পরমা দাশগুপ্ত

এ মলাট থেকে ও মলাট। তার মধ্যেই রাখা ঐশ্বর্য। সে স্বাদ যে পেয়েছে, সে-ই জানে! আর সে স্বাদে যে একবার মজেছে, এ জীবনে তার আর ছুটি নেই! ধৈর্য কমতে পারে, বইয়ের রকম বদলাতে পারে, পাল্টাতে পারে তার ধরন। তবু সে কাগুজে বই-ই হোক বা একালের ই-বুক, খবরের দুনিয়ায় মিলে যাওয়া মনের মতো লেখা কিংবা সোশ্যাল মিডিয়ার গল্পের পাতা, পড়ার খিদে ঠিক কোনও না কোনওটাকে খুঁজেই নেয়। 

কথায় বলে, মনের খিদে মেটানোর সেরা উপায় বই। নির্ঘাত ভাবছেন ক্লিশে, এসব কে না জানে! কিন্তু মনের একেক রকম প্রয়োজনে যে একেক রকম বই সত্যিই আপনার প্রিয় সঙ্গী হয়ে উঠতে পারে, জানতেন? 

মানসিক চাপের দাওয়াই

জীবনযাপনের ধরন যেদিকে গড়িয়েছে, স্ট্রেস এখন নিত্যসঙ্গী প্রায় সকলেরই। হাল্কা মেজাজের গল্পের বই, প্রেমের উপন্যাস মন ভাল করে দিতেই পারে। মন ফুরফুরে হয়ে উঠলে মানসিক চাপও কমবে, উদ্বেগের থেকেও রেহাই মিলে যাবে কিছুক্ষণের জন্য।  নিউরোসায়েন্স বা সিবিটি (কগনিটিভ বিহেভিয়ারাল থেরাপি) গাইড জাতীয় বই আপনার ভাবনার ধরনকে বদলে দিতে সাহায্য করে। তাতেও মনের চাপ বা উদ্বেগ কমানো সম্ভব। এছাড়া, সেল্ফ হেল্প বা মোটিভেশন জাতীয় বই কিংবা একই পরিস্থিতি থেকে বেরিয়ে আসার অভিজ্ঞতা সমৃদ্ধ বই মন থেকে উদ্বেগ মুছে দিতে পারে একটু একটু করে।  একাকীত্বের সঙ্গী
একা হয়ে পড়েছেন?  ক্রমশ ডুবে যাচ্ছেন অবসাদে বা বিষন্নতায়? মন ভাল করা গল্পের বই, জীবনী, রহস্য-রোমাঞ্চ বা অ্যাডভেঞ্চারের গল্প, ফ্যান্টাসি কিংবা বাস্তবে কারও অবসাদ থেকে বেরিয়ে আসার কাহিনি হয়ে উঠতে পারে মোক্ষম দাওয়াই। এ ধরনের বই, তার গল্প মনকে এমনভাবে প্রভাবিত করে টেনে রাখে যে বিষন্নতা থেকে বেরিয়ে আসা সহজ হয় বেশ খানিকটাই।

একাকীত্বের সঙ্গী

একা হয়ে পড়েছেন?  ক্রমশ ডুবে যাচ্ছেন অবসাদে বা বিষন্নতায়? মন ভাল করা গল্পের বই, জীবনী, রহস্য-রোমাঞ্চ বা অ্যাডভেঞ্চারের গল্প, ফ্যান্টাসি কিংবা বাস্তবে কারও অবসাদ থেকে বেরিয়ে আসার কাহিনি হয়ে উঠতে পারে মোক্ষম দাওয়াই। এ ধরনের বই, তার গল্প মনকে এমনভাবে প্রভাবিত করে টেনে রাখে যে বিষন্নতা থেকে বেরিয়ে আসা সহজ হয় বেশ খানিকটাই।
মনোসংযোগে ভরসা
নিউরোসায়েন্স বা সিবিটি-নির্ভর বেশ কিছু গাইডবুক বা হাতেকলমে শেখার ওয়ার্কবুক ধাঁচের বই মনোসংযোগের সমস্যা কমিয়ে দিতে সহায়ক হতে পারে। এ ধরনের বইগুলোতে বেশ কিছু উপায় বা হাতেকলমে অভ্যাস করার মতো পদ্ধতি বলা থাকে, যা মেনে চললে অ্যাটেনশন ডেফিসিটের হাত থেকে রেহাই পেতে পারেন। এ ছাড়া একই ধরনের সমস্যা নিয়ে ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতার জার্নালও এ ক্ষেত্রে উপকারী হয়ে উঠতে পারে। 

আত্মবিশ্বাসের সঙ্গী

হতাশা বা নেতিবাচক মানসিকতা থেকে আপনাকে বার করে এনে আত্মবিশ্বাসী করে তুলতেও কিন্তু বইয়ের জুড়ি নেই! নানা ধরনের মোটিভেশনাল বা সেল্প হেল্প জাতীয় বই রয়েছে, যা আপনার মনের মধ্যে থেকে নেতিবাচকতার বীজ উপড়ে ফেলে ইতিবাচক করে তুলতে পারে। বিভিন্ন সফল মানুষের জীবনী বা আত্মজীবনী আপনাকে এগিয়ে দিতে পারে আত্মবিশ্বাসের দিকে। প্রেম বা সম্পর্কের গল্প পড়ার অভ্যাস মনের মধ্যে মেলামেশার আকাঙ্খা বাড়িয়ে দেয়, অন্যদের সঙ্গে মিশতে উদ্বুদ্ধ করে তোলে। সেটাও কিন্তু আপনাকে আত্মবিশ্বাসী করে তুলতে পারে।

ভাবনার খোরাক

থ্রিলার বা গোয়েন্দা কাহিনি কে না ভালবাসে! কিন্তু জানেন কি, আপনার মস্তিষ্ককে সচল করে তুলতেও তার ভূমিকা কিন্তু নেহাত কম নয়! নিয়মিত এই ধরনের বই পড়ার অভ্যাস যে কোনও বিষয় খতিয়ে দেখা কিংবা তলিয়ে ভাবার ক্ষমতা বাড়িয়ে দিতে পারে। আর ব্রেনের নিয়মিত এক্সারসাইজ হলে তারও যে স্বাস্থ্য ভাল থাকবে, সে তো বলাই বাহুল্য!

বইকে তবে সত্যিই মনের দোসর বলা চলে, কী বলেন?