আজকাল ওয়েবডেস্ক: বিশ্বজুড়ে ফের উদ্বেগ বাড়াচ্ছে হান্টাভাইরাস। বিশেষ করে এমভি হন্ডিয়াস ক্রুজ জাহাজে সম্ভাব্য হান্টাভাইরাস সংক্রমণের খবর সামনে আসতেই নতুন করে আতঙ্ক তৈরি হয়েছে। তবে চিকিৎসকরা স্পষ্ট জানাচ্ছেন, এই ভাইরাস কোভিড-১৯-এর মতো মানুষ থেকে মানুষে সহজে ছড়ায় না। তবুও এর ঝুঁকি অত্যন্ত গুরুতর, কারণ প্রাথমিক উপসর্গ সাধারণ জ্বরের মতো হলেও অল্প সময়ের মধ্যেই ফুসফুস ও কিডনি বিকল হয়ে যেতে পারে।


চিকিৎসকদের মতে, হান্টাভাইরাস মূলত ইঁদুর জাতীয় প্রাণীর শরীর থেকে মানুষের মধ্যে ছড়ায়। আক্রান্ত ইঁদুরের মূত্র, লালা বা মলের সংস্পর্শে এলে কিংবা সেই জীবাণুযুক্ত ধুলোবালি শ্বাসের মাধ্যমে শরীরে ঢুকলে সংক্রমণ হতে পারে। সাধারণত বনাঞ্চল, গুদামঘর, পুরনো বাড়ি বা যেখানে ইঁদুরের উপদ্রব বেশি, সেখানে ঝুঁকি বাড়ে।


বিশেষজ্ঞদের দাবি, এই ভাইরাসের প্রথম দিকের উপসর্গ খুবই সাধারণ। জ্বর, মাথাব্যথা, শরীরে ব্যথা, ক্লান্তি, ঠান্ডা লাগা বা বমিভাব দেখা দিতে পারে। অনেক ক্ষেত্রেই রোগীরা এটিকে সাধারণ ভাইরাল জ্বর বা ফ্লু ভেবে অবহেলা করেন। কিন্তু সমস্যার শুরু সেখানেই। কয়েক দিনের মধ্যেই সংক্রমণ মারাত্মক আকার নিতে পারে।


চিকিৎসকদের ব্যাখ্যা অনুযায়ী, হান্টাভাইরাস শরীরে ঢুকে প্রথমে রক্তনালীর উপর আক্রমণ চালায়। ফলে রক্তনালীর ভেতর থেকে তরল পদার্থ বেরিয়ে ফুসফুসে জমতে শুরু করে। এতে শ্বাসকষ্ট দ্রুত বাড়ে এবং রোগী মারাত্মক নিউমোনিয়ার মতো অবস্থায় পৌঁছে যেতে পারেন। একে বলা হয় “হান্টাভাইরাস পালমোনারি সিনড্রোম” । এই অবস্থায় রোগীর অক্সিজেনের মাত্রা দ্রুত কমে যেতে পারে এবং ভেন্টিলেশনের প্রয়োজন পড়ে।


অন্যদিকে কিছু ক্ষেত্রে কিডনিও গুরুতরভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। চিকিৎসা পরিভাষায় একে “হেমোরেজিক ফিভার উইথ রেনাল সিনড্রোম” বলা হয়। এতে কিডনির কার্যক্ষমতা কমে যায়, শরীরে জল জমে, রক্তচাপ হঠাৎ নেমে যেতে পারে এবং বহু অঙ্গ বিকল হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, হান্টাভাইরাসের কোনও নির্দিষ্ট অ্যান্টিভাইরাল ওষুধ এখনও নেই। তাই দ্রুত রোগ নির্ণয় ও সাপোর্টিভ চিকিৎসাই সবচেয়ে বড় অস্ত্র। সময়মতো হাসপাতালে ভর্তি হলে অক্সিজেন থেরাপি, আইসিইউ পর্যবেক্ষণ এবং তরল নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে অনেক রোগীকে বাঁচানো সম্ভব।


চিকিৎসকদের পরামর্শ, যেখানে ইঁদুরের উপদ্রব রয়েছে সেখানে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা অত্যন্ত জরুরি। ইঁদুরের মল বা নোংরা পরিষ্কার করার সময় মাস্ক ও গ্লাভস ব্যবহার করা উচিত। শুকনো ধুলো ঝাড়ার বদলে জীবাণুনাশক স্প্রে ব্যবহার করাই নিরাপদ।

 

&t=136s
বিশ্ব স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা মনে করিয়ে দিচ্ছেন, হান্টাভাইরাস কোভিডের মতো মহামারির রূপ না নিলেও এটি অত্যন্ত প্রাণঘাতী হতে পারে। তাই উপসর্গকে হালকাভাবে না নিয়ে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়াই সবচেয়ে নিরাপদ পথ।