আজকাল ওয়েবডেস্ক: বর্ষাকালে জ্বর-সর্দি-কাশির পাশাপাশি আরও একটি সমস্যায় ভোগেন অনেকেই - কানের সংক্রমণ। বাচ্চা থেকে বুড়ো, সব বয়সের মানুষের মধ্যেই এই সমস্যা দেখা দিতে পারে। আর একবার কানে সমস্যা হওয়া মানেই কানের ব্যথা, জল জমা বা কানে পুঁজ হওয়ার মতো হাজার ভোগান্তি। অনেক সময় তো কানের সমস্যা থেকে জ্বর, মাথাব্যথা এমনকি শ্রবণশক্তির ক্ষতিও হতে পারে।
বর্ষাকালে কানের সংক্রমণ বাড়ে কেন?
আর্দ্রতা: বর্ষায় পরিবেশে আর্দ্রতার পরিমাণ বেড়ে যায়। এতে কানের অভ্যন্তরে ঘাম বা অন্যান্য জলীয় পদার্থ বেড়ে যায়, যা জীবাণু বৃদ্ধির জন্য আদর্শ পরিবেশ তৈরি করে।
বৃষ্টির জল বা পুলের জল কানে প্রবেশ: বৃষ্টিতে ভিজলে বা সাঁতার কাটলে অনেক সময় কানে জল ঢুকে যায়। আর একবার জল ঢুকলে সংক্রমণ হওয়ার সম্ভাবনা অনেক বেড়ে যায়।
ঠান্ডা ও সর্দির সংক্রমণ: বর্ষায় ঠান্ডা লাগা বা সর্দি হলে তার সংক্রমণ মাঝেমধ্যে ইউস্টেশিয়ান টিউব দিয়ে কানে পৌঁছে যায় এবং মধ্যকর্ণে প্রদাহ সৃষ্টি করে।
এই সংক্রমণ প্রতিরোধে কী করবেন?
১. কানে জল ঢুকতে দেবেন না: বৃষ্টিতে ভিজলে বা স্নানের পরে অবশ্যই কানের ভেতর শুকনো তুলো বা মাইক্রোফাইবার কাপড় দিয়ে আলতো করে মুছে নিন।
২. কটন বাড ব্যবহার এড়িয়ে চলুন: কান খোঁচানোর সময় অতিরিক্ত গভীরে কটন বাড ঢুকালে কানের প্রাকৃতিক তেল সরে যায়। ফলে সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়ে। কেবল বাইরের অংশ পরিষ্কার করাই যথেষ্ট।
৩. সাঁতার কাটার সময় ইয়ারপ্লাগ ব্যবহার করুন: জল কানে প্রবেশ রোধে সিলিকন ইয়ারপ্লাগ বা ওয়াটারপ্রুফ কভার ব্যবহার করুন। সুইমিং পুল বা পুকুরে বর্ষাকালে বাইরের জল মেশে যা জীবাণুর সংক্রমণের আশঙ্কা অনেকটাই বাড়ায়।
৪. ঘরোয়া প্রতিকার: আয়ুর্বেদ মতে আদার রস বা রসুনের তেল হালকা গরম করে প্রয়োগ করলে কানের ব্যাকটেরিয়া দূর হয় (তবে চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া কানে কিছু না দেওয়াই ভাল)।
৫. ঠান্ডা-সর্দি হলে দ্রুত চিকিৎসা করান: সর্দি থেকে কানে সংক্রমণ ছড়াতে পারে, তাই প্রথম অবস্থাতেই চিকিৎসা করা জরুরি।