সুস্থতার জন্য পর্যাপ্ত জল খাওয়া জরুরি। রোগভোগ প্রতিরোধ করতে, শরীর থেকে সমস্ত টক্সিন দূর করতে রোজ নির্দিষ্ট পরিমাণে জল পানের পরামর্শ দেন বিশেষজ্ঞরা। জলের অভাবে শরীরে ডিহাইড্রেশন সহ জটিল রোগ বাসা বাঁধতে পারে। 

প্রত্যেকের শরীরে জলের চাহিদা এক রকম নয়। তবে সাধারণত দিনে ৩-৪ লিটার জলপান করা উচিত। তবে শুধু কতটা জল খাচ্ছেন তা নয়, কীভাবে খাচ্ছেন সেটাও খেয়াল রাখা জরুরি। ভুল পদ্ধতিতে জল খেলে উল্টে হতে পারে নানা শারীরিক সমস্যা। তাহলে জল খাওয়ার ক্ষেত্রে কোন কোন বিষয় খেয়াল রাখবেন? জেনে নিন- 

* বরফ ঠান্ডা জল এড়িয়ে চলুন। খুব ঠান্ডা বা বরফ জল খেলে শরীর হঠাৎ ঠান্ডা হয়ে যায়। এতে গলা ব্যথা, সর্দি-কাশি, এমনকী হজমের সমস্যা হতে পারে। বিশেষ করে খাওয়ার পর বরফ জল খেলে অনেকের পেটে অস্বস্তি হয়। তাই ফ্রিজের জল না খেয়ে স্বাভাবিক তাপমাত্রার বা হালকা গরম জল খাওয়াই ভাল।

* দাঁড়িয়ে বা হাঁটতে হাঁটতে জল খাবেন না। অনেকেই দাঁড়িয়ে বা চলতে ফিরতে জল খান। এতে জল খুব দ্রুত পেটে চলে যায় এবং শরীর ঠিকমতো তা গ্রহণ করতে পারে না। ফলে গ্যাস, অম্বল বা পেটের সমস্যা হতে পারে। তাই বসে শান্তভাবে জল পান করুন।

* একসঙ্গে অনেকটা জল খাবেন না। তৃষ্ণা পেলে আমরা অনেক সময় একবারেই অনেকটা জল খেয়ে ফেলি। এতে কিডনির উপর চাপ পড়ে। শরীরের ভারসাম্যও বিঘ্নিত হতে পারে। তাই একসঙ্গে বেশি না খেয়ে অল্প অল্প করে বারবার জল খান।

* ধীরে ধীরে জল পান করুন। ছোট ছোট চুমুকে জল খেলে শরীর সহজে তা শোষণ করতে পারে। তাড়াহুড়ো করে গিললে হজমের সমস্যা হতে পারে। তাই সময় নিয়ে ধীরে ধীরে জল পান করুন।

* খাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে জল খাবেন না। খাবার খাওয়ার ঠিক পরেই বেশি জল খেলে হজমে সমস্যা হতে পারে। এতে অনেকের পেট ফাঁপা বা অস্বস্তি হয়। চেষ্টা করুন খাওয়ার অন্তত ২০–৩০ মিনিট পরে জল খেতে। 

* প্লাস্টিকের বোতল এড়িয়ে চলুন। প্লাস্টিকের বোতলে দীর্ঘ সময় জল রাখা ভাল নয়, বিশেষ করে রোদে থাকলে ক্ষতিকর রাসায়নিক জলে মিশে যেতে পারে। তাই কাঁচ, মাটির বা তামার বোতল ব্যবহার করা ভাল।