মায়ের সঙ্গে সন্তানের সম্পর্ক যে কতটা গভীর, তা সকলেরই জানা। কিন্তু এই সম্পর্ক শুধু ভালবাসা বা আবেগের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়, এর পেছনে রয়েছে এক আশ্চর্য বৈজ্ঞানিক সত্যও।
গবেষণায় দেখা গিয়েছে, সন্তান জন্মের পর মায়ের শরীর থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়, কিন্তু কোষগুলো থেকে যায়। মায়ের শরীরের কিছু কোষ সন্তানের শরীরে প্রবেশ করতে পারে এবং অনেক বছর, কখনও কখনও সারাজীবন পর্যন্ত সেখানেই থেকে যায়। এই ঘটনাকে বলা হয় মাইক্রোকাইমেরিজম।
গর্ভাবস্থার সময় মা ও শিশুর মধ্যে একটি বিশেষ সংযোগ থাকে, যাকে প্লাসেন্টা বলা হয়। এই সময় শুধু খাবার বা অক্সিজেনই নয়, খুব অল্প পরিমাণে কোষও এক শরীর থেকে অন্য শরীরে যেতে পারে। অর্থাৎ মায়ের কিছু কোষ শিশুর শরীরে যায়, আবার শিশুর কিছু কোষও মায়ের শরীরে ঢুকে পড়ে।
সবচেয়ে অবাক করার বিষয় হল, এই কোষগুলো নষ্ট হয়ে যায় না, বরং অনেক সময় শরীরের ভেতরে থেকে যায় দীর্ঘদিন। বিজ্ঞানীরা এই কোষগুলো খুঁজে পেয়েছেন রক্ত, ত্বক, লিভার, হাড়ের মজ্জা এমনকী মস্তিষ্কেও।
গবেষণা বলছে, এই কোষগুলো কখনও কখনও শরীরের কাজে সাহায্য করতে পারে। যেমন, শরীরের কোথাও ক্ষত হলে তা সারাতে সাহায্য করা বা রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাকে বাড়ানো। যদিও এই বিষয়টি নিয়ে এখনও পুরোপুরি নিশ্চিত হওয়া যায়নি, তবে বিজ্ঞানীরা গবেষণা চালিয়ে যাচ্ছেন। অর্থাৎ মা শুধু সন্তানের জন্ম দেন না, তার শরীরের একটি ছোট অংশও সন্তানের শরীরের ভেতরে থেকে যেতে পারে। তাই এক অর্থে বলা যায়, মা সবসময় আমাদের সঙ্গে থাকেন।
এই বিষয়টি শুনতে একটু অবাক লাগলেও, এটি বাস্তব বৈজ্ঞানিক সত্য। তাই কেউ যদি বলে, 'মা কখনও দূরে যায় না', তা শুধু আবেগের কথা নয়, বিজ্ঞানের দিক থেকেও একেবারে ভুল নয়। মায়ের সঙ্গে আমাদের এই অদৃশ্য সম্পর্কটাই হয়তো জীবনের সবচেয়ে গভীর এবং সত্যিকারের বন্ধন।















