অনেকেই মনে করেন, আর্থ্রাইটিস মানেই হাঁটুতে ব্যথা বা হাঁটাচলায় সমস্যা। কিন্তু চিকিৎসকদের মতে, এই ধারণা পুরোপুরি ঠিক নয়। শরীরের যে কোনও জয়েন্টেই এই রোগ হতে পারে। এমনকী হাতের বুড়ো আঙুলেও। আর এই জায়গার লক্ষণ অনেক সময় মানুষ বুঝতে না পেরে এড়িয়ে যান।

আর্থ্রাইটিস হলে জয়েন্টে প্রদাহ তৈরি হয়। ফলে ব্যথা, ফোলা, শক্ত হয়ে যাওয়া এবং নড়াচড়ায় সমস্যা দেখা দেয়। বয়স বাড়লে এই রোগের ঝুঁকি বেশি থাকে, তবে এখন কম বয়সীদের মধ্যেও এই সমস্যা বাড়ছে।

চিকিৎসকদের মতে, বুড়ো আঙুলে আর্থ্রাইটিস হলে কিছু স্পষ্ট লক্ষণ দেখা যায়। প্রথমত, আঙুলে ব্যথা শুরু হয়, বিশেষ করে কিছু ধরতে গেলে। যেমন বোতল খোলা, দরজার হাতল ঘোরানো বা কোনও জিনিস শক্ত করে ধরার সময় ব্যথা বেশি লাগে।

আঙুলে ফোলাভাব বা অস্বস্তি থাকতে পারে। অনেক সময় আঙুলে শক্তভাব আসে, ফলে সহজে নড়ানো যায় না। সকালে ঘুম থেকে ওঠার পর এই সমস্যা বেশি থাকে, পরে কিছুটা কমে যায়।

আরও একটি লক্ষণ হল, আঙুল নড়ানোর সময় কটকট বা ক্লিকের মতো শব্দ হওয়া। এতে বোঝা যায়, জয়েন্টের ভেতরে ঘর্ষণ বাড়ছে। ধীরে ধীরে আঙুলের শক্তিও কমে যেতে পারে, ফলে দৈনন্দিন কাজ করতে সমস্যা হয়।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনেকেই এই লক্ষণগুলোকে সাধারণ ব্যথা ভেবে অবহেলা করেন। কিন্তু দীর্ঘদিন এভাবে চলতে থাকলে সমস্যা গুরুতর হয়ে যেতে পারে এবং জয়েন্ট স্থায়ীভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।

এই রোগের পেছনে কয়েকটি কারণ থাকতে পারে। বয়সজনিত ক্ষয়, আগের চোট, অতিরিক্ত কাজের চাপ বা জিনগত কারণ। এছাড়া দীর্ঘক্ষণ মোবাইল বা কম্পিউটার ব্যবহার করলেও আঙুলের জয়েন্টে চাপ পড়ে, যা সমস্যা বাড়াতে পারে।

যদি নিয়মিত আঙুলে ব্যথা, ফোলা বা শক্তভাব অনুভব করেন, তাহলে দেরি না করে চিকিৎসকদের পরামর্শ নিন। প্রাথমিক অবস্থায় ধরা পড়লে ওষুধ, ব্যায়াম এবং জীবনযাত্রার কিছু পরিবর্তনের মাধ্যমে এই সমস্যা অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব। তাই ছোট ব্যথা ভেবে এড়িয়ে যাবেন না। হাঁটুর পাশাপাশি হাতের বুড়ো আঙুলেও যদি সমস্যা দেখা দেয়, তা আর্থ্রাইটিসেরই লক্ষণ হতে পারে। সময়মতো সচেতন হলেই বড় বিপদ এড়ানো সম্ভব।