সুস্থতার জন্য শরীরচর্চার বিকল্প নেই। হাঁটা, ঘরে ফ্রি হ্যান্ড এক্সারসাইজ হোক কিংবা জিমে গিয়ে ভারী ওজন তোলা-নিয়মিত শারীরিকভাবে সক্রিয় থাকার পরামর্শ দেন চিকিৎসকেরা। কিন্তু কোনও কিছুই যে অতিরিক্ত ভাল নয়! যা প্রযোজ্য ব্যায়ামের ক্ষেত্রেও। আজকাল অত্যাধিক এক্সারসাইজ করতে গিয়ে শরীরের বিপদ ঘনিয়ে আসার খবর প্রায়ই নজরে আসে। ঠিক যেমনটা দেখা গিয়েছে চিনের এক তরুণীর ঘটনায়। ফিট থাকার নেশাই যেন তাঁর জীবনে বিপদ ডেকে আনে।
এক ২৩ বছর বয়সি তরুণীর ঋতুস্রাব অতিরিক্ত ব্যায়ামের অভ্যাসের জেরে পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়। চিকিৎসকেরা পরীক্ষায় দেখতে পান, তাঁর শরীরের হরমোনের মাত্রা ৫০ বছর বয়সি মহিলার মতো হয়ে গিয়েছে। যা স্বাভাবিকভাবে মেনোপজের সময় দেখা যায়। ঘটনাটিতে চিকিৎসকেরা তরুণীদের জন্য সতর্কবার্তা দিয়েছেন।
জানা গিয়েছে, ওই তরুণী দীর্ঘদিন ধরে প্রতিদিন ঘণ্টার পর ঘণ্টা কঠোর শরীরচর্চা করতেন। ফিটনেস বজায় রাখতে গিয়ে তিনি বিশ্রাম প্রায় নিতেন না। পাশাপাশি খাবারও ছিল কম ক্যালোরির। কয়েক মাস এভাবে চলার পর তিনি লক্ষ্য করেন, তাঁর পিরিয়ড বন্ধ হয়ে গেছে। প্রথমে বিষয়টিকে তিনি গুরুত্ব দেননি। কিন্তু সময় গড়ালেও ঋতুস্রাব না ফেরায় চিকিৎসকের শরণাপন্ন হন।
হাসপাতালে প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর চিকিৎসকেরা জানান, তাঁর শরীরে ইস্ট্রোজেন সহ গুরুত্বপূর্ণ হরমোনের মাত্রা অনেকটাই কমে গিয়েছে। এই ধরনের হরমোনের মাত্রা সাধারণত ৪৫ থেকে ৫০ বছর বয়সি মহিলাদের শরীরে দেখা যায়। চিকিৎসকদের মতে, অতিরিক্ত ব্যায়ামের কারণে শরীরে শক্তির ঘাটতি তৈরি হয়েছিল। ফলে মস্তিষ্ক থেকে হরমোন তৈরির সংকেত ঠিকভাবে কাজ করেনি, যার প্রভাব পড়েছে ঋতুচক্রে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, অতিরিক্ত ব্যায়াম করলে শরীর নিজেকে বাঁচাতে কিছু স্বাভাবিক কাজ বন্ধ করে দেয়। এর মধ্যে প্রথমেই প্রভাব পড়ে প্রজনন স্বাস্থ্যের ওপর। দীর্ঘদিন এভাবে চললে হাড় দুর্বল হওয়া, ভবিষ্যতে সন্তানধারণে সমস্যা, মানসিক অবসাদ ও শারীরিক দুর্বলতার ঝুঁকি বাড়ে।
প্রয়োজন অনুযায়ী তরুণীর চিকিৎসা শুরু করা হয়। কঠোর ব্যায়াম বন্ধ করে ধীরে ধীরে তরুণীকে স্বাভাবিক রুটিনে ফেরার পরামর্শ দেওয়া হয়। সুষম খাবার, পর্যাপ্ত ক্যালোরি গ্রহণ, নিয়মিত ঘুম ও বিশ্রামের উপর জোর দেন চিকিৎসকেরা। কয়েক মাস এই পরামর্শ মেনে চলার পর তাঁর শারীরিক অবস্থার উন্নতি হতে থাকে। হরমোনের মাত্রা ধীরে ধীরে স্বাভাবিকের দিকে আসে এবং ঋতুচক্র ফেরার লক্ষণ দেখা যায়।
এই ঘটনায় চিকিৎসকদের স্পষ্ট বার্তা দেন, ব্যায়াম অবশ্যই দরকার, কিন্তু তা হতে হবে সঠিক মাত্রায়। ফিট থাকার চেষ্টায় শরীরের সতর্ক সংকেত উপেক্ষা করা বিপজ্জনক হতে পারে। সুস্থ জীবনের জন্য ব্যায়াম, স্বাস্থ্যকর খাবার ও বিশ্রামের মধ্যে ভারসাম্য রাখা জরুরি।
