NEET পরীক্ষাকে ঘিরে প্রশ্নপত্র ফাঁসের গুজব ও প্রতারণা ঠেকাতে বড় পদক্ষেপ নিল কেন্দ্র। মঙ্গলবার ন্যাশনাল টেস্টিং এজেন্সির সুপারিশে ভারতে টেলিগ্রামের উপর নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে।
2
16
অভিযোগ, ২১ জুন অনুষ্ঠিত হতে চলা NEET পরীক্ষার আগে টেলিগ্রামের একাধিক চ্যানেলে ভুয়ো প্রশ্নপত্র বিক্রি এবং পরীক্ষার্থীদের বিভ্রান্ত করার কাজ চলছিল। তবে এই সিদ্ধান্তের পরই প্রশ্ন উঠেছে—যদি টেলিগ্রাম নিষিদ্ধ হয়, তাহলে হোয়াটসঅ্যাপের বিরুদ্ধে একই পদক্ষেপ নেওয়া হল না কেন?
3
16
NTA-র দাবি, "PAPER LEAKED NEET", "Re-NEET 2026" এবং "Private Mafia" নামে একাধিক টেলিগ্রাম চ্যানেলে লক্ষ লক্ষ টাকার বিনিময়ে প্রশ্নপত্র দেওয়ার প্রলোভন দেখানো হচ্ছিল। বহু পরীক্ষার্থীকে ভুয়ো প্রতিশ্রুতি দিয়ে প্রতারণার ফাঁদে ফেলা হচ্ছিল।
4
16
প্রশাসন একাধিক চ্যানেল ও গ্রুপ বন্ধ করার চেষ্টা করলেও নতুন চ্যানেল তৈরি হয়ে একই ধরনের কার্যকলাপ চলতে থাকে। এরপরই টেলিগ্রামের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপের সুপারিশ করা হয়।
5
16
বিশেষজ্ঞদের মতে, টেলিগ্রামের নকশাগত বৈশিষ্ট্যই এটিকে এই ধরনের প্রতারণার জন্য তুলনামূলকভাবে বেশি উপযোগী করে তোলে। টেলিগ্রামে ব্যবহারকারীরা নিজেদের ফোন নম্বর গোপন রাখতে পারেন এবং শুধুমাত্র ইউজারনেম ব্যবহার করেই যোগাযোগ করা সম্ভব।
6
16
এছাড়া যে কেউ নিজের পরিচয় গোপন রেখে অসংখ্য সদস্য নিয়ে একটি পাবলিক চ্যানেল তৈরি করতে পারেন। ফলে প্রতারকদের চিহ্নিত করা আইন প্রয়োগকারী সংস্থার জন্য কঠিন হয়ে পড়ে।
7
16
অন্যদিকে, হোয়াটসঅ্যাপে অ্যাকাউন্ট তৈরির জন্য মোবাইল নম্বর বাধ্যতামূলক এবং পরিচয় গোপন রেখে বড় আকারের পাবলিক সম্প্রদায় পরিচালনা করা তুলনামূলকভাবে কঠিন। তাই প্রতারণামূলক নেটওয়ার্ক গড়ে তোলার সুযোগও কম।
8
16
টেলিগ্রামের আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য হল বড় আকারের ফাইল শেয়ার করার সুবিধা। এই প্ল্যাটফর্মে ২ জিবি পর্যন্ত ফাইল সহজেই পাঠানো যায়।
9
16
অভিযোগ, এই সুবিধা কাজে লাগিয়ে ভুয়ো প্রশ্নপত্রের PDF ছড়িয়ে দেওয়া হচ্ছিল। এছাড়া টেলিগ্রামে পুরনো বার্তা সম্পাদনা করে একই টাইমস্ট্যাম্প রেখে নতুন PDF যুক্ত করা যায়।
10
16
NTA-র অভিযোগ, এই ফিচার ব্যবহার করেই পুরনো পোস্ট পরিবর্তন করে প্রশ্নপত্র ফাঁসের ভুয়ো প্রমাণ তৈরি করা হচ্ছিল। সেই কারণেই ভারতে সাময়িকভাবে টেলিগ্রামের মেসেজ এডিট ফিচারও ৩০ জুন পর্যন্ত বন্ধ রাখা হয়েছে।
11
16
হোয়াটসঅ্যাপেও মেসেজ এডিট করার সুবিধা থাকলেও তা সীমিত সময়ের মধ্যে সম্ভব এবং পরে নতুন ফাইল যুক্ত করা যায় না। ফলে একই ধরনের ভুয়ো প্রমাণ তৈরি করা অনেক কঠিন।
12
16
আরও একটি বড় পার্থক্য হল প্রশাসনের সঙ্গে সহযোগিতা। টেলিগ্রামের প্রতিষ্ঠাতা পাভেল দুরভ শুরু থেকেই এমন একটি প্ল্যাটফর্ম তৈরি করতে চেয়েছিলেন, যা সরকারগুলির সঙ্গে সীমিত সহযোগিতা করবে। ভারতে টেলিগ্রামের কোনও স্থানীয় অফিসও নেই। ফলে সরকারি নির্দেশ কার্যকর করা তুলনামূলকভাবে জটিল হয়ে পড়ে।
13
16
অন্যদিকে, মেটা পরিচালিত হোয়াটসঅ্যাপ কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নির্ভর বিভিন্ন পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থার মাধ্যমে সন্দেহজনক কার্যকলাপ শনাক্ত করার চেষ্টা করে এবং সরকারি নির্দেশের ভিত্তিতে দ্রুত ব্যবস্থা নেয়।
14
16
যদিও সংস্থার দাবি, ব্যক্তিগত চ্যাটের বিষয়বস্তু তারা পড়তে পারে না, তবুও ব্যবহারকারীদের আচরণগত ধরণ বিশ্লেষণ করে অপব্যবহার রোধে পদক্ষেপ নেওয়া হয়।
15
16
তবে সাম্প্রতিক সময়ে টেলিগ্রামও তাদের নজরদারি বাড়িয়েছে। বিভিন্ন রিপোর্ট অনুযায়ী, ২০২৫ সালে কোটি কোটি চ্যানেল ও গ্রুপের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে এবং ২০২৬ সালে প্রতিদিন বিপুল সংখ্যক সন্দেহজনক চ্যানেল বন্ধ করা হচ্ছে।
16
16
তবুও NEET-কে ঘিরে প্রতারণার অভিযোগের জেরে ভারতে আপাতত টেলিগ্রামের উপরই কড়া পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে, যেখানে হোয়াটসঅ্যাপ এখনও নিষেধাজ্ঞার বাইরে রয়েছে।