আজকাল ওয়েবডেস্ক: আক্রমণ, প্রেসিডেন্টকে অপহরণ। ভেনেজুয়েলার উপর মার্কিন আক্রমণের ঘটনায় চাঞ্চল্য ভূরাজনীতিতে। এক এক দেশ, তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে। এর মাঝেই সামনে এসেছে, পরিস্থিতি প্রসঙ্গে ভারতের অবস্থান।

রবিবার, ভেনেজুয়েলার সাম্প্রতিক ঘটনাবলি সম্পর্কে বিবৃতি দিয়েছে নয়া দিল্লি। তাতে উল্লিখিত, 'ভেনেজুয়েলার সাম্প্রতিক ঘটনাবলী গভীর উদ্বেগের বিষয়। আমরা পরিস্থিতির উপর গভীর নজর রাখছি। ভারত ভেনেজুয়েলার জনগণের সুরক্ষা ও নিরাপত্তার প্রতি তার সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করে। আমরা সংশ্লিষ্ট সকলকে আলোচনার মাধ্যমে শান্তিপূর্ণভাবে সমস্যাগুলি সমাধানের আহ্বান জানাই, যাতে এই অঞ্চলের শান্তি ও স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করা যায়। কারাকাসে ভারতীয় দূতাবাস ভারতীয় সম্প্রদায়ের সদস্যদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছে এবং সম্ভাব্য সকল সহায়তা প্রদান করবে।' 

 

অতর্কিতে ভেনেজুয়েলায় আক্রমণ করে থেমে থাকেনি মার্কিন মুলুক।দেশে, ঘরে ঢুকে, সে দেশের প্রেসিডেন্ট মাদুরো এবং তাঁর স্ত্রী সিলিয়া ফ্লোরেসকে অপহরণ করেছেন মার্কিন বাহিনী। শনিবার রাতে, আপহৃত মাদুরোর ছবি সামনে আসে। রবিবার সকালে জানা গিয়েছে, অপহৃত হওয়ার পর, শান্ত ভাষায় মাদুরো সকলকে 'হ্যাপি নিউ ইয়ার' জানিয়েছেন। রবিবার ভেনেজুয়েলার ঘটনা প্রসঙ্গে দ্বিতীয় বিবৃতি দিয়েছে চীন। জানিয়েছে, অবিলম্বে সস্ত্রীক মাদুরো'র মুক্তির দাবি জানিয়েছে বেজিং।  

 

গতকাল শনিবার ভোররাতে কারাকাসে বিমান হামলার পর ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো এবং তাঁর স্ত্রীকে বন্দি করে মার্কিন বাহিনী। ভেনেজুয়েলার রাজধানীতে বিস্ফোরণের কয়েক ঘণ্টা পরেই খোদ মার্কিন প্রেসিডেন্ট বিশ্বকে এই বার্তা দিয়েছিলেন। স্বাভাবিকভাবেই এক রাষ্ট্রপ্রধানের অপর রাষ্ট্রপ্রধানকে গ্রেপ্তারের ঘোষণায় চাঞ্চল্য ছড়ায় বিশ্বরাজনীতিতেও। শনিবার স্থানীয় সময় ভোর দু'টো থেকে কারাকাস জুড়ে বেশ কয়েকটি বিকট বিস্ফোরণের খবর আসার পরেই এই দাবিটি করা হয়। বাসিন্দারা জানান, বিস্ফোরণে শহরের একাধিক এলাকা কেঁপে ওঠে, মাথার বেশ নীচ দিয়ে বিমান উড়তে দেখা যায়, যার ফলে মানুষ রাস্তায় নেমে আসে। তারপরেই নিজের ট্রুথ সোশ্যাল প্ল্যাটফর্মে এক পোস্টে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বলেন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র 'ভেনেজুয়েলা এবং তাঁর নেতার বিরুদ্ধে সফলভাবে একটি বড় আকারের হামলা চালিয়েছে।' তিনি আরও বলেন, মার্কিন আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোর সহযোগিতায় পরিচালিত এক অভিযানে মাদুরো এবং তাঁর স্ত্রীকে হেফাজতে নিয়ে দেশ থেকে বাইরে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। ট্রাম্পের ভেনেজুয়েলার উপর হামলা চালানোর ঘটনার তীব্র নিন্দা করেছেন নিউ ইয়র্ক সিটির মেয়র জোহরান মামদানি।