অনেক সময় সকালে ঘুম থেকে উঠে দেখা যায় চোখ ফুলে আছে, চোখের পাতা ভারী লাগছে বা চোখ লাল হয়ে রয়েছে। যা বেশিরভাগ মানুষই ঘুম কম হওয়া, মোবাইল বেশি দেখা বা অ্যালার্জির সমস্যা বলে এড়িয়ে যান। কিন্তু চক্ষু বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ধরনের লক্ষণ থাইরয়েড সমস্যার প্রথম ইঙ্গিতও হতে পারে।
থাইরয়েড হল গলার সামনে থাকা একটি ছোট কিন্তু অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ গ্রন্থি। এই গ্রন্থি শরীরের শক্তি, ওজন, হার্টবিট, তাপমাত্রা এবং হরমোনের ভারসাম্য নিয়ন্ত্রণ করে। থাইরয়েড ঠিকমতো কাজ না করলে শরীরে নানা সমস্যা দেখা দেয়। আশ্চর্যের বিষয় হল, অনেক ক্ষেত্রে থাইরয়েডের প্রভাব প্রথমে চোখেই দেখা যায়।
চিকিৎসকদের ব্যাখ্যা অনুযায়ী, থাইরয়েডের সমস্যা হলে শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কখনও কখনও ভুলভাবে চোখের চারপাশের পেশি ও টিস্যুকে আক্রমণ করে। এর ফলে চোখের পাতা ফুলে যায়, চোখ লাল হয়, জ্বালা করে বা অতিরিক্ত জল পড়তে শুরু করে। কারও কারও চোখ আবার স্বাভাবিকের চেয়ে বড় বা বাইরে বেরিয়ে আসা মতো দেখাতে পারে।
এই সমস্যাকে চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় বলা হয় থাইরয়েড আই ডিজিজ। এটি বিশেষ করে হাইপারথাইরয়েড বা গ্রেভস ডিজিজে আক্রান্তদের মধ্যে বেশি দেখা যায়। অনেক সময় শরীরের অন্য লক্ষণ যেমন ওজন কমা বা বেড়ে যাওয়া, ঘাম বেশি হওয়া, দুর্বলতা দেখা দেওয়ার আগেই চোখের সমস্যা শুরু হয়। তাই চোখের পরিবর্তনকে হালকাভাবে নেওয়া ঠিক নয়।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, নিচের লক্ষণগুলো যদি কয়েকদিনের বেশি সময় ধরে থাকে, তাহলে অবশ্যই সতর্ক হওয়া দরকার। যেমন চোখের পাতা দীর্ঘদিন ফুলে থাকা, চোখ লাল হওয়া বা জ্বালাপোড়া, চোখ শুকনো লাগা বা অতিরিক্ত জল পড়া, আলোতে চোখে অস্বস্তি হওয়া, চোখ পুরোপুরি বন্ধ করতে সমস্যা হওয়া। এই লক্ষণগুলো শুধু চোখের ড্রপ ব্যবহার করে সারানোর চেষ্টা করলে আসল সমস্যা ধরা পড়ে না। প্রয়োজনে চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে রক্ত পরীক্ষা করে থাইরয়েডের অবস্থা জানা জরুরি।
সময়মতো থাইরয়েড শনাক্ত হলে ও সঠিক চিকিৎসা শুরু হলে চোখের সমস্যা অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে আনা যায়। তাই চোখে হঠাৎ বা অস্বাভাবিক পরিবর্তন দেখা দিলে সেটিকে অবহেলা না করে দ্রুত চিকিৎসকের কাছে যাওয়াই শ্রেয়।
