সময়ের সঙ্গে সঙ্গে প্রতিটি সম্পর্ক তার রসায়ন বদলায়। কখনও তাতে করছে ধরে, কখনও একঘেয়ে হয়ে ওঠে। রোজকার কাজ, দায়, দায়িত্ব সামলাতে গিয়ে মানসিক যোগাযোগ কমতে থাকে। রসায়ন ফিকে হয়। স্ট্রেসও খানিক দায়ী এর জন্য। ফলে দেখা যাচ্ছে বর্তমান সময়ে অনেকেই বিয়ের মাত্র এক, দুই বছরের মধ্যে দাম্পত্য জীবনে ইতি টানছেন। কেউ কেউ তো আবার কুড়ি, পঁচিশ বছর একসঙ্গে থাকার পর আলাদা হচ্ছেন। কিন্তু অনেকেই এমন আছেন যে হাল ছাড়তে চান না, শেষ চেষ্টা করতে চান সম্পর্ক বাঁচানোর জন্য। আপনিও যদি সেই একই দলে পড়েন তাহলে জেনে নিন কোন উপায়ে বিয়ে বাঁচাতে পারেন।
না, সম্পর্ক টিকিয়ে রাখার জন্য কোনও ঢাকঢোল পিটিয়ে বিশেষ কিছু করতে হবে না। বরং সহজ এবং সাধারণ কিছু টিপস মেনে চললেই সমস্যা দূর হবে। জেনে নিন বিশেষজ্ঞ কী বলছেন।
এক জনপ্রিয় ডিভোর্স লইয়ারের মতে বিয়ে বাঁচানোর সবথেকে গুরুত্বপূর্ণ উপায় হল 'ওয়াক অ্যান্ড টক'। অর্থাৎ একসঙ্গে হাঁটতে যান এবং কথা বলুন। ওই যে 'কণ্ঠ' সিনেমায় একটা সংলাপ আছে, 'কত সম্পর্ক ভেঙে গিয়েছে কেবল কথা বলা হয়নি বলে।' এক্ষেত্রে সেটাই যেন বাস্তব। দৈনন্দিন জীবনে সংসারে কী লাগবে, কাজের কথা, সন্তান থাকলে তার পড়াশোনার কথা মোদ্দাকথায় কেজো কথা বাদ দিয়ে নিজেদের কথা বলুন।
তাঁর কথা অনুযায়ী, প্রতি সপ্তাহে অন্তত দুই দিন হাঁটতে যান। এই সময় অন্য কোনও নয়, বরং সেই কথাই বলুন যে বাকি দিনগুলোতে তাঁরা একে অন্যের জন্য কী এমন করেছেন যাতে উল্টো দিকের মানুষটি ভাল থাকে, বা তার ভালবাসা বুঝতে পারেন। কথা বলুন নিজেদের অতীতের কোনও সুন্দর সময় নিয়ে। রোজকার একঘেয়ে জীবনযাপন, অভ্যাসে অনেক সময় সঙ্গীর জন্য বিশেষ কোনও জিনিস করা হলেও, খেয়াল রেখে আগলে রাখলেও সেটা আলাদা ভাবে নজর কাড়ে না। তখনই মনে হয় যে 'ও তো আমায় ভালবাসে না।' এই ভাবনা তাড়ানোর জন্য এই আলোচনা জরুরি।
এই ডিভোর্স লইয়ার জানিয়েছেন এভাবে হাঁটতে গিয়ে কথা বললে যেমন একে অন্যকে সময় দেওয়া হয়, তেমনই এখনও যে তাঁরা একে অন্যের জন্য ভাবেন, বা ভাল রাখার চেষ্টা করেন সেটা প্রকাশ পায়। তিনি এও জানিয়েছেন তাঁর কাছে যে বিবাহিত জুটিরা ডিভোর্সের আবেদন করে এসেছিলেন তাঁদের অনেকেই এই টোটকা মেনে চলে সুফল পেয়েছেন। ডিভোর্সের পরিকল্পনা বাদ দিয়ে একসঙ্গে সংসার করেছেন। এই বিশেষজ্ঞের মতে, এটা সম্ভব হয় কারণ সেই সময় তাঁরা ছাড়া তৃতীয় কোনও ব্যক্তি থাকেন না। নিজেরা স্বাধীন ভাবে, খোলাখুলি কথা বলতে পারেন। সমস্যা, জটিলতা নিয়ে আলোচনা করে সেগুলো মিটিয়ে নিতে পারেন। সমস্যা ছোট থাকাকালীন সেটা যদি মিটে যায়, বড় আকার ধারণ করবে না, ফলে উঠবে না ডিভোর্সের প্রসঙ্গও।
এই 'ওয়াক অ্যান্ড টক' বিষয়টাকে অভ্যাসের মধ্যে নিয়ে আসা জরুরি বলেই মনে করেন আইনজীবী। সম্পর্কের রং ফিকে হয়ে গিয়েছে, শুরুর দিকে স্পার্ক হারিয়েছে কিন্তু তাও হাল ছাড়তে ইচ্ছে করছে না? তাহলে একবার এই টিপস মেনে দেখবেন নাকি?
