বৃন্দাবনের রাধাভক্ত সন্তের শারীরিক অবস্থা উদ্বেগজনক। অচল দু’টি কিডনি, প্রতিদিন ডায়ালিসিস করতে হচ্ছে। 

প্রতিদিন রাত ঠিক দু’টোয় বৃন্দাবনের ‘শ্রী হিত রাধা কেলি কুঞ্জ’ আশ্রম থেকে বেরিয়ে আসতেন এক শ্বেতবস্ত্রধারী সন্ত। দু’হাত জোড় করা, ঠোঁটে রাধানাম। তাঁকে এক ঝলক দেখতে পথের দু’ধারে মালা-ফুল হাতে দাঁড়িয়ে থাকতেন হাজার হাজার ভক্ত। সেই দৃশ্যই হয়ে উঠেছিল আজকের বৃন্দাবনের সবচেয়ে আবেগঘন তীর্থযাত্রা। 

কিন্তু গত কয়েক দিন ধরে সেই পথ শূন্য। আশ্রমের আনুষ্ঠানিক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে — প্রেমানন্দ গোবিন্দ শরণ মহারাজের রাত-পদযাত্রা অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত।

আশ্রম সূত্রের খবর, মহারাজের শরীরের অবস্থা ক্রমেই কঠিন। প্রায় ১৮ বছর ধরে তিনি গুরুতর কিডনির অসুখে ভুগছেন। দু’টি কিডনিই কার্যত অচল, ফলে প্রতিদিন ডায়ালিসিস চালাতে হচ্ছে। কিছু দিন আগেও সপ্তাহে পাঁচ দিন ডায়ালিসিস চলত, এখন প্রতিদিন। চিকিৎসকরা শারীরিক পরিশ্রম ও বিপুল জনসমাগম এড়িয়ে ভলার পরামর্শ দিয়েছেন৷ 

 ফেব্রুয়ারিতে এনআরআই গ্রিন সোসাইটির মহিলারা প্রতিবাদ জানিয়েছিলেন; গভীর রাতে বিপুল ভিড়ে এলাকাবাসীর অসুবিধা হয়৷ সব মিলিয়েই এই কঠিন সিদ্ধান্ত।


আশ্রমের তরফে বলা হয়েছে, “মহারাজের সুস্থতার অপেক্ষায় থাকুন। পথে দাঁড়িয়ে আর অপেক্ষা করবেন না। সুস্থতার খবর সোশ্যাল মিডিয়ায় জানানো হবে।” 

আইসিইউ-তে ভর্তি কিংবা শারীরিক অবস্থার গুরুতর অবনতির গুজব প্রসঙ্গে স্বয়ং প্রেমানন্দ মহারাজ ভিডিও বার্তায় বলেছেন — “কলিযুগের অপপ্রচারে কান দেবেন না। আমি ভক্তদের সঙ্গে কথা বলছি, সৎসঙ্গ চালাচ্ছি।”


দু’টি কিডনি অচল, খাদ্য বলতে আধখানা রুটি ও সামান্য সবজি। সকালে নিয়মিত সৎসঙ্গে বসেন। ভক্তরা বলেন, রাধানামই তাঁর জীবনীশক্তি। বিরাট কোহলি-অনুষ্কা শর্মা থেকে শুরু করে দেশ-বিদেশের অগণিত মানুষ তাঁর কাছে আশীর্বাদ নিতে আসেন।