মাথাব্যথা হলে অনেকেই কাজের চাপ, ঘুমের অভাব বা সাধারণ সমস্যা বলে এড়িয়ে যান। কিন্তু জানলে অবাক হবেন দীর্ঘদিন ধরে চলা মাথাব্যথা চোখের গুরুতর রোগের লক্ষণ হতে পারে। এমনকী সময়মতো চিকিৎসা না হলে এমন সমস্যা ধীরে ধীরে দৃষ্টি হারানোর ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।

চক্ষু বিশেষজ্ঞদের মতে, কিছু মাথাব্যথার সঙ্গে সরাসরি চোখের রোগের যোগ থাকে। বিশেষ করে গ্লুকোমা নামের একটি চোখের রোগে এই সমস্যা দেখা দিতে পারে। গ্লুকোমাকে অনেক সময় 'চোখের নীরব ঘাতক' বলা হয়, কারণ এই রোগ বছরের পর বছর কোনও স্পষ্ট লক্ষণ ছাড়াই বাড়তে থাকে।

কী এই গ্লুকোমা? গ্লুকোমা হল এমন একটি রোগ, যেখানে চোখের ভেতরের চাপ ধীরে ধীরে বেড়ে যায়। এই অতিরিক্ত চাপ চোখের অপটিক নার্ভকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। ফলে ধীরে ধীরে দৃষ্টিশক্তি কমতে শুরু করে। সবচেয়ে বিপজ্জনক দিক হল, এই দৃষ্টিশক্তির ক্ষতি একবার হলে আর ফেরানো যায় না।

কেন মাথাব্যথাকে গুরুত্ব দেওয়া জরুরি? চিকিৎসকদের মতে, গ্লুকোমার প্রাথমিক পর্যায়ে অনেক সময় তীব্র চোখের ব্যথা থাকে না। শুধু মাথার একপাশে বা চোখের চারপাশে চাপ ধরা ব্যথা অনুভূত হতে পারে। অনেকে ব্যথানাশক খেয়ে আরাম পেলেই বিষয়টি ভুলে যান। কিন্তু এর মধ্যেই রোগটি ধীরে ধীরে বাড়তে থাকে।

সেক্ষেত্রে বেশ কয়েকটি লক্ষণ দেখলে সতর্ক হওয়া জরুরি। যেমন বারবার বা দীর্ঘদিন ধরে মাথাব্যথা, চোখের চারপাশে ভারী ভাব বা চাপ, আলো দেখলে চারদিকে রিং দেখা, ঝাপসা দেখা বা দৃষ্টি কমে যাওয়া, চোখে অস্বস্তি বা জ্বালাপোড়া। এই লক্ষণগুলি সবসময় গ্লুকোমার কারণেই হবে এমন নয়, তবে পরীক্ষা না করালে আসল কারণ ধরা পড়বে না।

কারা বেশি ঝুঁকিতে? চিকিৎসকদের মতে, কিছু মানুষের গ্লুকোমার ঝুঁকি বেশি। যাদের বয়স ৪০ বছরের বেশি, ডায়াবেটিস বা উচ্চ রক্তচাপ রয়েছে, পরিবারে আগে গ্লুকোমার ইতিহাস রয়েছে, দীর্ঘদিন স্টেরয়েড ওষুধ ব্যবহার করেছেন, চোখে আগে কোনও আঘাত লেগেছে। 

কী করলে চোখ বাঁচানো সম্ভব?বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গ্লুকোমা পুরোপুরি সারানো যায় না, কিন্তু সময়মতো ধরা পড়লে ওষুধ ও চিকিৎসার মাধ্যমে রোগের গতি কমানো সম্ভব। নিয়মিত চোখ পরীক্ষা করলে এই রোগ আগেই ধরা পড়ে এবং দৃষ্টি রক্ষা করা যায়।

মাথাব্যথাকে সব সময় হালকা করে দেখবেন না। যদি ব্যথা নিয়মিত হয় বা চোখের সঙ্গে কোনও অস্বস্তি থাকে, তাহলে দেরি না করে চক্ষু বিশেষজ্ঞের কাছে পরীক্ষা করান।