আর্জেন্টিনার এক ১২৮ বছর বয়সি বৃদ্ধের দাবি ঘিরে বিশ্বজুড়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। ওই বৃদ্ধ দাবি করেছেন, তিনি আসলে নাৎসি নেতা আডলফ হিটলার। তাঁর কথায়, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের শেষে তিনি ইউরোপ থেকে পালিয়ে যান এবং তারপর বহু বছর ধরে দক্ষিণ আমেরিকায় লুকিয়ে জীবন কাটান, যাতে কেউ তাঁকে ধরতে না পারে।


বৃদ্ধের এই বিস্ময়কর দাবি সামনে আসতেই তা দ্রুত সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়ে যায়। অনেকেই অবাক হয়ে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা শুরু করেন। কারণ এই ধরনের গুজব আগেও শোনা গিয়েছে। দীর্ঘদিন ধরেই একটি ধারণা রয়েছে যে, হিটলার নাকি ১৯৪৫ সালে মারা যাননি, বরং পালিয়ে গিয়ে আর্জেন্টিনা বা আশপাশের কোনও দেশে আত্মগোপনে ছিলেন। তাই নতুন এই দাবি পুরনো সেই জল্পনাকেই আবার উস্কে দিয়েছে।

তবে বিশেষজ্ঞ এবং ইতিহাসবিদরা স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, এই দাবির কোনও ভিত্তি নেই। তাঁদের মতে, ইতিহাসের নির্ভরযোগ্য তথ্য অনুযায়ী হিটলার ১৯৪৫ সালের এপ্রিল মাসে জার্মানির বার্লিনে আত্মহত্যা করেন। সেই সময়কার প্রত্যক্ষদর্শীদের বয়ান, সরকারি নথি এবং পরবর্তী তদন্ত সবই এই তথ্যকে সমর্থন করে।
এছাড়া, ওই বৃদ্ধের পরিচয় বা তাঁর দাবির পক্ষে কোনও প্রমাণ এখনও সামনে আসেনি। তাঁর বয়স নিয়েও প্রশ্ন উঠছে, কারণ ১২৮ বছর বয়স হওয়া অত্যন্ত বিরল। বিশেষজ্ঞদের মতে, এত দীর্ঘ সময় ধরে নিজের পরিচয় গোপন রাখা প্রায় অসম্ভব।

সমাজবিজ্ঞানীরা বলছেন, ইতিহাসের বড় ঘটনা এবং বিতর্কিত ব্যক্তিত্বদের নিয়ে মানুষের আগ্রহ সবসময়ই বেশি থাকে। বিশেষ করে হিটলারের মতো একজন ব্যক্তিকে ঘিরে নানা রহস্য ও গুজব বহুদিন ধরেই রয়েছে। সোশ্যাল মিডিয়ার যুগে এই ধরনের দাবি খুব দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে এবং অনেক সময় যাচাই না করেই তা বিশ্বাস করা হয়।

সবমিলিয়ে, আর্জেন্টিনার এই বৃদ্ধের দাবি যতই চমকপ্রদ হোক না কেন, এর পক্ষে কোনও বিশ্বাসযোগ্য প্রমাণ পাওয়া যায়নি। ইতিহাসবিদদের মতে, হিটলারের মৃত্যু নিয়ে কোনও সংশয় নেই। তাই এই ঘটনাকে গুজব হিসেবেই দেখা উচিত, সত্যি নয়।