আজকাল ওয়েবডেস্ক: এটিএম পিন সাধারণত চারটি সংখ্যার হয়। কিন্তু আপনি কি কখনও ভেবে দেখেছেন কেন? এই সাধারণ চারটি সংখ্যা বেছে নেওয়ার নেপথ্যে রয়েছে সুবিধা, নিরাপত্তা এবং এমন একটি সিদ্ধান্ত যা লক্ষ লক্ষ মানুষের টাকা তোলার পদ্ধতিকে রূপ দিয়েছে।
এটিএম আবিষ্কারের কৃতিত্ব স্কটল্যান্ডের জন শেফার্ড-ব্যারনের। তিনি ১৯৬৭ সালের ২৭ জুন লন্ডনের একটি বার্কলেস ব্যাঙ্কে বিশ্বের প্রথম এটিএম স্থাপন করেন। প্রাথমিকভাবে, শেফার্ড টাকা তোলার জন্য একটি ৬-সংখ্যার পিন ব্যবহার করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তিনি ভেবেছিলেন এই ব্যবস্থা আরও বেশি নিরাপদ হবে। শেফার্ড প্রথমে তাঁর ৬-সংখ্যার পিন ব্যবস্থাটি তাঁর স্ত্রী ক্যারোলিনের উপর পরীক্ষা করেন। কিন্তু ক্যারোলিনের পক্ষে ছ’টি সংখ্যা মনে রাখাই কঠিন ছিল।
ক্যারোলিন তাঁকে বলেছিলেন, “আমি কেবল চারটি সংখ্যাই সহজে মনে রাখতে পারি, এর বেশি হলে ভুলে যাই।” স্ত্রীর এই বাস্তবসম্মত মতামত গ্রহণ করে, তিনি পিনটি ছয় থেকে চার সংখ্যায় কমিয়ে আনেন। তিনি বুঝতে পেরেছিলেন যে এটি সাধারণ মানুষের জন্যও সহজ হবে, এবং এটি শীঘ্রই বিশ্বব্যাপী আদর্শ মান হয়ে ওঠে।
এই সিদ্ধান্তের আসলে একটি বৈজ্ঞানিক ভিত্তি রয়েছে। মনোবিজ্ঞানী জর্জ এ. মিলারের স্বল্পমেয়াদী স্মৃতির উপর করা গবেষণা অনুসারে, একজন সাধারণ মানুষ একবারে মাত্র ৫ থেকে ৯টি তথ্য মনে রাখতে পারে। একটি ৪-অঙ্কের সংখ্যা এই সীমার মধ্যে পুরোপুরি খাপ খায়, যা মানুষকে ডায়েরিতে বা কাগজে লিখে রাখার পরিবর্তে এটি মুখস্থ করতে সাহায্য করে। নিরাপত্তাজনিত ঝুঁকিটি এড়ানোর জন্যই এই সহজ পদ্ধতিটি গ্রহণ করা হয়েছিল।
একটি ৪-সংখ্যার পিনের ক্ষেত্রে ০০০০ থেকে ৯৯৯৯ পর্যন্ত ১০,০০০টি সম্ভাব্য নম্বরের মিশ্রণ তৈরি করা যায়। এর মানে হল, কোনও চোর যদি আপনার পিন অনুমান করার চেষ্টা করে, তবে তার সফল হওয়ার সম্ভাবনা ১০,০০০-এ মাত্র ১।
এছাড়াও, আধুনিক ব্যাঙ্কগুলি তিনটি ভুল পিন নম্বর এন্ট্রির পর কার্ডটি ব্লক করে দেয়। যা যে কোনও আক্রমণকে থামিয়ে দেয়। তাই, নিরাপত্তা এবং সুবিধার মধ্যে নিখুঁত ভারসাম্য হিসেবে চার-সংখ্যার পিনকে দেখা হয়।
প্রযুক্তির অগ্রগতির সঙ্গে সঙ্গে কিছু আন্তর্জাতিক ব্যাঙ্ক অতিরিক্ত নিরাপত্তার জন্য ৬-সংখ্যার পিন বাধ্যতামূলক করেছে। তবে, ক্যারোলিনের সহজ পরামর্শ থেকে জন্ম নেওয়া ৪-সংখ্যার পদ্ধতিটিই এখনও বেশিরভাগ দেশে এটিএম জগতে রাজত্ব করছে।















