জাতীয় রেকর্ড গড়ল মেঘালয়। মেঘালয় ভারতের প্রথম রাজ্য হয়ে যেখানে ৮৬ শতাংশ স্কুল তামাকমুক্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান হিসাবে স্বীকৃতি  পেয়েছে, যা দেশের মধ্যে সর্বোচ্চ। রাজ্য সরকারের এক কর্মকর্তার মতে, তামাকমুক্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের লক্ষ্য অর্জনটি বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ, কারণ মেঘালয়ে প্রতি বছর প্রায় ৮,০০০ মানুষের মৃত্যু হয় তামাকজনিত কারণে৷ 

  গ্লোবাল অ্যাডাল্ট টোব্যাকো সার্ভে (২০১৭) অনুসারে, ১৫ বছর বা তার বেশি বয়সী ৪৭ শতাংশ প্রাপ্তবয়স্ক তামাক সেবন করেন। তামাক প্রতিরোধ করার প্রক্রিয়া যে শৈশব থেকেই শুরু করতে হবে, তা উপলব্ধি করে মেঘালয় সরকার তিন বছর আগে জাতীয় স্বাস্থ্য মিশনের অধীনে তামাকমুক্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান (ToFEI) কর্মসূচি চালু করে। 

রাজ্যের সমস্ত স্কুলকে তামাকমুক্ত করার লক্ষ্যে, স্বাস্থ্য বিভাগ, শিক্ষা বিভাগ এবং সম্বন্ধ হেলথ ফাউন্ডেশনের সহযোগিতায় এই কর্মসূচিটি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। কর্মকর্তার মতে, কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রকের জারি করা ToFEI নির্দেশিকা অনুসারে, স্কুলগুলিকে বছরে নয়টি তামাক-মুক্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের (ToFEI) কার্যক্রম সম্পন্ন করতে হয়।  ১০০ নম্বরের একটি স্কোরকার্ড তৈরি হয় এর ভিত্তিতে। 

তামাক-মুক্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান হিসেবে স্বীকৃতি পাওয়ার জন্য একটি স্কুলকে ন্যূনতম ৮০ নম্বর পেতে হয়। তামাকমুক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বেশ কিছু কাজ করতে হয়৷ এর মধ্যে রয়েছে স্কুল প্রাঙ্গণে তামাক-বিরোধী সাইনবোর্ড লাগানো, সচেতনতামূলক প্রচার করা, ছাত্র-ছাত্রীদের নেতৃত্বে র‍্যালি আয়োজন এবং তামাক নিয়ন্ত্রণ বিধি কঠোরভাবে মেনে চলা। 


এই সমস্ত কাজের মধ্য দিয়ে ছাত্র-ছাত্রীদের জন্য একটি নিরাপদ, আসক্তিমুক্ত পরিবেশ তৈরি হয়। প্রতি বছর মেঘালয় জুড়ে প্রায় ১০,০০০ স্কুল তামাক-বিরোধী র‍্যালি, স্বাক্ষর অভিযান এবং সচেতনতামূলক কার্যক্রমে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করে। শিশুদের আসক্তিকর তামাকজাত দ্রব্যের শিকার হওয়া থেকে বিরত রাখার এই সাফল্য মেঘালয় সরকারের, বিশেষ করে স্বাস্থ্য ও শিক্ষা বিভাগের বলিষ্ঠ নেতৃত্ব ও সমন্বিত পদক্ষেপের প্রতিফলন।