দীর্ঘদিন ধরে, ডায়াবিটিস, ফ্যাটি লিভার, এবং হৃদরোগ নিয়ে আলোচনার সময় ওজন কমানোর পরামর্শ দেওয়া হয়৷ ওজন নিয়ন্ত্রণে থাকলে বিপাকক্রিয়া ভাল হয়৷ কিন্তু বিপাকীয় প্রদাহ নিঃশব্দে শরীরে হানা দেয়৷ আপনি অনুভব করতেও পারবেন না কিন্তু ধীরে ধীরে শরীরে শর্করার মাত্রা বৃদ্ধি করে৷ মেদ জমায় এবং রক্তনালীগুলিকে প্রভাবিত করে। ডায়াবিটিস, ফ্যাটি লিভার এবং হৃদরোগ একে অপরের সঙ্গে যুক্ত৷ এই সমস্ত রোগের ক্ষেত্রে বিপাকক্রিয়া এবং লিভার বা যকৃৎ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে৷ 

যখন শরীর নিয়মিতভাবে প্রয়োজনের তুলনায় বেশি পরিমাণে পরিশোধিত কার্বোহাইড্রেট, শর্করা এবং অতিরিক্ত ক্যালোরি গ্রহণ করে, তখন লিভার এই অতিরিক্ত শক্তিকে চর্বিতে রূপান্তর করে৷ ধীরে ধীরে লিভারের কোষে চর্বি জমা হয়, যা ফ্যাটি লিভার রোগ সৃষ্টি করে৷ এর থেকেই ধীরে ধীরে প্রদাহ সৃষ্টি হয়৷ এই প্রদাহ থেকে ইনসুলিনের মাত্রা অনিয়ন্ত্রিত হয়ে পড়ে৷ যার ফলে শরীরের রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন হয়ে পড়ে।

 ইনসুলিন প্রতিরোধ ক্ষমতা খারাপ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে অগ্ন্যাশয়ের কাজ করার ক্ষমতা কমে যায়৷ এর ফলেও রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা বাড়তে শুরু করে। এই প্রদাহ ধমনীগুলির ক্ষতি করে এর ফলে হৃদরোগ এবং স্ট্রোকের ঝুঁকি বাড়ে৷ 

খাদ্যাভ্যাস এই প্রদাহকে ত্বরান্বিত করে। উচ্চ প্রক্রিয়াজাত পণ্য, অতিরিক্ত চিনি, পরিশোধিত ময়দার খাবার এবং ঘন ঘন চিনিযুক্ত পানীয় খেলে এই প্রদাহ দ্রুত বাড়ে৷ এগুলি রক্তে শর্করার মাত্রা বাড়ায়৷ অন্যদিকে, শাকসবজি, ডাল, বাদাম, স্বাস্থ্যকর খাবার প্রদাহকে নিয়ন্ত্রণে রাখে৷ এই খাবারগুলিতে ফাইবার, অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট এবং উপকারী চর্বি থাকে যা অক্সিডেটিভ স্ট্রেস কমাতে সাহায্য করে। তাই এখন কেবল ক্যালোরি মেপে খাওয়া নয়, খাদ্যের গুণমানের উপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়৷ কআরণ বিপাকক্রিয়া সমস্যার কারণে যা যা রোগ হয় সেগুলো শুধু ওজন বেশি থাকা লোকদের হয় এমন নয়৷ 


 প্রদাহ কমাতে কী কী খাবেন? 

 প্রোটিন সমৃদ্ধ খাবার: মসুর ডাল, মটরশুটি, ডিম, দুগ্ধজাত পণ্য, বাদাম। এগুলি রক্তে শর্করার স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে সহায়তা করে। পরিশোধিত কার্বোহাইড্রেট যেমন ময়দা, চিনিযুক্ত মিষ্টি এবং মিষ্টি পানীয় দিয়ে তৈরি খাবার খাওয়া কম করতে হবে৷

শাকসবজি, ফলমূল, গোটা শস্য এই জাতীয় ফাইবার সমৃদ্ধ খাবার খেতে হবে৷ 

 নিয়মিত শরীরচর্চা করা আবশ্যক। এমনকি প্রতিদিন হাঁটাও ভাল৷ 
কম ঘুম হলে এবং দীর্ঘস্থায়ী মানসিক চাপ হলে  প্রদাহজনক হরমোন বৃদ্ধি করতে পারে এবং বিপাকীয় ভারসাম্যহীনতা দেখা দেয়৷ 

 শুধুমাত্র ওজন কমানোর উপর মনোযোগ দেওয়ার পরিবর্তে, বিপাক ভারসাম্য বজায় রাখার জন্য সামগ্রিক জীবনযাত্রায় বদল আনা দরকার৷