পশ্চিমবঙ্গে যেমন গরম বাড়ছে তেমনই বাড়ছে ভোটের উত্তাপ। দুইয়ে মিলে তপ্ত আবহাওয়া৷ পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ভোটের দিন পান্তা খাওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন৷ কারণ পান্তা ভাত আগের দিন বানিয়ে জল ঢেলে রেখে দেওয়া হয়৷ পরদিন খাওয়া হয়৷ ভোটের আবহে হেঁশেলেও কম সময় নষ্ট হবে আবার পেটও ঠান্ডা থাকবে৷ 

পান্তা ভাত খাওয়ার উপকারিতা

 রাতভর ভিজে থাকার ফলে ভাতে প্রাকৃতিক ফারমেন্টেশন হয়, যা ভালো ব্যাকটেরিয়া (প্রোবায়োটিক) তৈরি করে। এটি হজম শক্তি বাড়ায় এবং গ্যাস বা অম্বল কমাতে সাহায্য করে।

গরমের দিনে পান্তা ভাত শরীরকে ঠান্ডা রাখে।

ফারমেন্টেশনের ফলে ভাতে ভিটামিন বি (বিশেষ করে B12) ও খনিজ উপাদানের পরিমাণ কিছুটা বাড়ে, যা শরীরের জন্য উপকারী।

পান্তা ভাতে কার্বোহাইড্রেট থাকায় এটি দ্রুত শক্তি দেয় এবং ক্লান্তি দূর করে।কোষ্ঠকাঠিন্য কমাতেও পান্তা ভাত বিশেষ উপকারী৷ 
 অল্প খরচে সহজেই তৈরি করা যায় পান্তা ভাত৷ গরমে ঘাম বেশি হয়। পান্তা ভাতের জল শরীরে লবণ ও জলের ভারসাম্য বজায় রাখতে সাহায্য করে৷

 পান্তা ভাত কীভাবে বানাবেন? 


চাল ভাল করে ধুয়ে নিয়ে ভাত বানিয়ে নিন৷ গরম ভাত ঠান্ডা করে নিন। এবার ভাতের মধ্যে অনেকটা জল দিন যাতে ভাত পুরোপুরি জলের মধ্যে ডুবে যায়। এরমধ্যে আধ কাপ টকদই দিয়ে ভাল করে মিশিয়ে নিন৷ এবার জলে ডোবানো ভাতের পাত্রটি ঢাকনা দিয়ে রাখুন। পাত্রটি ঢেকে রাতভর কম করে ৮ থেকে ১২ ঘন্টা  ভিজিয়ে রাখতে হবে৷ এতে হালকা ফারমেন্টেশন হবে। পরদিন সকালে ভাতটা একটু নেড়ে নিন। এবার এর মধ্যে কাঁচা পেঁয়াজ কুচি, লঙ্কা কুচি, ধনেপাতা কুচি, নুন আর সামান্য সরষের তেল দিয়ে ভাল করে মিশিয়ে নিন৷ 

পান্তা ভাত ভাল লাগে আলু ভর্তা, বেগুন ভর্তা, শুকনো মাছ ভাজা, পেঁয়াজি, মাছ ভাজা, ডিম ভাজা, ডালের বড়ার সঙ্গে। 

আলু ভর্তা বানানোর জন্য আলু ধুয়ে নিয়ে সিদ্ধ করে নিতে হবে৷ পেঁয়াজ কুচি, শুকনো লঙ্কা, রসুন সর্ষের তেলে ভেজে নিয়ে ঠান্ডা করে নিন৷ এবার আলুর সঙ্গে সব একসঙ্গে মিশিয়ে নিয়ে স্বাদমতো নুন দিয়ে মেখে নিন৷ 

বেগুন ভর্তা বেগুন টকরো করে কেটে নিয়ে ভেজে নিতে হবে। এবার পেঁয়াজ, শুকনো লঙ্কা, রসুন ভেজে ঠান্ডা করে নিতে হবে৷ দুটো টমেটো নিয়ে পুড়িয়ে নিতে হবে৷ টমেটোর খোসা ছাড়িয়ে নিতে হবে৷ ভাজা বেগুনের মধ্যে পেঁয়াজ, রসুন, টমেটো, শুকনো লঙ্কা মিশিয়ে মেখে নিতে হবে৷ এবার ধনেপাতা কুচি উপর থেকে দিয়ে আরেকবার মিশিয়ে নাও৷ 

মুসুর ডালের বড়া বানানোর জন্য মুসুর ডাল ভালো করে ধুয়ে ৩–৪ ঘণ্টা জলে ভিজিয়ে রাখুন। ডাল থেকে জল ঝরিয়ে ব্লেন্ডারে বা শিলপাটায় বেটে নিন। খুব মিহি করে বাটবেন না৷ বাটা ডালের সঙ্গে পেঁয়াজ কুচি, কাঁচা লঙ্কা, আদা-রসুন বাটা, ধনেপাতা, লবণ ও অন্যান্য মশলা মিশিয়ে নিন। মিশ্রণ একটু পাতলা মনে হলে চালের গুঁড়া বা বেসন দিতে পারেন৷ কড়াইয়ে তেল গরম করুন। হাত বা চামচ দিয়ে ছোট ছোট বড়ার আকারে মিশ্রণটি তেলে ছাড়ুন। মাঝারি আঁচে দুই পাশ সোনালি ও খাস্তা হওয়া পর্যন্ত ভাজুন।

এর সঙ্গে পেঁয়াজ, লঙ্কা দিয়ে ডিম ভেজে নিতে পারেন৷ আবার ছোট মাছ যেমন মৌরলা ভাল করে ধুয়ে মচমচে করে ভেজে নিয়ে মাছ ভাজাগুলো তুলে নিয়ে সেই তেলেই পেঁয়াজ রসুন শুকনো লঙ্কা দিয়ে ভেজে নিয়ে মাছের সঙ্গে মেখে নিতে পারেন৷ পান্তা ভাতের সঙ্গে এই মাছের ভর্তাও দুর্দান্ত লাগবে খেতে৷ 

তবে পান্তা ভাতের ক্ষেত্রে কিছু বিষয়ে খেয়াল রাখা জরুরি৷ খুব বেশি সময় রেখে দিলে বা পরিষ্কারভাবে না রাখলে জীবাণু সংক্রমণের ঝুঁকি থাকতে পারে। যাদের পেটের সমস্যা বেশি, তারা অল্প পরিমাণে খাবেন।