এক উত্তাল জাতি: ইসলামিক প্রজাতন্ত্রের ভঙ্গুর অর্থনীতির কারণে ইরানে ছড়িয়ে পড়া বিক্ষোভ দেশটির ধর্মতান্ত্রিক সরকারের ওপর চাপ সৃষ্টি করছে। এই বিক্ষোভগুলো আকাশছোঁয়া মূল্যবৃদ্ধি এবং ইরানি মুদ্রা রিয়ালের পতনের প্রতি গভীর হতাশার প্রতিফলন। রিয়াল এখন মার্কিন ডলারের নিরিখে প্রায় ১.৪ মিলিয়নে লেনদেন হচ্ছে। এই নাটকীয় পতন সাধারণ ইরানিদের ক্রয়ক্ষমতাকে মারাত্মকভাবে হ্রাস করেছে।
2
8
আয়াতুল্লা আলি খামেইনি দেশ ছেড়ে পালাতে পারেন: সর্বশেষ প্রতিবেদন অনুসারে, আয়াতুল্লাহ আলি খামেইনির দেশ ছেড়ে পালানোর একটি বিকল্প পরিকল্পনা রয়েছে। প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে যে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা সিরিয়ার বাশার আল-আসাদের মতোই মস্কোতে পালিয়ে যেতে পারেন। ইরানজুড়ে বিক্ষোভ এখন দ্বিতীয় সপ্তাহে পড়েছে।
3
8
বিক্ষোভের প্রধান কারণ হিসেবে অর্থনৈতিক সংকটকে দায়ী করা হচ্ছে। বিক্ষোভগুলো প্রাথমিকভাবে ইরানের ভঙ্গুর অর্থনীতির কারণে শুরু হয়েছিল। সেদেশে মুদ্রাস্ফীতি ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে, প্রকৃত আয় তীব্রভাবে হ্রাস পেয়েছে। রিয়ালের তীব্র পতনের ফলে খাদ্য ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বেড়েছে, যা ব্যবসায়ী, শ্রমিক এবং শিক্ষার্থী- সকলের মধ্যে হতাশা বাড়িয়েছে। ইরানে বার্ষিক মুদ্রাস্ফীতির হার প্রায় ৪০ শতাংশ। সমবাদ সংস্থা এপি-র প্রতিবেদন অনুসারে, বছরের পর বছর ধরে সেদেশের জনগণের মধ্যে ক্ষোভ দানা বাঁধছিল, বিশেষ করে ২০২২ সালে ২২ বছর বয়সী মাহসা আমিনির পুলিশ হেফাজতে মৃত্যুর পর দেশব্যাপী বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছিল।
4
8
সর্বশেষ পরিসংখ্যান: মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র-ভিত্তিক হিউম্যান রাইটস অ্যাক্টিভিস্টস নিউজ এজেন্সির মতে, বিক্ষোভ ইরানের ৩১টি প্রদেশের মধ্যে ২৬টির ২২০টিরও বেশি জায়গায় ছড়িয়ে পড়েছে। এতে অন্তত ২০ জন নিহত এবং ৯৯০ জনেরও বেশি গ্রেপ্তার হয়েছেন। এপি জানিয়েছে, ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম বিক্ষোভ সম্পর্কে খুব কম তথ্য দিয়েছে, তাই বিক্ষোভের মাত্রা বোঝা কঠিন হয়ে পড়েছে।
5
8
আন্তর্জাতিক চাপ এবং নতুন ক্ষত: তেহরান এখনও গত জুনে ইজরায়েলের সঙ্গে ১২ দিনের সংঘাতের ধাক্কা পুরোপুরি সামলে উঠতে পারেনি। এই অস্থিরতা ঠিক সেই সময়েই ঘটল। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ইরানের পারমাণবিক স্থাপনাগুলিতে বিমান হামলা চালিয়েছিল। এখন, মার্কিন সৈন্যরা তেহরানের দীর্ঘদিনের 'বন্ধু' ভেনিজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে বন্দি করার পর, মার্কিন প্রেসিডেন্ট শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভকারীদের দমন করার জন্যদমন-পীড়ন না করার বিষয়ে ইরানকে সতর্ক করেছেন। ট্রাম্প বলেছেন, ওয়াশিংটন পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে এবং ইরানি কর্তৃপক্ষ যদি সাধারণ নাগরিকদের হত্যা শুরু করে, তবে ওয়াশিংটনও দৃঢ়ভাবে প্রতিক্রিয়া জানাবে।
6
8
পারমাণবিক উত্তেজনা এবং নিষেধাজ্ঞার প্রভাব: ইরান তার বিতর্কিত পারমাণবিক কর্মসূচির কারণে এমনিতেই বেশ চাপে রয়েছে। নতুন করে নিষেধাজ্ঞা এবং কূটনৈতিক সংঘাতের মুখে ইরান। সেপ্টেম্বরে ইরানের পারমাণবিক কার্যকলাপের জন্য রাষ্ট্রসংঘ নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছিল। ফলে সেদেশে বিদেশি বিনিয়োগ কমেছে, ইরানি পণ্যেরও বিশ্ব বাজারে প্রবেশাধিকার সীমিত হয়েছে। অর্থনৈতিক মন্দা জনগণের ক্ষোভকে বাড়িয়ে তুলেছে। যা আঁচ করে তেহরান আলোচনার ইঙ্গিত দিতে সচেষ্ট। যার মধ্যে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ না করার একটি বিবৃতিও রয়েছে। তবে অর্থপূর্ণ আলোচনা এখনও এগোয়নি।
7
8
ইরানের জোট দুর্বল হয়ে পড়েছে: ইরানের 'প্রতিরোধের অক্ষ', যা ২০০৩ সালে মার্কিন নেতৃত্বাধীন ইরাক আক্রমণ এবং পরবর্তী দখলের বছরগুলোতে খ্যাতি লাভ করেছিল, তা এখন টালমাটাল অবস্থায় রয়েছে। এই স্ব-ঘোষিত অক্ষটি তেহরান সমর্থিত দেশ এবং জঙ্গি গোষ্ঠীগুলোর একটি জোট। তবে, ২০২৩ সালে ইজরায়েল-হামাস যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে এই জোট ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এপি জানিয়েছে যে, যদিও চীন ইরানের অপরিশোধিত তেলের একটি প্রধান ক্রেতা, তবে তারা দেশটিকে প্রকাশ্যে কোনও সামরিক সহায়তা দেয়নি, এমনকী রাশিয়াও দেয়নি, যারা ইউক্রেনের বিরুদ্ধে যুদ্ধে ইরানি ড্রোন ব্যবহার করেছে।
8
8
সরকারের প্রতিক্রিয়া এবং অভ্যন্তরীণ চাপ: ইরানের নেতৃত্ব এই বিক্ষোভের নিন্দা করেছে, সর্বোচ্চ নেতা খামেইনি দাবি করেছেন যে 'দাঙ্গাকারীদের উচিত শিক্ষা দিতে হবে', এই বিবৃতিটি সম্ভবত নিরাপত্তা বাহিনীর জন্য জোরপূর্বক পদক্ষেপ নেওয়ার সবুজ সংকেত হিসেবে ব্যাখ্যা করা হচ্ছে। সরকার এই অস্থিরতা সিংহভাগই বাইরের শত্রুদেরমদতপুষ্ট বলে জানিয়েছে। যদিও বিক্ষোভকারীরা অর্থনৈতিক ত্রাণ এবং রাষ্ট্রের ক্ষমতাধারীদের জবাবদি চেয়েছেন।