কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই এখন বিশ্বজুড়ে সবচেয়ে আলোচিত প্রযুক্তি। বর্তমানে জুতো সেলাই থেকে চণ্ডীপাঠ, সবেতেই এআই-এর দখলদারি। ঠিক এই সময়েই সমাজমাধ্যমে ফের ভাইরাল হয়েছে বিখ্যাত ভবিষ্যদ্বক্তা বাবা ভাঙ্গার একটি ভবিষ্যদ্বাণী। যেখানে দাবি করা হয়েছে,, বাবা ভাঙ্গা নাকি বহু বছর আগে ২০২৬ সাল নিয়ে সতর্কবার্তা দিয়েছিলেন, বিশেষ করে প্রযুক্তি ও চাকরির বাজারে বড় পরিবর্তনের কথা আগাম জানিয়েছিলেন তিনি। 


বাবা ভাঙ্গা ছিলেন বুলগেরিয়ার এক অন্ধ ভবিষ্যদ্বক্তা। তাঁর বহু ভবিষ্যদ্বাণী নিয়ে নানা বিতর্ক রয়েছে। কেউ কেউ মনে করেন তাঁর কিছু ভবিষ্যদ্বাণী মিলে গিয়েছে,  আবার অনেকে বলেন এগুলোর পক্ষে স্পষ্ট প্রমাণ নেই। তবুও তাঁর নাম উঠলেই তা দ্রুত ভাইরাল হয়ে যায়।


এবার যে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে, তা হল এআই বা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার প্রভাব। সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়া পোস্টগুলোতে বলা হচ্ছে, ২০২৬ সালের মধ্যে এআই এতটাই উন্নত হয়ে উঠবে যে বহু মানুষের চাকরি ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে। বিশেষ করে প্রযুক্তি সংস্থা, সফটওয়্যার ডেভেলপমেন্ট, ডেটা এন্ট্রি, কনটেন্ট তৈরি এবং কাস্টমার সার্ভিসের মতো ক্ষেত্রে স্বয়ংক্রিয় প্রযুক্তির ব্যবহার অনেক বেড়ে যেতে পারে।

আসলে গত কয়েক বছরে বিশ্বজুড়ে বহু বড় প্রযুক্তি সংস্থা কর্মী ছাঁটাই করেছে। কারণ হিসেবে বলা হয়েছে খরচ কমানো, অটোমেশন বাড়ানো এবং এআই ব্যবহারের প্রসার। অনেক কাজ এখন কম্পিউটার প্রোগ্রাম বা সফটওয়্যার দিয়েই দ্রুত ও কম খরচে করা সম্ভব হচ্ছে। তাই স্বাভাবিকভাবেই চাকরি নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে।


তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, শুধু ভয় পেলেই হবে না। প্রযুক্তি বদলালে কাজের ধরনও বদলায়। যেমন আগের দিনে অনেক কাজ হাত দিয়ে করা হত, এখন তা মেশিনে হয়। তেমনি এআই পুরনো কিছু কাজ কমালেও নতুন ধরনের কাজের সুযোগ তৈরি করবে। এআই পরিচালনা, ডেটা বিশ্লেষণ, সাইবার নিরাপত্তা, মেশিন লার্নিং-এসব ক্ষেত্রে ভবিষ্যতে দক্ষ লোকের চাহিদা বাড়বে।


বিশেষজ্ঞদের মতে, সময়ের সঙ্গে তাল মিলিয়ে নতুন দক্ষতা শেখা জরুরি। প্রযুক্তিকে ভয় না পেয়ে তাকে কাজে লাগানোই শ্রেয়। তবে ২০২৬ নিয়ে ভাইরাল হওয়া এই ভবিষ্যদ্বাণীর সত্যতা প্রমাণিত না হলেও একটি বিষয় পরিষ্কার, এআই আগামী দিনে কর্মক্ষেত্রে বড় পরিবর্তন আনতে চলেছে। তাই এখন থেকে প্রস্তুত থাকা ভাল।