আমরা যখন একেবারে শান্তভাবে বসে থাকি বা ঘুম থেকে উঠে শরীর পুরো বিশ্রামে থাকে, তখন প্রতি মিনিটে হৃদযন্ত্র কতবার ধুকপুক করে, সেটাই হল রেস্টিং হার্ট রেট। চিকিৎসকদের মতে, এই সংখ্যাটি শুধু হার্টের অবস্থা নয়, শরীরের সার্বিক স্বাস্থ্য, বয়স বাড়ার গতি এবং কতদিন সুস্থভাবে বাঁচা যেতে পারে-সেসবেরও ইঙ্গিত দেয়।
সাধারণভাবে একজন প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের রেস্টিং হার্ট রেট মিনিটে ৬০ থেকে ১০০ বার হওয়াকে স্বাভাবিক ধরা হয়। তবে যারা নিয়মিত ব্যায়াম করেন, খেলাধুলা করেন বা শরীরচর্চায় অভ্যস্ত, তাঁদের ক্ষেত্রে এই হার্ট রেট ৫০-এর কাছাকাছিও হতে পারে। কারণ তাঁদের হৃদযন্ত্র বেশি স্বাস্থ্যবান হয় এবং কম ধুকপুক করেই শরীরে পর্যাপ্ত রক্ত পৌঁছে দিতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, যদি কারও রেস্টিং হার্ট রেট নিয়মিতভাবে ৮০-এর বেশি থাকে, তাহলে তা ভবিষ্যতে হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়াতে পারে। শুধু তাই নয়, হৃদরোগ না থাকলেও বেশি হার্ট রেট শরীরের ওপর অতিরিক্ত চাপের ইঙ্গিত হতে পারে। প্রতি ১০ বিট বাড়লে মৃত্যুঝুঁকিও কিছুটা বাড়তে পারে বলে মত চিকিৎসকদের।
অন্যদিকে, কম রেস্টিং হার্ট রেট অনেক সময় ভাল ফিটনেসের লক্ষণ। এর মানে হৃদযন্ত্র কম পরিশ্রমে বেশি কাজ করতে পারছে। শরীরের শক্তি তৈরির ক্ষমতা ভাল থাকলেও এমনটা হয়। তাই অনেক ফিট মানুষের হার্ট রেট তুলনামূলক কম থাকে।
তবে খুব কম হার্ট রেটও সবসময় ভাল নয়। যদি হার্ট রেট খুব কমে যায় এবং তার সঙ্গে মাথা ঘোরা, দুর্বল লাগা, শ্বাসকষ্ট, বুক ধড়ফড়, অজ্ঞান হয়ে যাওয়া বা ক্লান্তির মতো সমস্যা দেখা দেয়, তাহলে তা বিপদের লক্ষণ হতে পারে। এই অবস্থাকে ব্র্যাডিকার্ডিয়া বলা হয়। এমন হলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
রেস্টিং হার্ট রেট ভাল রাখতে নিয়মিত ব্যায়াম খুব জরুরি। শুধু হাঁটা বা দৌড় নয়, পেশি শক্ত করার ব্যায়ামও দরকার। পর্যাপ্ত ঘুম, মানসিক চাপ কমানো, ধূমপান এড়িয়ে চলা এবং স্বাস্থ্যকর খাবার খাওয়াও সমান গুরুত্বপূর্ণ।
চিকিৎসকেরা পরামর্শ দেন, মাঝে মাঝে নিজের রেস্টিং হার্ট রেট মেপে রাখা উচিত। সকালে ঘুম থেকে উঠে বা পুরো বিশ্রামের সময় এটি মাপলে সঠিক ধারণা পাওয়া যায়। ছোট এই অভ্যাস ভবিষ্যতে বড় রোগের ঝুঁকি আগেই বুঝতে সাহায্য করতে পারে।















