ভাত বাঙালির প্রধান খাবার। ডায়াবেটিসের চোখরাঙানি থাকলে অনেকেই ভাত খেতে ভয় পান। ভাত খেলে রক্তে শর্করার মাত্রা দ্রুত বেড়ে যেতে পারে, এই আশঙ্কায় ডায়াবেটিসে আক্রান্ত বা স্বাস্থ্য সচেতন মানুষেরা ভাত খাওয়া নিয়ে দ্বিধায় থাকেন। তবে জানেন কি ভাত খাওয়ার একটি সহজ পদ্ধতি রয়েছে যা ব্লাড সুগার নিয়ন্ত্রণে রাখতে সাহায্য করতে পারে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, রান্না করা ভাত যদি ১২ থেকে ২৪ ঘণ্টা ফ্রিজে রাখা হয়, তাহলে তার গঠনে একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন ঘটে। এই প্রক্রিয়ায় ভাতের সহজে হজম হওয়া স্টার্চের একটি অংশ রেজিস্ট্যান্ট স্টার্চে পরিণত হয়। এই পরিবর্তনকে বিজ্ঞানীরা বলেন রেট্রোগ্রেডেশন। 

রেজিস্ট্যান্ট স্টার্চ সাধারণ কার্বোহাইড্রেটের মতো দ্রুত হজম হয় না। বরং এটি অনেকটা ফাইবারের মতো কাজ করে। ফলে শরীরে ধীরে ধীরে হজম হয় এবং রক্তে শর্করার মাত্রা হঠাৎ বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা কম থাকে। 

বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, এই পদ্ধতি কার্যকর করতে কয়েকটি বিষয় মানা জরুরি। প্রথমত ভাত রান্না করার পর সেটিকে কমপক্ষে ১২ ঘণ্টা ফ্রিজে রাখতে হবে, আর ২৪ ঘণ্টা রাখলে আরও ভাল ফল পাওয়া যায়। দ্বিতীয়ত, ফ্রিজের তাপমাত্রা প্রায় ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস হওয়া দরকার। এই ঠান্ডা পরিবেশেই ভাতের স্টার্চের গঠন পরিবর্তিত হয়।

অনেকের মনে প্রশ্ন থাকে, ফ্রিজে রাখা ভাত কি আবার গরম করে খাওয়া যায়? বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ভাত গরম করে খেলেও কোনও সমস্যা নেই। কারণ একবার রেজিস্ট্যান্ট স্টার্চ তৈরি হয়ে গেলে গরম করার পরেও তার বেশিরভাগ গুণ বজায় থাকে।

গবেষণায় দেখা গেছে, এইভাবে ভাত ঠান্ডা করলে তাতে থাকা রেজিস্ট্যান্ট স্টার্চের পরিমাণ গরম ভাতের তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি হতে পারে। এতে শরীরে শর্করা ধীরে ধীরে শোষিত হয় এবং ব্লাড সুগার হঠাৎ বেড়ে যাওয়ার ঝুঁকি কমে।

বিশেষজ্ঞরা আরও একটি সহজ কৌশলের কথা বলেছেন। ভাত রান্না করার সময় অল্প পরিমাণ তেল, যেমন নারকেল তেল, মিশিয়ে নেওয়া যেতে পারে। তারপর সেই ভাত ১২ থেকে ২৪ ঘণ্টা ফ্রিজে রাখলে স্টার্চের গঠন আরও শক্ত ও স্থিতিশীল হয়ে যায়। এতে স্টার্চ অনেকটা ফাইবারের মতো আচরণ করে এবং শরীর সহজে তা ভাঙতে পারে না।

ফলে ভাত থেকে শরীরে প্রবেশ করা ক্যালোরিও কিছুটা কমে যেতে পারে। কিছু গবেষণায় বলা হয়েছে, এই পদ্ধতিতে শরীর যে ক্যালোরি শোষণ করে তা প্রায় ৫০ শতাংশ পর্যন্ত কমতে পারে।

তবে বিশেষজ্ঞরা এও বলেন, সুস্থ থাকতে হলে খাবারের পরিমাণ নিয়ন্ত্রণ করা খুবই জরুরি। তাই ভাত খাওয়ার ক্ষেত্রেও নিজের শরীরের প্রয়োজন অনুযায়ী পরিমাণ ঠিক রাখা উচিত।