ট্রোফাইজিং হল এক ধরনের চিন্তার ধরন যেখানে মস্তিষ্ক অনিশ্চয়তাকে বিপদ হিসেবে দেখে। বাস্তবে কী ঘটছে তাতে স্থির না থকে মন কয়েক ধপ এগিয়ে কল্পিত বিপর্যয়ে পৌঁছে যায়।
4
11
এই চিন্তার ধরন বাস্তবতার অনুভতিকে বিকৃত করে এবং শরীরে ‘ফাইট-অর-ফ্লাইট’ বা লড়াই থেকে পালানোর প্রতিক্রিয়া সক্রিয় করে৷
5
11
কেন এমন হয়? আমাদের পূর্বপুরুষদের বেঁচ থাকতে হলে সম্ভাব্য বিপদ আগে থেকেই অনুমান করতে হত। মস্তিষ্ক একটি ছোট সঙ্কেত নিয়ে সরাসরি সবচেয়ে খারাপ পরিণতি মোকাবিলা করতে প্রস্তুত হত৷
6
11
এই ভাবনা সাময়িকভাবে একটি ‘প্রস্তুত’ থকার অনুভূতি দেয়, যা মস্তিষ্কের কাছে পুরস্কারের মতো। আর সেই পুরস্কারের লোভেই এই চিন্তার চক্র চলতে থাকে৷
7
11
দীর্ঘদিন উদ্বেগ, মানসিক চাপ বা আঘাতের মধ্যে থাকলে মস্তিষ্ক এই ভাবে বাঁচতে শেখে৷ উদ্বেগ মনকে বলে, ‘কিছ একটা খারাপ হতে চলেছে।’ এরপর মন পরিকল্পনা করতে, চিন্তা করতে ও নিয়ন্ত্রণ রাখতে মরিয়া হয়ে ওঠে।
8
11
সবচেয়ে বিপজ্জনক দিক হল, এই চক্র থেকে বেরোতে চাইলেও বিপর্যয় চিন্তার চক্র থেকে বেরোনো খুব মুশকিল৷
9
11
তবে সচেতনতা, সহয়তা ও স্নায়ুতন্ত্রকে শান্ত রাখার অভ্যাসের মাধ্যমে এই চিন্তার ধরন থেকে বরিয়ে আসা সম্ভব।
10
11
সমাজমাধ্যম থেকে বিরতি নেওয়া, নিয়মিত শ্বাসের অভ্যাস করা, পর্যাপ্ত ঘুম ও নিয়মিত ব্যায়াম মস্তিষ্ককে শান্ত রাখে।
11
11
‘এটা হতে পারে’ আর ‘এটা হবেই’ এক নয়। সম্ভাবনা আর নিশ্চয়তার পার্থক্যটুকু বুঝতে পারলেই উদগের জাল অনেকটা আলগা হয়ে যায়।