প্রতিদিন সকালের যা যা কাজ থাকে, তার মধ্যে যেমন দাঁত মাজা, প্রকৃতির ডাকে সাড়া দিয়ে পেট পরিষ্কার করা, ইত্যাদি থাকে। তেমনই আরও একটি অতি চেনা অভ্যাস হল স্নান করা। সকাল সকাল স্নান সেরে অনেকেই পুজো করেন। কেউ কেউ আবার সকালে স্নান করে অফিস, কলেজ, স্কুলে যান। কোনও কোনও বাড়িতে সকালে স্নান করে রান্নাঘরে ঢোকার রীতি। কিন্তু  জানেন কি আদতে সকালে স্নান করা একটি বদঅভ্যাস? এটি আখেরে লাভের বদলে ক্ষতি করে। 

বিশেষজ্ঞদের তরফে জানানো হয়েছে সকালে স্নান করার অত্যন্ত ক্ষতিকর। এতে শরীরের ক্ষতি হয়। কিন্তু কেন? সকালে ঘুম থেকে ওঠার পরই শরীর তৎক্ষণাৎ অ্যাক্টিভেট হয় না। রক্তচাপ কম থাকে। কর্টিসল বাড়তে থাকে। শরীরের অভ্যন্তরীণ তাপমাত্রাও বাড়ে না সেভাবে। ফলে এই সময় তাই স্নান করা একদমই ঠিক নয়। বিশেষ করে যদি গরম জলে কেউ স্নান করেন। 

গরম জল ঘুম থেকে ওঠার পরই গোটা শরীরে পড়লে সেটা হার্ট এবং ব্লাড ভেসেলকে অতিরিক্ত কাজ করার চাপ দিতে থাকে, যার জন্য শরীর মোটেই প্রস্তুত থাকে না। ফলে স্বাভাবিকের তুলনায় হার্ট এবং ব্লাড ভেসেলের উপর বেশি চাপ পড়ে এবং কাজ করতে হয়। এই কারণে ব্লাড ভেসেল স্বাভাবিকের তুলনায় চওড়া হয়ে যায়, বেড়ে যায় হার্ট রেট। 

সবটা মিলিয়ে এই সব উক্ত কারণের জন্য অনেকেরই মাথা ঘোরে, ঝিম ঝিম ভাব থাকে। কারও কারও আবার বমি পায় বা মাথা ঘুরিয়ে চারিদিক অন্ধকার দেখে। 

গোটা রাত ধরে শরীর যে প্রাকৃতিক ভাবে তেল তৈরি করে সেটাও সকাল সকাল শরীর লোক করার আগেই স্নান করলে ধুয়ে বেরিয়ে যায়। ফলে ত্বক রুক্ষ, শুষ্ক হয়ে যায়। ত্বক আরও বেশি সংবেদনশীল হয়ে যায়। সূর্যের আলো গায়ে লাগলেই ত্বক র‍্যাশ বেরোয় বা চুলকানি হয়। 

সকালে স্নান করলে যে কেবল শরীরের ক্ষতি হয় সেটা নয়, ক্ষতিগ্রস্ত হয় চুল। সকাল স্নান করলে, চুক ভেজালে বা শ্যাম্পু করলে চুল পড়ার প্রবণতা বাড়ে। এমনকী চুল রুক্ষ হয়ে যেতে পারে। মাথার ত্বক রুক্ষ হয়ে, খুশকি হতে পারে। 

তাহলে কখন স্নান করা উচিত? রোজ রাতে স্নান করা তুলনামূলক ভাবে ভাল। রাতে শোয়ার আগে স্নান করলে সারাদিনের ঘাম, ধুলো, ময়লা পরিষ্কার হয়ে যায়। জীবাণুকে ত্বকে জমতে দেয় না। স্নায়ু রিল্যাক্স হয়। স্ট্রেস কমায়। হরমোন ব্যালেন্স ঠিক রাখে। ঘুমানোর আগে শরীরের তাপমাত্রা সঠিক রাখে।