আজকাল বাইরে থেকে সুস্থ ও ফিট মনে হয়, এমন অল্পবয়সিরাও হৃদরোগের শিকার হচ্ছেন। বিশেষ করে কোভিড পরবর্তী সময়ে ভারতীয়দের মধ্যে হৃদরোগে আক্রান্তের ঝুঁকি বেড়ে যাওয়া ঘটনা নজরে এসেছে। এমনকী আচমকা হার্ট অ্যাটাকের কবলে অকালে প্রাণ হারাচ্ছেন তরুণরা। 

চিকিৎসকের কথায়, অনেক তরুণ নিয়মিত কাজ করেন, অফিস যান, বাইরে থেকে কোনও অসুস্থতার লক্ষণও দেখা যায় না। কিন্তু ভিতরে ভিতরে হার্টের ধমনীর সমস্যা তৈরি হতে থাকে, যা সময়মতো ধরা না পড়লে হঠাৎ বড় বিপদ ডেকে আনতে পারে।

বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, হার্টের ধমনীর ভিতরে ধীরে ধীরে কোলেস্টেরল ও চর্বি জমে যায়। একে বলা হয় ব্লকেজ। এই ব্লকেজ শুরুতে খুব কম থাকায় শরীর কোনও স্পষ্ট সংকেত দেয় না। ফলে মানুষ বুঝতেই পারেন না যে তাঁদের হার্টে সমস্যা তৈরি হচ্ছে। হঠাৎ একদিন ধমনী পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেলে হার্ট অ্যাটাক হতে পারে।

তরুণদের মধ্যে ঝুঁকি বাড়ার অন্যতম কারণ আধুনিক জীবনযাপন। চিকিৎসকদের মতে, ফাস্টফুড ও তেল-মশলাযুক্ত খাবার, শরীরচর্চার অভাব, ধূমপান, নেশাজাতীয় দ্রব্য, অতিরিক্ত মদ্যপান, দীর্ঘদিন মানসিক চাপ, কম ঘুম-এই সব অভ্যাস হার্টের উপর ধীরে ধীরে খারাপ প্রভাব ফেলে। 

হার্ট অ্যাটাকের লক্ষণ সব সময় তীব্র বুকব্যথা হিসেবেই আসবে, এমন নয়। অনেক সময় উপসর্গ খুব হালকা হয়। যেমন বুকে চাপ বা অস্বস্তি, শ্বাস নিতে কষ্ট, হঠাৎ ঘাম হওয়া, মাথা ঘোরা বা বমি ভাব, বাঁ হাত, ঘাড় বা চোয়ালে ব্যথা। অনেকে এগুলোকে গ্যাস বা অ্যাসিডিটির সমস্যা ভেবে এড়িয়ে যান, যা মারাত্মক হতে পারে।

হৃদরোগ বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রতিরোধই সবচেয়ে ভাল চিকিৎসা। তাই নিয়মিত রক্তচাপ, সুগার ও কোলেস্টেরল পরীক্ষা করা জরুরি। পাশাপাশি স্বাস্থ্যকর খাবার খাওয়া, নিয়মিত হাঁটা বা ব্যায়াম করা এবং ধূমপান ও মদ্যপান এড়িয়ে চলা প্রয়োজন।