শীতকালে কফিপ্রেমীদের জন্য একটি দারুণ বিকল্প হতে পারে ঘি-ওয়ালা কফি। ঘি মেশানো কফি শুধু সুস্বাদুই নয়, স্বাস্থ্যের পক্ষেও বেশ উপকারী। কফিতে এক চামচ দেশি ঘি মেশালে সারাদিন শরীর চাঙ্গা থাকে। আসলে ঘি-সহ কফি পান করলে শরীর ভেতর থেকে উষ্ণ থাকে, যা শীতকালে খুবই উপকারী।

ঘি-ওয়ালা কফি ত্বককে ময়েশ্চারাইজ করে এবং স্বাভাবিক উজ্জ্বলতা এনে দেয়। এটি হজমশক্তি বাড়ায় এবং ওজন কমাতেও সহায়ক হতে পারে। বিজ্ঞান অনুযায়ী, ঘিয়ের মধ্যে থাকা ভাল ফ্যাট ও ভিটামিন শরীরের মেটাবলিজম এবং রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা শক্তিশালী করে।

শীতকালে ঠান্ডা ও শুষ্ক আবহাওয়ার কারণে ত্বকের আর্দ্রতা কমে যায়, ফলে ত্বক রুক্ষ ও নিষ্প্রভ হয়ে পড়ে। ঘিয়ের মধ্যে থাকা ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড ও ভিটামিন এ ত্বককে ভিতর থেকে হাইড্রেট করে। প্রতিদিন সকালে ঘি-সহ কফি পান করলে ত্বক ভেতর থেকে পুষ্টি পায় এবং স্বাভাবিক গ্লো ফিরে আসে। বিশেষ করে যাদের ত্বক শীতে খুব বেশি শুষ্ক হয়ে যায়, তাদের জন্য এই কফি বেশ উপকারী।

দেশি ঘিয়ের স্বভাবগত গুণই হল শরীরে উষ্ণতা বজায় রাখা। কালো কফির সঙ্গে ঘি মিশিয়ে পান করলে শরীরের তাপমাত্রা স্থির থাকে। এতে শীতকালে ঘনঘন অসুস্থ হওয়ার ঝুঁকি কমে এবং ঠান্ডাজনিত ক্লান্তিও কম অনুভূত হয়। বৈজ্ঞানিকভাবে বলা যায়, ঘি শরীরের ভেতরের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে, ফলে এনার্জি লেভেলও স্থির থাকে।

ঘি-সহ কফি হজম প্রক্রিয়াও উন্নত করে। অনেকের ক্ষেত্রে কফি খাওয়ার পর বুকজ্বালা বা অ্যাসিডিটির সমস্যা দেখা দেয়। ঘি প্রাকৃতিক লুব্রিকেন্টের মতো কাজ করে, যা খাবার সহজে হজম করতে সাহায্য করে। নিয়মিত পান করলে কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যা কমে এবং অন্ত্রের কার্যক্ষমতা বাড়ে। হজম ভাল হলে তার ইতিবাচক প্রভাব শরীরের অন্যান্য অঙ্গেও পড়ে।

শীতকালে ঘি-ওয়ালা কফি শুধু এক কাপ পানীয় নয়, বরং শরীর ও ত্বকের জন্য একটি স্বাস্থ্যকর অভ্যাস। এটি যেমন ভিতর থেকে উষ্ণতা জোগায়, তেমনই হজমশক্তি বাড়ায়, ত্বকে আনে স্বাভাবিক উজ্জ্বলতা এবং সারাদিন এনার্জি ধরে রাখতে সাহায্য করে। তবে মনে রাখতে হবে, যে কোনও ভালও জিনিসই পরিমিত পরিমাণে উপকারী। তাই নিজের শরীরের প্রয়োজন বুঝে এবং প্রয়োজনে বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিয়ে ঘি-সহ কফিকে শীতের রুটিনে অন্তর্ভুক্ত করলে এর সবচেয়ে ভাল উপকারিতা পাওয়া সম্ভব। তবে কারও যদি বিশেষ কোনও স্বাস্থ্যসমস্যা থাকে, তাহলে এই কফি পান করার আগে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।