‘ওয়ার্ক ফ্রম হোম’ ওয়ার্ক কালচার বিশ্বজুড়ে চাকরিজীবীদের কাজের ধরনটাই বদলে দিয়েছে। ল্যাপটপ আর ইন্টারনেট কানেকশন থাকলে আজকাল ট্রেন, বিমানবন্দর, ক্যাফে, সমুদ্র সৈকত কিংবা চলন্ত গাড়ি— যেকোনও জায়গাই হয়ে উঠছে অফিস ঘর। কিন্তু এক যুবক এই সব ধরনের দূরত্বের সমস্ত চেনা রেকর্ড ভেঙে দিলেন! অফিসকে তিনি সোজা টেনে নিয়ে গেলেন সাহারা মরুভূমির তপ্ত বালিরাশির মাঝে উটের পিঠে!
আজ্ঞে হ্যাঁ। সম্প্রতি সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি ভিডিও ভাইরাল হয়েছে, যেখানে দেখা যাচ্ছে এক ব্যক্তি সাহারা মরুভূমির তীব্র রোদের মধ্যে উটের পিঠে বসে দিব্যি ল্যাপটপ খুলে অফিসের জুম মিটিং বা ‘জুম কল’ -এ ব্যস্ত!ইন্টারনেট দুনিয়ায় এই অদ্ভুত ও নজিরবিহীন অফিস সেটআপ দেখে নেটিজেনদের চোখ কপালে উঠেছে।
ইনস্টাগ্রামে ‘সাদ আখতার’ নামের এক নেট ব্যবহারকারী এই অবিশ্বাস্য ক্লিপটি শেয়ার করেছেন। ভিডিওর ওপর টেক্সট দিয়ে লেখা রয়েছে, “ও ওর বসকে বলেছে যে ও বাড়ি থেকে কাজ করছে।”
?utm_source=ig_web_button_share_sheet
ভিডিওটিতে দেখা যাচ্ছে, চারদিকে ধূ-ধূ করছে মাইলের পর মাইল সোনালী বালির পাহাড়। আর তার মাঝখান দিয়ে হেঁটে চলেছে উট। সেই উটের পিঠে জাঁকিয়ে বসে কোলের ওপর কোনোমতে ব্যালেন্স করে ল্যাপটপ খুলেছেন ওই যুবক। ব্যাকগ্রাউন্ডের সেই আদিগন্ত মরুভূমি সাধারণ কর্পোরেট অফিসের চার দেয়ালের চেনা পরিবেশের সাথে এক অদ্ভুত ও চমৎকার বৈপরীত্য তৈরি করেছে। ভিডিওটি শেয়ার করে ক্যাপশনে লেখা হয়েছে, “কিছু মানুষ কোম্পানির শেয়ারহোল্ডারদের ভ্যালু বাড়াতে বড্ড বেশি ভালবাসেন!”
ভিডিওটি ভাইরাল হতেই সোশ্যাল মিডিয়া জুড়ে মন্তব্যের বন্যা বয়ে গেছে। মরুভূমির মতো চরম প্রান্তিক এলাকা থেকে এমন নিষ্ঠা দেখে নেটিজেনরা মজাদার সব কমেন্ট করছেন।
এক নেটপাড়ার বাসিন্দাকর্পোরেট দুনিয়ার পারফরম্যান্স সূচক টেনে রসিকতা করে লিখেছেন, “মনে হচ্ছে আজকাল উটদেরও নিজস্ব কেপিআই (Key Performance Indicator) মেইনটেইন করতে হচ্ছে!”
মরুভূমির মাঝখানে কীভাবে ল্যাপটপে ইন্টারনেট চলছে, তা নিয়ে বিস্ময় প্রকাশ করে একজন লিখেছেন, “ওর পকেটে কি এলন মাস্কের স্টারলিঙ্ক ইন্টারনেট আছে নাকি? নেটওয়ার্ক পেল কোত্থেকে?”
অনেকেই আবার একেই আদর্শ ‘রিমোট ওয়ার্ক’ বলে আখ্যা দিয়েছেন। একজনের মন্তব্য, “আসল স্বপ্ন তো এটাই! ট্রাভেল আর কাজ একসঙ্গে— একেই বলে নিখুঁত ওয়ার্ক-লাইফ ব্যালেন্স।” অপরদিকে একজন বাস্তব সমস্যার কথা মনে করিয়ে দিয়ে লিখেছেন, “মরুভূমি তো দূর, আমি ঘরের বাইরে ল্যাপটপ খুললেই ব্যাটারি ডিসচার্জ হয়ে যায়!”
অনেকে আবার এই নতুন ধরণের কাজের স্টাইলের একটি চমৎকার নামও দিয়েছেন— ‘ডাবলু এফ সি’ অর্থাৎ ‘ওয়ার্ক ফ্রম ক্যামেল’ !
(পুনশ্চ: এই প্রতিবেদনটি সোশ্যাল মিডিয়ার ইউজার-জেনারেটেড কনটেন্টের ওপর ভিত্তি করে তৈরি করা হয়েছে। আজকাল ডট ইন এর সত্যতা যাচাই করেনি।)















