এক শিশুর অপরাধ প্রশ্ন করা৷ আমেরিকার স্কুলে যা সাহস ও মেধার প্রমাণ, ভারতের শ্রেণিকক্ষে সেটাই হয়ে উঠছে ‘বদ অভ্যাস’। এমনই এক অভিজ্ঞতা শেয়ার করেছেন একটি এনআরআই পরিবার, যা নিয়ে নেটমাধ্যমে চলছে চর্চা৷
আমেরিকা ফেরত শিশু ভারতীয় স্কুলে ভর্তি হয়েছে৷ ক্লাসে সে একাধিক প্রশ্ন করে৷ শিক্ষক বলেছেন, ক্লাসে এত প্রশ্ন করা চলবে না, ‘একটু চুপ করে থাকো’।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বিদেশে জন্মানো ও বড় হওয়া শিশুরা ভারতে ফিরলে শ্রেণিকক্ষের পরিবেশ, সামাজিক নিয়মকানুন ও রুটিনে মানিয়ে নিতে গিয়ে তীব্র সাংস্কৃতিক দ্বন্দ্ব তৈরি হয়৷
আমেরিকার স্কুলে শিশুদের প্রশ্ন করতে, মতামত দিতে ও শিক্ষকের সঙ্গে সরাসরি কথা বলতে উৎসাহিত করা হয়। ভারতের ঐতিহ্যবাহী শিক্ষাব্যবস্থায় এই সংস্কৃতি অনেকটাই ভিন্ন। এখানে শৃঙ্খলা ও শিক্ষকের প্রতি মনোযোগকেই প্রাধান্য দেওয়া হয়।
শিক্ষার্থীরা প্রশ্ন করলে অনেক সময় শিক্ষকরা বিব্রত বোধ করেন, কারণ ভারতীয় সমাজে শিক্ষককে সর্বজ্ঞ মনে করার একটি প্রত্যাশা রয়েছে। অনেক শিক্ষকই সরাসরি ‘জানি না’ বলতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন না। এবং অতিরিক্ত প্রশ্ন করাকে ঔদ্ধত্য মনে করা হয়।
ভারতে ফিরে আসার পর অনেক প্রবাসী জানিয়েছেন, তাঁদের সন্তানরা স্কুলের পাশাপাশি সমাজের সাধারণ রীতিনীতি ও বন্ধুত্বের ধরনেও মানিয়ে নিতে বেশ বেগ পায়৷ তবে বিশেষজ্ঞরা পরামর্শ দিচ্ছেন, আগে থেকেই শিশুকে নতুন পরিবেশের জন্য মানসিকভাবে প্রস্তুত করলে এই রূপান্তর অনেক সহজ হয়।
এই ঘটনাটি আবারও দেশব্যাপী একটি পুরনো বিতর্ক উস্কে দিয়েছে৷ ভারতীয় শিক্ষাব্যবস্থায় কি শিশুদের কৌতূহল ও সৃজনশীলতাকে যথেষ্ট প্রশ্রয় দেওয়া হচ্ছে? কেউ বলছেন শৃঙ্খলা জরুরি, কেউ বলছেন প্রশ্ন করার অধিকার কেড়ে নেওয়া মানে শিশুর মেধার অঙ্কুরেই জল ঢালা।















