শুধু খাবারের ধরন নয়, খাওয়ার সময়ও স্বাস্থ্যের ওপর প্রভাব ফেলে। তাই তো অনেক সময় স্বাস্থ্যকর খাবার খেয়েও হানা দেয় জটিল রোগ। বিশেষ করে রাতের খাবার দেরিতে খেলে শরীরের হরমোন, রক্তের শর্করা এবং ঘুমের সমস্যা দেখা দিতে পারে। তাই ডিনারের সময় ঠিক রাখা অত্যন্ত জরুরি।
বিশেষজ্ঞদের মতে, আমাদের শরীরের ভেতরে একটি ঘড়ি থাকে, যা দিনের বিভিন্ন সময় হজম, ঘুম ও হরমোনের কাজ নিয়ন্ত্রণ করে। রাতের খাবার যদি সন্ধে ৯টার পরে খাওয়া হয়, তাহলে শরীর শর্করা নিয়ন্ত্রণ করতে সমস্যার সম্মুখীন হয় এবং মেটাবলিজমের গতি কমে যায়। এদিকে একই সময়ে শরীর ঘুমের হরমোন মেলাটোনিন বাড়ায়, তাই দেরিতে খাওয়া মানে শরীর বিশ্রাম নেওয়ার সময়েও হজমে ব্যস্ত থাকে। ফলে ঘুমের মান কমে যায়, সকালে ক্লান্তি ও ফোলাভাবের সমস্যা দেখা দিতে পারে।
গবেষণা বলছে, যারা রাতের খাবার সন্ধে ৭টার মধ্যে শেষ করেন, তাদের রাতের রক্তে শর্করা কম থাকে এবং ইনসুলিন ঠিকভাবে কাজ করে। এতে ঘুমের মানও ভাল থাকে। শরীর যখন ঘুমের জন্য প্রস্তুত, তখন হজমের কাজ কম হলে সবকিছু স্বাভাবিকভাবে চলে।
বিশেষ করে যাদের ডায়াবেটিস, প্রিডায়াবেটিস বা লিভারের সমস্যা রয়েছে, তাদের জন্য সময়মতো ডিনার করা খুব গুরুত্বপূর্ণ। দেরিতে খেলে রক্তে শর্করার মাত্রা দ্রুত বেড়ে যেতে পারে, যা নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন।
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা রাতের খাবার যেন সন্ধে ৭ টার আগে শেষ করার পরামর্শ দেন। এছাড়া খাওয়ার পর দু’ঘণ্টা শুতে না গিয়ে খানিকক্ষণ হাঁটা বা হালকা কাজ করলে হজম আরও ভাল হয়।
ডিনারের সময় ঠিক রাখা শুধু ওজন নিয়ন্ত্রণের জন্য নয়, একইসঙ্গে শরীরের হরমোন ভারসাম্য, রক্তের শর্করা এবং ঘুমের মান ঠিক রাখার জন্যও গুরুত্বপূর্ণ। শরীরের অভ্যন্তরীণ ঘড়ির সঙ্গে মিল রেখে খেলে স্বাস্থ্যের অনেক উপকার হয়।
