মধ্য প্রাচ্যে সংঘাত থামার বিন্দুমাত্র নামগন্ধ নেই। বরং সম্প্রতি ভারত মহাসাগরে ইরানের সাবমেরিনকে ধ্বংস করা হয়েছে। আমেরিকা এবং ইজরায়েল যৌথ ভাবে ইরান এবং তেহরানে হামলা চালাচ্ছে। ইরানও পাল্টা হামলা করছে। এমন অবস্থায় কি পরমাণু সংঘাত বা যুদ্ধের কোনও সম্ভাবনা রয়েছে, কী বলছে বাবা ভাঙ্গার ভবিষ্যদ্বাণী? 

এদিকে যখন ইরান ইজরায়েলের সংঘাত চরমে তখন বাবা ভাঙ্গার ভবিষ্যদ্বাণী নিয়ে চর্চাও তুঙ্গে। তাঁকে বালকানের নস্ট্রাদামুস বলা হয়ে থাকে। আর তিনিই বলে গিয়েছেন ২০২৬ সালে তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধ শুরু হতে পারে। 

তবে বাবা ভাঙ্গা এও বলেছেন ২০২৬ সাল মানবজাতির জন্য একটা বড় ধাক্কা হবে। তুমুল ক্ষয় ক্ষতি হবে, কিন্তু মানব সভ্যতা শেষ হবে না। ৫০৭৯ সাল পর্যন্ত টিকে যাবে পৃথিবী। 

বর্তমানে যেভাবে মধ্য প্রাচ্যে উত্তেজনা, সংঘাত বাড়ছে তাতে বাবা ভাঙ্গার ভবিষ্যদ্বাণী সত্য হতেই দেখছেন অনেকে। ২০২৬ সাল নিয়ে বাবা ভাঙ্গা বলে গিয়েছেন ২০২৬ সালে ইউরোপে যুদ্ধ লাগবে, এবং তার প্রভাব এতটাই ভয়ঙ্কর হবে যা গোটা মহাদেশকে তছনছ করে দেবে। এই ঘটনার পর রাশিয়া বিশ্বের সবথেকে বড় ক্ষমতা হিসেবে নিজেকে প্রমাণ করবে। কিছু সংস্করণে বলা হয়, এই সংঘাতের পর ইউরোপ অর্থনৈতিক ও সামাজিকভাবে দুর্বল হয়ে পড়বে, আর রাশিয়া তুলনামূলকভাবে শক্তিশালী অবস্থানে উঠে আসবে, ফলে বিশ্বশক্তির ভারসাম্যে বড় পরিবর্তন ঘটবে।

একই সঙ্গে তিনি এই বছর পরমাণু যুদ্ধ থেকে অহরহ ভূমিকম্প, সুনামির মতো ঘটন ঘটবে।

২০২৬ সালের শুরুতে নাকি শুরু হবে এক “মহাযুদ্ধ”, যা পূর্ব দিক থেকে শুরু হয়ে পশ্চিমে ছড়িয়ে পড়বে। যদিও এই দাবি নিয়ে তীব্র বিতর্ক রয়েছে, তবু অনিশ্চয়তার সময়ে এমন ভবিষ্যদ্বাণী ঘিরে আগ্রহ বাড়ছে।
১৯১১ সালে জন্মগ্রহণকারী বাবা ভাঙ্গা ছোটবেলায় এক দুর্ঘটনায় দৃষ্টিশক্তি হারান। পরবর্তীতে তিনি দাবি করেন, অন্ধ হওয়ার পরই তিনি অলৌকিক দর্শনশক্তি লাভ করেন। তাঁর অনুসারীরা দাবি করেন, তিনি নাকি বহু বড় আন্তর্জাতিক ঘটনার পূর্বাভাস দিয়েছিলেন—যেমন ৯/১১ হামলা বা উগ্রপন্থী গোষ্ঠীর উত্থান। তবে ইতিহাসবিদ ও গবেষকদের মতে, এসব দাবির বেশিরভাগই পরবর্তীকালে তাঁর নামে যুক্ত করা হয়েছে। তাঁর নিজের লেখা বা নথিভুক্ত কোনও নির্ভরযোগ্য দলিল নেই, যেখানে এসব ভবিষ্যদ্বাণী স্পষ্টভাবে উল্লেখ রয়েছে। ফলে অনেকেই এগুলোকে গুজব বা লোকমুখে প্রচলিত কাহিনি বলে মনে করেন। বিশ্বজুড়ে উত্তেজনা বা যুদ্ধের আশঙ্কা বাড়লেই সামাজিক মাধ্যমে বাবা ভাঙ্গার নাম ট্রেন্ড করতে দেখা যায়। বিশেষ করে এক্স ও ইনস্টাগ্রামের মতো প্ল্যাটফর্মে তাঁর কথিত ভবিষ্যদ্বাণী ঘুরে বেড়ায়। বিশেষজ্ঞদের মতে, অনিশ্চয়তার সময় মানুষ স্বাভাবিকভাবেই ভবিষ্যৎ সম্পর্কে নিশ্চিত কোনও ব্যাখ্যা খোঁজে। ভয় ও অস্থিরতার মুহূর্তে রহস্যবাদ বা ভবিষ্যদ্বাণী অনেকের কাছে মানসিক আশ্রয় তৈরি করে।

মনোবিজ্ঞানীরা বলেন, অজানা ভবিষ্যতের ভয় মানুষকে এমন কাহিনির দিকে টানে, যা ঘটনাগুলিকে কোনও পূর্বনির্ধারিত পরিকল্পনার অংশ হিসেবে উপস্থাপন করে। এতে এক ধরনের নিয়ন্ত্রণবোধ তৈরি হয়—যদিও বাস্তবে তার প্রমাণ নাও থাকতে পারে।