আজকালকার এই ৯-৫ টার ইঁদুর দৌড়ে, শীততাপ নিয়ন্ত্রিত ঘরে বসে কাজ করতে গিয়ে অনেকের ফিটনেসের দফারফা হচ্ছে। ভুঁড়ি বাড়ছে, বাড়ছে ওজনও। এই সমস্যা থেকে মুক্তি পেতে এবং একই সঙ্গে নিজেদের ফিট রাখতে বহু মানুষ জিমে যান নিয়মিত। শরীর চর্চা করেন। কিন্তু কেবল উক্ত কারণ নয়, অনেকের মতে জিম করলে বাড়ে যৌন ক্ষমতাও। কিন্তু এই ধারণা কি আদৌ সত্যি? কী বলছেন বিশেষজ্ঞরা? 

সকলেই চান যাতে স্বাস্থ্য ভাল থাকে, সুগঠিত চেহারা হয়। সঠিক খাওয়া দাওয়া করা যায়। কিন্তু সকাল থেকেই যে তাড়া শুরু হয়, তার ঠেলায় শরীর চর্চা তো ছেড়েই দিন, অনেক সময় খাওয়া দাওয়াও সঠিকভাবে করা হয় না। পরিণাম ওজন, অলসতা বৃদ্ধি, অল্প কাজ করে হাঁপিয়ে যাওয়ার মতো সমস্যা। এমনকী কমে যায় যৌন চাহিদা এবং ক্ষমতা। সারাদিনের ক্লান্তির পর সঙ্গীর সঙ্গে ঘনিষ্ঠ হওয়ার বদলে ঘুমকেই প্রিয় মনে হয়। কখনও বা কাছাকাছি এলেও 'তৃপ্তি' পাওয়া যায় না। বিশেষ করে পুরুষদের মধ্যে দেখা যায় লাগাতার স্ট্রেস, উদ্বেগ, কাজের চাপের কারণে যৌন ক্ষমতা কমে যাওয়া। কখনও কখনও ইরেকটাইল ডিসফাংশন, ইত্যাদির মতো রোগ এবং সমস্যাও তৈরি হয়। আর এই সমস্ত সমস্যার কারণে নেতিবাচক প্রভাব পড়ে দাম্পত্য জীবনেও। সেখান থেকেই প্রশ্ন ওঠে তবে কি জিম বা নিয়মিত শরীর চর্চা যৌন ক্ষমতা এবং চাহিদা দুটোকেই বৃদ্ধি করে? যৌন রোগ এবং সমস্যাকে দূরে রাখে? 

বিশেষজ্ঞদের মতে, রোজ জিম বা শরীর চর্চা করলে উক্ত সমস্যা আদতেই অনেকটা কমে। কিন্ত তার সঙ্গে প্রয়োজন সঠিক ডায়েটের। তাঁদের মতে জিম করলে পেলভিক ফ্লোর শক্তিশালী হয়। ব্রিজ, স্কোয়্যাট, ইত্যাদির মতো ব্যায়াম করলে উপকার পাওয়া যায়। আর পেলভিক ফ্লোর শক্তিশালী হলে, স্ট্যামিনা বাড়ে। 
অনেকে ভয় পান যে প্রোটিন পাউডার স্বাস্থ্যের পক্ষে ক্ষতিকর, এতে সেক্স্যুয়াল স্ট্যামিনা কমে যায়। কিন্তু বিশেষজ্ঞের মতে, সেটা সত্য নয়। ব্যায়াম করলে বিছানায় পারফরমেন্স ভাল হয়। প্রোটিন পাউডার তাতে আখেরে সাহায্যই করে। 

এছাড়া নিয়মিত শরীর চর্চা করলে রক্ত চলাচল সঠিক থাকে। কার্ডিভাস্কুলার হেলথ ভাল থাকে। শরীর চর্চা টেস্টোস্টেরনের মাত্রা বাড়াতে সাহায্য করে। ইস্ট্রোজেনকে রেগুলেট করতে সাহায্য করে ব্যায়াম। পাশাপাশি কমায় স্ট্রেস হরমোন। ওজন কমায়, বাড়ায় হজমশক্তি। ফলে মেদ ঝরলে শরীর চনমনে থাকে। অল্পে ক্লান্তি আসে না। শরীর চর্চা স্ট্যামিনা বৃদ্ধি করে। ফলে বিভিন্ন ভাবেই শরীর চর্চা যৌন স্বাস্থ্যকে ভাল রাখে। 

শরীর চর্চার পাশাপাশি ডায়েটেও নজর দিন। ডার্ক চকোলেট, বিট, রসুন, বাদাম, ডিম, ইত্যাদি জাতীয় খাবার খান।