গর্ভাবস্থার শেষ পর্যায়ে সাধারণত বেশিরভাগ মহিলাই বিশ্রাম নেন এবং শরীরের উপর অতিরিক্ত চাপ এড়িয়ে চলেন। কিন্তু বেঙ্গালুরুর এক যোগশিক্ষিকা সেই ধারণাকেই যেন নতুন করে ভাবতে বাধ্য করেছেন। 

৩৯ সপ্তাহের অন্তঃসত্ত্বা অবস্থায় অর্থাৎ সন্তান জন্মের একেবারে কাছাকাছি সময়ে, তিনি শাড়ি পরে চক্রাসনের করেছেন। গর্ভাবস্থার শেষ পর্যায়ে  কঠিন যোগাসন করে সোশ্যাল মিডিয়ায় ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছেন ওই যোগশিক্ষিকা। 

এই যোগশিক্ষিকার নাম শশী প্রভা দ্বিবেদী। তিনি বহু বছর ধরে যোগব্যায়ামের সঙ্গে যুক্ত। সম্প্রতি তাঁর একটি ভিডিও ভাইরাল হয়েছে, যেখানে তাঁকে শাড়ি পরে অত্যন্ত স্বচ্ছন্দে চক্রাসন করতে দেখা যায়। শুধু চক্রাসনই নয়, আরও কয়েকটি জটিল যোগাসনও তিনি করেছেন। ভিডিওটি দেখার পর অনেকেই অবাক হয়েছেন, কারণ গর্ভাবস্থার এত শেষ পর্যায়ে এমন নমনীয়তা ও শারীরিক সক্ষমতা খুব কমই দেখা যায়।

শশী প্রভা জানিয়েছেন, এটি হঠাৎ করে সম্ভব হয়নি। দীর্ঘদিনের নিয়মিত যোগাভ্যাসই তাঁকে এই জায়গায় পৌঁছে দিয়েছে। তিনি আগে অর্থনীতির অধ্যাপিকা ছিলেন এবং গবেষণার কাজও করতেন। পরে জীবনের নানা চাপ সামলাতে যোগব্যায়াম শুরু করেন। ধীরে ধীরে যোগের প্রতি তাঁর আগ্রহ বাড়তে থাকে এবং একসময় সেটিকেই পেশা হিসেবে বেছে নেন।

গর্ভাবস্থার সময়ও তিনি সম্পূর্ণভাবে ব্যায়াম বন্ধ করেননি। চিকিৎসক এবং বিশেষজ্ঞ প্রশিক্ষকদের পরামর্শ মেনে তিনি নিয়মিত অনুশীলন চালিয়ে গিয়েছেন। তাঁর মতে, শরীরের ক্ষমতা বুঝে এবং সঠিক নির্দেশনা মেনে ব্যায়াম করলে গর্ভাবস্থাতেও সক্রিয় থাকা সম্ভব।

ভিডিওটি প্রকাশ হওয়ার পর নেটমাধ্যমে নানা ধরনের প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। অনেকেই তাঁর আত্মবিশ্বাস, ফিটনেস এবং মানসিক শক্তির প্রশংসা করেছেন। তাঁদের মতে, তিনি দেখিয়ে দিয়েছেন যে সুস্থ জীবনযাপন ও নিয়মিত ব্যায়াম শরীরকে কতটা সক্ষম করে তুলতে পারে।

অন্যদিকে, অনেকেই উদ্বেগও প্রকাশ করেছেন। তাঁদের আশঙ্কা, এই ভিডিও দেখে অন্য অন্তঃসত্ত্বা মহিলারা অনুপ্রাণিত হয়ে একই ধরনের কঠিন যোগাসন করার চেষ্টা করতে পারেন, যা ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে।

চিকিৎসকদের মতে, গর্ভাবস্থার শেষ দিকে শরীরের ভারসাম্যে পরিবর্তন আসে। পেশি ও জয়েন্টগুলো তুলনামূলকভাবে বেশি নমনীয় হয়ে যায়। ফলে হঠাৎ কোনও কঠিন আসন করার সময় পড়ে যাওয়া বা আঘাত পাওয়ার আশঙ্কা থাকে। তাই সব গর্ভবতী মহিলার জন্য এমন যোগাসন নিরাপদ নয়।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গর্ভাবস্থায় ব্যায়াম অবশ্যই উপকারী। তবে সেটি হতে হবে ব্যক্তির শারীরিক অবস্থা, স্বাস্থ্য এবং চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী। অন্য কারও ভিডিও দেখে বা অনুকরণ করে কোনও কঠিন ব্যায়াম করা উচিত নয়।

শশী প্রভার এই ভাইরাল ভিডিও একদিকে যেমন মানুষের প্রশংসা কুড়িয়েছে, তেমনই গর্ভাবস্থায় ব্যায়ামের সীমা ও নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু করেছে। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, মা ও শিশুর সুস্থতাই সবসময় প্রথমে গুরুত্ব পাওয়া উচিত।