সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি ভাইরাল পোস্টকে কেন্দ্র করে নেটিজেনদের মধ্যে তুমুল শোরগোল পড়ে গেছে। এক নববিবাহিত তরুণী ও ওঁর স্বামীর অফিসের বসের মধ্যকার একটি আবেগঘন ও রুদ্ধশ্বাস কথোপকথনের বিবরণ নেটপাড়ায় রীতিমতো আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। এক্স হ্যান্ডেলে ‘@CountryGulshan’ নামের এক ইউজার এই গোটা ঘটনার বিবরণ শেয়ার করেছেন।
স্বামীর পরকীয়া হাতেনাতে ধরার জন্য ওই নতুন বউ যেভাবে সোজা ওঁর অফিসে গিয়ে হানা দিলেন এবং বসের একটিমাত্র সত্যিতে যেভাবে ওঁর সংসার তছনছ হয়ে গেল— তা সিনেমার চিত্রনাট্যকেও হার মানায়।
ভাইরাল হওয়া পোস্ট অনুযায়ী, ওই তরুণী হন্তদন্ত হয়ে ওঁর স্বামীর অফিসে এসে পৌঁছান এবং সরাসরি ওঁর বসের মুখোমুখি দাঁড়িয়ে চিৎকার করে বলতে থাকেন, “আমার স্বামীকে ডাকুন! ও কোথায় আছে?” ওঁর এমন ক্ষিপ্ত আচরণ দেখে অফিসের বাকি কর্মীরা থমকে যান। স্বয়ং বসও কিছুটা অবাক হয়ে তরুণীকে জিজ্ঞেস করেন, তিনি ঠিক কী কারণে এতটা রেগে আছেন?
তখন ওই তরুণী ক্ষোভ উগড়ে দিয়ে বসের সামনেই অভিযোগ করেন, ওঁর স্বামী সারাটা দিন এই অফিসেই কাটায়। এখানেই শেষ নয়, অফিস ছুটির পর গভীর রাতেও নাকি বস প্রায়শই ওঁকে ‘জরুরি মিটিং’-এর দোহাই দিয়ে অফিসে ডেকে পাঠান! বরের এই ওভারটাইম ডিউটির চক্করে ওঁর দাম্পত্য শেষ হতে বসেছে, আর এই গভীর রাতের মিটিংয়ের জবাব চাইতেই তিনি সরাসরি বরের বসের কাছে এসেছেন।
তরুণীর মুখে ‘গভীর রাতের মিটিং’-এর কথা শুনে আকাশ থেকে পড়েন ওঁর বস। তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দেন যে অফিস টাইমের পর কোম্পানির পক্ষ থেকে এমন কোনও লেট-নাইট মিটিংয়ের আয়োজন কখনই করা হয় না! এরপরই বস যে বিস্ফোরক সত্যটি ফাঁস করেন, তার জন্য ওই নতুন বউ একেবারেই প্রস্তুত ছিলেন না। বস তরুণীকে জানান, ওঁর স্বামী অফিস ছুটির পর কোনো মিটিংয়ে যান না, বরং তিনি রাতের বেলা এই অফিসেরই এক মহিলা ম্যানেজারের বাড়িতে সময় কাটাতে যান!
এই চরম সত্যিটা সামনে আসতেই পায়ের তলা থেকে মাটি সরে যায় ওই তরুণীর। অফিসের সবার সামনেই তিনি ওঁর স্বামীর ওপর ফেটে পড়েন এবং ওঁর প্রতারণার বিরুদ্ধে তীব্র ক্ষোভ ও কান্না উগড়ে দেন। পরিস্থিতি হাতের বাইরে চলে যাচ্ছে দেখে এবং অফিসের পরিবেশ শান্ত করতে বস বাকি সহকর্মীদের নির্দেশ দেন ওই তরুণীকে বুঝিয়ে-সুঝিয়ে বাড়ি পৌঁছে দেওয়ার জন্য।পোস্টে দাবি করা হয়েছে, অফিস থেকে কাঁদতে কাঁদতে বেরিয়ে যাওয়ার সময় ওই অসহায় তরুণী ওঁর প্রতারক স্বামীকে উদ্দেশ্য করে বলতে থাকেন, “তুমি আমার পুরো জীবনটা ধ্বংস করে দিলে।”
ঘটনাটি সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট হওয়া মাত্রই আগুনের মতো ছড়িয়ে পড়ে। আধুনিক সমাজ এবং বিয়ে নামক প্রতিষ্ঠানের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে নেটিজেনরা বিভিন্ন ব্লকে বিভক্ত হয়ে মন্তব্য করতে শুরু করেছেন।
এক ইউজার লিখেছেন, “সবচেয়ে বড় সমস্যা হল অ্যারেঞ্জড ম্যারেজ। বাবা-মায়ের চাপে পড়ে বেশিরভাগ ছেলে-মেয়ে বিয়ে করে এবং পরে নিজেদের ও অন্যের জীবন নষ্ট করে। আধুনিক যুগে এই জোর করে দেওয়া সম্পর্ক চলে না। নিজের ভালবাসার মানুষকে চিনে বিয়ে করা উচিত।” অন্য একজন তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে ওঁর স্বভাবসিদ্ধ ভঙ্গিতে লিখেছেন, “এত সুন্দরী একটা বউ থাকতেও মানুষ কীভাবে পরকীয়া করতে পারে! কেউ ঠিকই বলেছে— কিছু লোকের হাতে সোনার বাটি দিলেও ওরা ওটাতে ভিক্ষে করেই খাবে।”
তবে সবাই যে এই ঘটনাকে সত্যি বলে মেনে নিয়েছেন তা নয়। অনেকেই মনে করছেন এটি ভিউ পাওয়ার জন্য বানানো কোনও স্ক্রিপ্টেড ভিডিও বা গল্প হতে পারে, যেখানে সব সময় নারীকে ভিকটিম বা শিকার হিসেবে দেখানো হয়। অপরদিকে কিছু ইউজার অত্যন্ত কুরুচিকর মন্তব্য করে লিখেছেন, “বউটাকে দেখতেই তো কেমন যেন পুরুষালি... বর যে পরকীয়া করবে তাতে আর আশ্চর্য কী!”
শেষে পোস্টটিতে একটি গভীর বার্তা দেওয়া হয়েছে যে— জীবনে অজান্তে হওয়া কোনও ভুল হয়তো ক্ষমা করা যায়, কিন্তু বিয়ের মতো বন্ধনে আবদ্ধ হওয়ার পরও যখন কেউ জেনেশুনে বারবার একই ভুল বা প্রতারণা করতে থাকে, তখন তার পরিণতি কেবল একটি সংসার নয়, বরং একাধিক জীবনকে চিরকালের মতো ধ্বংস করে দেয়।















