চাকরির ইন্টারভিউতে পোশাক কতটা গুরুত্বপূর্ণ? অনেকের ধারণা, শিক্ষাগত যোগ্যতা আর কাজের অভিজ্ঞতা ভাল থাকলে পোশাকের একটু এদিক-ওদিক তেমন প্রাধান্য পায় না। কিন্তু অ্যামাজন প্রাইম ভিডিওর এক শীর্ষ কর্তার একটি ভাইরাল পোস্ট এই ধারণাকে একেবারে বদলে দিয়েছে। নিখুঁত পোর্টফোলিও, চমৎকার কেরিয়ার গ্রাফ এবং ৫০ হাজারেরও বেশি সোশ্যাল মিডিয়া ফলোয়ার থাকা সত্ত্বেও স্রেফ একটি টি-শার্টের ‘বিশেষ কিছু’ লেখার কারণে ইন্টারভিউ শুরু হওয়ার আগেই এক তরুণীকে বাতিল করে দিলেন তিনি!
প্রাইম ভিডিওর সোশ্যাল অ্যান্ড এডিটোরিয়াল লিড ভাবিশা জৈন-এর একটি লিঙ্কডিন পোস্ট বর্তমানে নেটদুনিয়ায় তুমুল ভাইরাল। আর এই ঘটনাটি কর্পোরেট দুনিয়ায় এক নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে— যোগ্যতার চেয়ে কি পোশাক সত্যিই বড় না কি এটি ওই প্রার্থীর চূড়ান্ত অবিবেচকের মতো কাজ ছিল?
ভাবিশা ওঁর পোস্টে জানান, মাস তিনেক আগে তিনি ওঁর টিমের একটি ক্রিয়েটিভ রোলের জন্য যোগ্য প্রার্থী খুঁজছিলেন। তখনই ওঁর নজরে আসে এই তরুণীর প্রোফাইল। ওঁর কাজের অভিজ্ঞতা দুর্দান্ত ছিল, ছিল নামী সংস্থার সঙ্গে কাজ করার অভিজ্ঞতা এবং সোশ্যাল মিডিয়ায় ৫০ হাজারেরও বেশি মানুষ ওঁকে ফলো করতেন। ওঁর কাজ দেখে ভাবিশা বেশ মুগ্ধ হয়েছিলেন।
কিন্তু সাক্ষাৎকার পর্ব শুরু হতেই পুরো ছবিটা বদলে গেল। ভাবিশা লেখেন: “সরাসরি ইন্টারভিউ শুরু হওয়ার আগেই আমি ওঁকে একেবারে বাতিল করে দিই। এমনটা নয় যে ওঁর পোশাকের ফাঁক দিয়ে শরীর দেখা যাচ্ছিল, কিংবা ও ফর্মাল জামাকাপড় পরেনি বলে আমি চটেছিলাম। আমি ওঁকে রিজেক্ট করেছিলাম কারণ ওঁর টি-শার্টের বুকে বড় বড় অক্ষরে লেখা ছিল— ‘আই অ্যাম টু হট ফর আ জব’ অর্থাৎ আমি এই চাকরির জন্য বড্ড বেশি আকর্ষণীয়।”
ভাবিশা স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে ওঁর এই সিদ্ধান্ত কোনও কঠোর ‘ড্রেস কোড’ বা পোশাকের নিয়ম চাপিয়ে দেওয়ার জন্য ছিল না। এটি ছিল স্রেফ সাধারণ কাণ্ডজ্ঞানের অভাব। লিঙ্কডিনে একটি সহজ উদাহরণ দিয়ে তিনি বোঝান, “আপনি নিশ্চয়ই বিয়েবাড়িতে সাঁতার কাটার পোশাক পরে যাবেন না? আবার জিম করতে যাওয়ার সময় ব্ল্যাক টাই বা টাক্সিডো স্যুট পরে যাবেন না? ঠিক তেমনই, আপনি যখন কোনও কাজের জন্য ইন্টারভিউ দিতে আসছেন, তখন অন্তত এমন টি-শার্ট পরে আসতে পারেন না যা আক্ষরিক অর্থেই ঘোষণা করে যে— আপনি যে কাজটার জন্য ইন্টারভিউ দিচ্ছেন, সেটার চেয়ে আপনি নিজে অনেক বেশি উচ্চমানের!”
ভাবিশা মেনে নিয়েছেন যে ওই তরুণী হয়তো অত্যন্ত প্রতিভাবান ছিলেন এবং টি-শার্টের লেখাটিকে তিনি হয়তো স্রেফ একটা রসিকতা বা ‘জোক’ হিসেবেই ধরেছিলেন। কিন্তু কর্পোরেট ইন্টারভিউয়ের ওই ৩০ মিনিটে আপনার পোর্টফোলিও, আপনার কথা বলার ধরণ যেমন কথা বলে, ঠিক তেমনই আপনার পোশাকও আপনার হয়ে কথা বলে। ওঁর শেষ লাইনের সপাট পাঞ্চলাইনটি নেটিজেনদের মন ছুঁয়ে গেছে— “ও ইন্টারভিউ শুরু হওয়ার আগেই ওঁর বুকের লেখার মাধ্যমে আমাকে বলে দিয়েছিল যে ও এই চাকরির জন্য বড্ড বেশি ‘হট’। আমি স্রেফ ওঁর কথাটা বিশ্বাস করে নিয়েছি ও ওঁকে বিদায় জানিয়েছি!”
এই পোস্টটি লিঙ্কডিনে শেয়ার হওয়া মাত্রই লাইক এবং কমেন্টের বন্যা বয়ে গেছে। কর্পোরেট সংস্কৃতি ও জেন-জির মানসিকতা নিয়ে নেটিজেনরা দু'ভাগে ভাগ হয়ে গেছেন।
ভাবিশার সমর্থনে মন্তব্য: এক নেট ব্যবহারীকের লিখেছেন, “হায়রে কপাল! ৫০ হাজার ফলোয়ার, দুর্দান্ত পোর্টফোলিও আর এত সুন্দর কেরিয়ার...সব শেষে কিনা হেরে গেল একটা সাধারণ সুতির টি-শার্ট আর তার স্ক্রিন প্রিন্টিংয়ের কাছে!” অন্য একজন লেখেন, “চাকরি দেওয়ার আগেই ওঁকে ফায়ার করে একদম ঠিক করেছেন। এই ধরনের ‘সুপারস্টার’ সহকর্মীরা জয়েন করার পর অফিসে মাথা ব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়ায়।”















