টাকা ধার দেওয়ার পর সবচেয়ে বড় চিন্তা থাকে, সেই টাকা কি ফেরত পাওয়া যাবে? অনেক সময় মানুষ মুখে প্রতিশ্রুতি দিলেও তার আচরণে লুকিয়ে থাকে অন্য সত্যি। বিশেষজ্ঞরা বলেন, সেক্ষেত্রে কিছু সাধারণ মুখভঙ্গি ও শরীরী ভাষা লক্ষ্য করলে আগেই আন্দাজ করা যায়, ঋণগ্রহীতা আদতে টাকা ফেরত দিতে চান কিনা। 

চোখে চোখ না রাখাঃ আপনি টাকা ফেরতের কথা তুলতেই যদি সে চোখ সরিয়ে নেয় বা অন্যদিকে তাকায়, তা অস্বস্তি বা এড়িয়ে যাওয়ার ইঙ্গিত হতে পারে। সাধারণত যারা সত্যি কথা বলে, তারা চোখে চোখ রেখে কথা বলতে স্বচ্ছন্দ্য বোধ করে।

ঠোঁট শক্ত করে চেপে রাখাঃ কথা বলার সময় হঠাৎ ঠোঁট শক্ত হয়ে গেলে বোঝা যায়, সে কিছু লুকোতে চাইছে বা মানসিক চাপে রয়েছে।

জোর করে হাসাঃ অনেকেই অস্বস্তি ঢাকতে কৃত্রিম হাসি হাসেন। এই হাসি সাধারণত চোখে ফুটে ওঠে না, শুধু ঠোঁটে থাকে। এতে বোঝা যায়, কথার সঙ্গে অনুভূতির মিল নেই।

বারবার মুখ বা নাক স্পর্শ করাঃ কথা বলার সময় যদি কেউ ঘনঘন মুখে হাত দেয়, নাক বা গলা স্পর্শ করে, তা নার্ভাসনেস বা অস্বস্তির লক্ষণ হতে পারে।

অস্বাভাবিক শরীরী ভঙ্গিঃ হাত গুটিয়ে বসা, শরীর পিছিয়ে নেওয়া বা দূরে সরে থাকার মতো শরীরী ভঙ্গি থেকে বোঝা যায়, সে মানসিকভাবে নিজেকে গুটিয়ে রাখছে বা পরিস্থিতি এড়িয়ে যেতে চাইছে।

উত্তর দিতে দেরি করাঃ সহজ প্রশ্নের উত্তর দিতে যদি কেউ বেশি সময় নেয়, তাহলে মনে হতে পারে সে উত্তর তৈরি করছে, স্বাভাবিকভাবে বলছে না।

অতিরিক্ত আশ্বাস দেওয়াঃ বারবার 'দেব', 'অবশ্যই দেব', 'চিন্তা করো না'-এই ধরনের কথা যদি খুব বেশি বলা হয়, তাহলে সেটfও সন্দেহের কারণ হতে পারে। অনেক সময় অতিরিক্ত প্রতিশ্রুতি মানে ভেতরে অনিশ্চয়তা রয়েছে।

তবে একটা বিষয় মাথায় রাখা জরুরি। এই লক্ষণগুলোর একটি দেখেই সিদ্ধান্ত নেওয়া ঠিক নয়। মানুষ ভিন্ন কারণে নার্ভাস বা অস্বস্তিতে থাকতে পারে। কিন্তু যদি একাধিক লক্ষণ বারবার দেখা যায়, তাহলে সতর্ক হওয়াই ভাল।

সবচেয়ে নিরাপদ উপায় হল টাকা ধার দেওয়ার সময় স্পষ্ট সময়সীমা ঠিক করা, প্রয়োজনে লিখিত প্রমাণ রাখা এবং নিয়মিত যোগাযোগ রাখা। শরীরী ভাষা শুধু ইঙ্গিত দেয়, কিন্তু বাস্তবে সুরক্ষিত থাকতে হলে সচেতন সিদ্ধান্ত নেওয়াই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।