আর্জেন্টিনার উশুয়াইয়া থেকে ছেড়ে যাওয়া ক্রুজ় শিপ MV Hondius-এ সম্প্রতি হান্টাভাইরাস-এর প্রাদুর্ভাব ঘিরে বিশ্বজুড়ে আতঙ্ক। ইতিমধ্যেই কয়েকজনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গিয়েছে। মে মাসের প্রথম সপ্তাহ পর্যন্ত আক্রান্ত ৮ জন, মৃত ৩।
অনেকের মনেই প্রশ্ন, হান্টাভাইরাস কি করোনার মতো ভয়াবহ? চিকিৎসকরা স্পষ্ট জানিয়েছেন, এটি কোভিডের মতো নয়৷
ক্রুজ়-এ হান্টাভাইরাসের প্রাদুর্ভাব ঘটেছে আনডিজ় ভাইরাস (Andes virus)-এ আক্রান্ত হয়ে। দক্ষিণ আমেরিকায় পাওয়া এই বিশেষ স্ট্রেইনটিই একমাত্র হান্টাভাইরাস যা মানুষ থেকে মানুষে ছড়াতে পারে।
হান্টাভাইরাস আসলে কী?
কোরিয়ান যুদ্ধের সময় প্রথম শনাক্ত— হান্টান নদীর নামে। এটি মূলত ইঁদুর, ছুঁচো এবং অন্যান্য প্রাণীর থেকে ছড়ায়৷ সংক্রমিত প্রাণীর মূত্র, মল বা লালার শুকনো কণা শ্বাসের মাধ্যমে গ্রহণ করলে মানুষ আক্রান্ত হয়। সাধারণত শুষ্ক, গ্রামীণ পরিবেশে এর প্রাদুর্ভাব দেখা যায়।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (WHO) এক শীর্ষকর্তার মতে, “এটি কোভিডের সূচনা নয়। বৈজ্ঞানিক পরীক্ষায় দেখা গিয়েছে, এই ভাইরাসে সাধারণ মানুষের জন্য ঝুঁকি অত্যন্ত কম।”
কেন কোভিডের মতো নয়?
১. ফ্লু বা কোভিড খুব দ্রুত একজনের থেকে অন্যের দেহে সংক্রমণ হয়৷ হান্টাভাইরাস সংক্রমণের জন্য চাই দীর্ঘ ও ঘনিষ্ঠ শারীরিক সম্পর্ক।
২. শরীরের ভিন্ন রিসেপ্টর: কোভিড সংক্রমণ হয় ACE2 রিসেপ্টরে। যা গলা ও শ্বাসনালীর উপরের অংশে ছড়িয়ে পড়ে। হান্টাভাইরাসে বিটা ৩ ইন্টিগ্রিন-এ— যা ফুসফুসের গভীরে ও রক্তবাহিকার আস্তরণে সংক্রমণ হয়। তাই সংক্রমিত ব্যক্তি কাশলে-হাঁচলেও খুব কম ভাইরাস ছিটকায়।
৩. কোভিড ও ফ্লু দ্রুত রূপান্তরিত হয়— তাই নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন। হান্টাভাইরাস তুলনায় স্থিতিশীল।
প্রাথমিক লক্ষণ: জ্বর, ক্লান্তি, পেশী-যন্ত্রণা, মাথাব্যথা, মাথা ঘোরা। অবস্থা গুরুতর হলে— ফুসফুসে তরল জমে শ্বাসকষ্ট (হান্টাভাইরাস পালমোনারি সিনড্রোম)। ২০২৫-এ আটটি দেশে ২২৯ জন আক্রান্ত, ৫৯ জনের মৃত্যু হয়েছে।
ভারতে হান্টাভাইরাসের প্রাদুর্ভাব নেই বললেই চলে। তবু বাড়িঘরে ইঁদুর-ছুঁচোর সংক্রমণ এড়াতে রান্নাঘর ও সঞ্চয়স্থান পরিষ্কার রাখুন, খাবার ঢেকে রাখুন৷ গ্রামীণ বা পাহাড়ি এলাকায় ভ্রমণের সময় পরিত্যক্ত কুটিরে ঢোকার আগে বাতাস চলাচল নিশ্চিত করুন।















