প্রতিদিনের জীবনে আমরা প্রায় সকলেই কোনও না কোনও স্কিন কেয়ার প্রোডাক্ট ব্যবহার করি। সাবান, শ্যাম্পু, ফেসওয়াশ, ময়েশ্চারাইজার বা ডিওডোরান্টের মতো প্রসাধনীর ব্যবহার দেখা যায় ঘরে ঘরে। অনেক সময় সোশ্যাল মিডিয়ায় দাবি করা হয়, এসব প্রসাধনীতে থাকা রাসায়নিক পদার্থ নাকি ক্যানসারের ঝুঁকি বাড়াতে পারে! যা নিয়ে মানুষদের মধ্যে উদ্বেগও দেখা যায়। তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বিষয়টি এতটা সহজ বা সরল নয়।


রায়পুরের এক অভিজ্ঞ ক্যানসার বিশেষজ্ঞ, যিনি প্রায় ২৫ বছর ধরে এই ক্ষেত্রে কাজ করছেন, জানিয়েছেন যে সাধারণ স্কিন কেয়ার প্রোডাক্ট ব্যবহার করলে সরাসরি ক্যানসার হয়, এমন কোনও জোরালো প্রমাণ এখনও পাওয়া যায়নি। অনেক সময় সোশ্যাল মিডিয়া বা ইন্টারনেটে ভুল তথ্য ছড়িয়ে পড়ে, যার ফলে মানুষ অযথা ভয় পেয়ে যান।

 

চিকিৎসকের মতে, স্কিন কেয়ার প্রোডাক্টকে মূলত দুই ধরনের ভাগে ভাগ করা যায়। প্রথমটি হল রিন্স-অফ প্রোডাক্ট। এগুলো সেই সব পণ্য, যেগুলো ব্যবহার করার পর দ্রুত ধুয়ে ফেলা হয়। যেমন সাবান, শ্যাম্পু, বডি ওয়াশ বা ফেসওয়াশ। এই ধরনের পণ্য ত্বকের উপর খুব অল্প সময় থাকে। তাই এগুলো থেকে ক্যানসারের ঝুঁকি থাকার আশঙ্কা খুবই কম


দ্বিতীয় ধরনের পণ্য হল লিভ-অন প্রোডাক্ট। এগুলো ত্বকে দীর্ঘ সময় ধরে থাকে। যেমন ময়েশ্চারাইজার, লোশন, সানস্ক্রিন, ডিওডোরান্ট বা পারফিউম। এই ধরনের কিছু প্রসাধনীতে প্যারাবেন বা ফথ্যালেটসের মতো রাসায়নিক থাকতে পারে। কিছু গবেষণায় বলা হয়েছে, এসব উপাদান হরমোনের উপর সামান্য প্রভাব ফেলতে পারে। তবে বর্তমানে যে পরিমাণে এই উপাদানগুলো প্রসাধনীতে ব্যবহার করা হয়, তা মানুষের শরীরে ক্যানসার তৈরি করে, এমন নির্ভরযোগ্য বৈজ্ঞানিক প্রমাণ এখনো পাওয়া যায়নি।

 

বিশেষজ্ঞরা আরও জানান, বাজারে পাওয়া অধিকাংশ নামী ব্র্যান্ডের প্রসাধনী সেফটি পরীক্ষার পরই বিক্রি করা হয়। তাই সাধারণভাবে এগুলো ব্যবহার করা নিরাপদ বলেই ধরা হয়। তবে যে কোনও পণ্য অতিরিক্ত ব্যবহার করা বা খুব নিম্নমানের পণ্য ব্যবহার করা ঠিক নয়।


এছাড়া কিছু ফেয়ারনেস ক্রিম বা ত্বক ফর্সা করার পণ্যে ক্ষতিকর উপাদান থাকতে পারে। কিছু ক্ষেত্রে এতে পারদ বা স্টেরয়েডের মতো উপাদান পাওয়া গিয়েছে, যা দীর্ঘদিন ব্যবহার করলে ত্বক ও শরীরের ক্ষতি করতে পারে। তাই এধরনের পণ্য ব্যবহারের ক্ষেত্রে সতর্ক থাকা জরুরি।


সব মিলিয়ে চিকিৎসকেরা মনে করেন, স্কিন কেয়ার প্রোডাক্ট নিয়ে অযথা আতঙ্কিত হওয়ার প্রয়োজন নেই। ভাল ব্র্যান্ডের পণ্য ব্যবহার করা, উপাদানের তালিকা দেখে নেওয়া এবং ত্বকে কোনও সমস্যা হলে